মাইলের পর মাইল বিস্তৃত ঘন জঙ্গল। সূর্য ঢলে গেলে তা জনপ্রাণীর প্রবেশের অসাধ্য। কেন? কারণ নিশ্ছিদ্র ঝোপের কোনও এক আনাচকানাচে লুকিয়ে রয়েছে ভয়ংকর সুন্দর— রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার! আর জঙ্গলের ভিতরেই অবস্থিত এক প্রাচীন মন্দির (Jyotirlinga Temple)। শুনলে গায়ে কাঁটা দিয়ে ওঠে যেন। তবুও কি পর্যটকরা যায় না এখানে? বিলক্ষণ যায়! কীভাবে যাওয়া যায়, কী কী দেখতে মেলে, জেনে নেওয়া যাক বিশদে।
আরও পড়ুন:

ভারতে ১২টি পবিত্র জ্যোতির্লিঙ্গ মন্দিরের অন্যতম, অন্ধ্রপ্রদেশের শ্রীশৈলমে অবস্থিত মল্লিকার্জুন জ্যোতির্লিঙ্গ। ১২টির মধ্যে মাত্র এই একটি জ্যোতির্লিঙ্গ মন্দিরই ব্যাঘ্র প্রকল্পের ভিতরে অবস্থিত। ভারতের বৃহত্তম ব্যাঘ্র প্রকল্পের নাম ‘নাগার্জুনসাগর-শ্রীশৈলম ব্যাঘ্র প্রকল্প’, নাল্লামালা পাহাড়ঘেঁষা জঙ্গল জুড়ে তার অবস্থান। প্রায় ৩,২৯৬.৩১ বর্গ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে বিস্তৃত এই জঙ্গল সারা বিশ্বের বন্যপ্রাণীপ্রেমীদের আকর্ষণ করে।
এই মন্দিরটি ভগবান মল্লিকার্জুন (শিবের একটি রূপ) এবং দেবী ভ্রমরাম্বার উদ্দেশ্যে উৎসর্গীকৃত। এখানে একই সঙ্গে অবস্থান করে জ্যোতির্লিঙ্গ এবং শক্তিপীঠ। এই মন্দিরে যেতে গেলে পেরোতে হয় আঁকাবাঁকা বনের রাস্তা, গভীর উপত্যকা ও পাহাড়ি পথ। বেঙ্গল টাইগার ছাড়াও জঙ্গলে রয়েছে চিতাবাঘ, ঢোল (বুনো কুকুর), সম্বর হরিণ এবং শত শত প্রজাতির পাখি।
ভগবান শিবের উদ্দেশ্যে উৎসর্গীকৃত ১২টি জ্যোতির্লিঙ্গের মধ্যে মল্লিকার্জুন দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে। পৌরাণিক কাহিনী অনুসারে, পারিবারিক বিবাদের পর কার্তিককে সান্ত্বনা দিতে শিব-পার্বতী এখানে আবির্ভূত হয়েছিলেন। এই মন্দির ঘিরে আজও জড় হয় অগণিত পুণ্যার্থী, বিশেষত মহা শিবরাত্রি ও ব্রহ্মোৎসবমের সময়। প্রাচীন গ্রন্থে শ্রীশৈলমকে মোক্ষলাভের স্থান হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। মন্দিরটি দ্রাবিড় শিল্পকলার একটি নিখুঁত উদাহরণ। উঁচু গোপুরাম (প্রবেশদ্বার) এবং সূক্ষ্ম খোদাই করা মণ্ডপ এই মন্দিরের প্রধান আকর্ষণ।
কখন যাবেন?
মল্লিকার্জুন জ্যোতির্লিঙ্গ দর্শনের সেরা সময় অক্টোবর থেকে মার্চ। এই সময়ে আবহাওয়া মনোরম থাকে।
কীভাবে পৌঁছাবেন?
• হায়দরাবাদের রাজীব গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর শ্রীশৈলম থেকে প্রায় ২১৫–২২০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। সেখান থেকে ট্যাক্সি, বাস এবং ক্যাব সহজেই পাওয়া যায়।
• নিকটবর্তী রেলওয়ে স্টেশন মারকাপুর রোড (৮৫ কিলোমিটার)। এছাড়া হায়দরাবাদ ও কুর্নুল স্টেশন থেকেও এখানে আসা যায়।
• হায়দরাবাদ, বিজয়ওয়াড়া, কুর্নুল, গুন্টুর এবং অন্যান্য প্রধান শহর থেকে নিয়মিত সরকারি ও বেসরকারি বাস চলাচল করে।

এখানে এলে দর্শনার্থীরা ঘুরে দেখতে পারেন স্থানীয় আকর্ষণগুলি। যার মধ্যে রয়েছে— শ্রীশৈলম বাঁধ, আক্কামহাদেবী গুহা, সাক্ষী গণপতি মন্দির, শিখরেশ্বরম ভিউ পয়েন্ট প্রভৃতি।
এক অনন্য অভিজ্ঞতার সাক্ষী হতে হয় মল্লিকার্জুন জ্যোতির্লিঙ্গ মন্দিরে। বনের মাঝে মন্দিরের ঘণ্টাধ্বনি অবর্ণনীয় পরিবেশের সৃষ্টি করে, হৃদয়ে অনুভব করা যায় এক অদ্ভুত আধ্যাত্মিক শক্তি।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
সিগনাল ভাঙলেই এআইয়ের সাহায্যে কড়া ব্যবস্থা, হুঁশিয়ারি মন্ত্রী অর্জুনের
-
মায়ের মন! খিদের জ্বালায় কাঁদছে ১৭ দিনের শিশু, বুকে নিয়ে স্তন্যপান করালেন মন্ত্রী, ভিডিও ভাইরাল
-
জেন জি-র সঙ্গে দূরত্ব কমাতে বিশেষ উদ্যোগ, কী করছে মোদি সরকার?
-
আরএসএসের বৈঠকে জেন জি নিয়ে কথা, প্রথমবার নীতিন নবীনের উপস্থিতি নিয়ে জোর চর্চা
-
সেবাশ্রয়ের নামে একাধিক দুর্নীতি! আরও বিপাকে অভিষেক, ৩ চিকিৎসককে জেরা পুলিশের