New Trekking Rules

সামনেই ট্রেকিংয়ের প্ল্যান? পাহাড় পথে এবার মানতে হবে একগুচ্ছ নয়া নিয়ম, জানাল সরকার

পর্যটকদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে এবার নড়েচড়ে বসল কর্নাটক প্রশাসন। জারি হল কড়া গাইডলাইন বা ‘এসওপি’। ব্যাগ গোছানোর আগেই এই নতুন নিয়মগুলো জেনে রাখুন।

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: এপ্রিল ২০, ২০২৬, ১৭:৫৮

options
link
সামনেই ট্রেকিংয়ের প্ল্যান? পাহাড় পথে এবার মানতে হবে একগুচ্ছ নয়া নিয়ম, জানাল সরকার
কর্নাটকে চালু হল ট্রেকিংয়ে একগুচ্ছ নয়া নিয়ম।

কুয়াশাঘেরা পশ্চিমঘাট পর্বতমালা। পাহাড়ি চড়াই-উতরাইয়ের পরতে পরতে রোমাঞ্চ। কর্নাটকের অরণ্যপথ মানেই অ্যাডভেঞ্চার। ভ্রমণকারীদের প্রথম পছন্দ। তবে সাম্প্রতিক কিছু দুর্ঘটনা কপালে ভাঁজ ফেলেছিল বন দপ্তরের। পথ হারিয়ে মাঝেমধ্যেই নিখোঁজ হচ্ছিলেন ট্রেকাররা। পর্যটকদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে এবার নড়েচড়ে বসল প্রশাসন। জারি হল কড়া গাইডলাইন বা ‘এসওপি’।

Advertisement
New trekking rules in Karnataka
ফাইল ছবি

১) গাইড ছাড়া প্রবেশ নিষেধ: অরণ্যপথে রোমাঞ্চ খুঁজতে গিয়ে আর বিপদে পড়তে হবে না। কর্নাটক বন দপ্তরের নতুন নিয়ম অনুযায়ী, স্বীকৃত গাইড ছাড়া কোনও ট্রেকার জঙ্গলে ঢুকতে পারবেন না। এমনকী আপনি একা গেলেও আপনাকে একজন প্রশিক্ষিত গাইড দেওয়া হবে। প্রতি ১০ জন ট্রেকারের জন্য একজন করে গাইড থাকা বাধ্যতামূলক। দলের প্রত্যেকে একসাথে থাকছেন কি না, সেই দায়িত্ব থাকবে গাইডের ওপরেই।

Advertisement

২) অনলাইনে বুকিং ও সংখ্যা নিয়ন্ত্রণ: এখন থেকে যেকোনও ট্রেকিং ট্রেইলে যাওয়ার আগে অনলাইন রেজিস্ট্রেশন করতে হবে। পারমিট ছাড়া প্রবেশাধিকার মিলবে না। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় প্রতিটি পথে দৈনিক সর্বোচ্চ ১৫০ জন পর্যটককে অনুমতি দেওয়া হবে। এর ফলে ভিড় নিয়ন্ত্রণ করা সহজ হবে। পরিবেশও থাকবে দূষণমুক্ত।

Advertisement

৩) নজরদারিতে আধুনিক প্রযুক্তি: নিরাপত্তার স্বার্থে প্রযুক্তির ব্যবহারে জোর দিচ্ছে কর্নাটক সরকার।

৪) ট্র্যাকিং অ্যাপ: ট্রেকারদের ফোনে একটি বিশেষ অ্যাপ ইনস্টল করতে হবে। এর মাধ্যমে বেস ক্যাম্প থেকে সরাসরি পর্যটকের গতিবিধির ওপর নজর রাখা যাবে।

৫) ওয়াকি-টকি: গাইডদের কাছে থাকবে জিপিএস সমৃদ্ধ ওয়াকি-টকি। প্রতি নির্দিষ্ট সময় অন্তর তারা কন্ট্রোল রুমে খবর দেবেন।

৬) ড্রোনের ব্যবহার: কোনও পর্যটক পথ হারালে বা দুর্ঘটনা ঘটলে দ্রুত উদ্ধারের জন্য থার্মাল ক্যামেরা এবং ড্রোন ব্যবহার করা হবে।

৭) পরিকাঠামোয় বদল: বিপজ্জনক পাহাড়ি ঢাল বা খাড়া বাঁকে এবার থাকবে সতর্কবার্তা। ট্রেইলগুলোতে নির্দিষ্ট চিহ্ন দেওয়া থাকবে যাতে কেউ পথ না হারান। এছাড়া বেস ক্যাম্পে শৌচাগার ও পানীয় জলের মতো প্রাথমিক সুযোগ-সুবিধার ব্যবস্থাও করা হচ্ছে।

সম্প্রতি তাদিয়ানডামোলের মতো জনপ্রিয় ট্রেকিং স্পটে পর্যটকদের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় এই কড়া পদক্ষেপ। এতে হয়তো রোমাঞ্চে কিছুটা রাশ পড়বে, কিন্তু পর্যটকদের প্রাণরক্ষা এবং পাহাড়ের পরিবেশ রক্ষায় এই সিদ্ধান্ত অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। তাই ব্যাগ গোছানোর আগে কর্নাটকের এই নতুন নিয়মগুলো জেনে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ হবে।

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.