dumas beach

সন্ধের পর শোনা যায় কাদের ফিসফাস, দেশের এই ‘কালো’ সৈকতে রাতে যান না কোনও পর্যটক!

স্থানীয়রা বলেন, বহুকাল আগে হিন্দু শ্মশান ছিল সমুদ্রসৈকত সংলগ্ন এলাকায়। মৃতদেহ-পোড়া ছাই মিশে মিশে বালি করে তুলেছে কালো।

Advertisement ad
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: এপ্রিল ২৯, ২০২৬, ২১:৪৯

options
link
সন্ধের পর শোনা যায় কাদের ফিসফাস, দেশের এই ‘কালো’ সৈকতে রাতে যান না কোনও পর্যটক! zoom
সন্ধে নামলে নাকি হাওয়ায় কাদের ফিসফিসানি শোনা যায়!

ধরা যাক, সঙ্গীর হাতে হাত রেখে হাঁটছেন সমুদ্রসৈকতে। দিন গড়িয়ে সন্ধে নেমেছে। সমুদ্রসৈকত খানিক আলাদা সাধারণের চেয়ে। এখানে বালির রং সোনালি নয়, বরং কালচে। পরিবেশও অস্বস্তিকর রকমের শান্ত। হঠাৎই কানে এল, একাধিক কুকুরের ডাক। চমকে দেখলেন, দু-তিনটে কুকুর একযোগে ডেকে চলেছে। কিন্তু যেদিকে তাকিয়ে, সেখানে শূন্যতা ছাড়া কিছুই নেই! সত্যি বলুন, ভয় পাবেন না?

dumas beach gujrat most haunted sea beach in india
অপার্থিব সৌন্দর্য সত্ত্বেও ভারতের সবচাইতে হন্টেড এলাকাগুলির তালিকায় স্থান দেওয়া হয় এই সমুদ্রসৈকতকে

গা ছমছমে সিনেমার প্লট নয়। এমনটা সত্যিই হতে পারে, যদি রাত নামার পরেও রয়ে যান গুজরাটের এই বিশেষ সমুদ্রসৈকতে। সুরাট শহর থেকেও সরে আসতে হয় ২০ কিমি। দেখা মেলে, কালো বালিতে ঢাকা বিস্তীর্ণ চরাচরের। তবে অন্যান্য জনপ্রিয় সি-বিচের তুলনায় এই ডুমাস বিচের (dumas beach) পরিবেশ খানিক আলাদা। এখানে পর্যটকের ভিড় দেখা যায় না। সমুদ্রের জল যখন রহস্যময় কালো বালি পেরিয়ে এসে ছুঁয়ে যায় পা, তখন অদ্ভুত রোমাঞ্চ জাগে বুকের ভিতর। যেন কোনও নিষিদ্ধ অনুভূতির শরিক হওয়ার অনুভব জাগে।

বিজ্ঞানীরা বিভিন্ন সময় জানিয়েছেন বালিতে উপস্থিত নির্দিষ্ট প্রাকৃতিক খনিজের কথা, যা এর রং কালচে করে তুলেছে। তবে বালির রঙের কারণেই হোক, অথবা এখানকার জনহীনতার কারণে— ডুমাস বিচ প্রসঙ্গে শোনা যায় নানা লোককাহিনি। স্থানীয়রা বলেন, বহুকাল আগে হিন্দু শ্মশান ছিল সংলগ্ন এলাকায়। মৃতদেহ-পোড়া ছাই মিশে মিশে বালি করে তুলেছে কালো।

dumas beach gujrat most haunted sea beach in india
বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন বালিতে উপস্থিত খনিজের কথা, যা এর রঙ কালচে করে তুলেছে

হয়তো তাই এমন অপার্থিব সৌন্দর্য সত্ত্বেও ভারতের সবচাইতে হন্টেড এলাকাগুলির তালিকায় বিশেষ স্থান দেওয়া হয় এই সমুদ্রসৈকতকে। কেউ বলেন, সন্ধে নামলে হাওয়ায় কাদের ফিসফিসানি শোনা যায়! চোখে দেখা যাচ্ছে না, তবু আরও অনেকেই রয়েছেন এখানে, এমন অনুভবও করেছেন বহু পর্যটক। তাছাড়া মাঝেমধ্যে কুকুরের দল কেন শূন্যপানে চেয়ে চিৎকার করে, তারও কোনও বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা মেলেনি।

ভূতুড়ে হোক বা না হোক, সন্ধের পরেই প্রায় জনশূন্য হয়ে যায় এলাকাটি। তাই এখানে ঘুরতে গেলে, উপভোগের পাশাপাশি নিরাপত্তা বিষয়ে সচেতন হওয়া অত্যন্ত জরুরি। তবে ভয়কে জয় করা যায় যদি, তবে প্রাণ ভরে আস্বাদ নেওয়া যায় এই নৈসর্গিক সৌন্দর্যের।

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন