সামনেই স্বাধীনতা দিবস। হাতে কয়েক দিনের ছুটি মিললেই মন উড়ুউড়ু। কিন্তু কোথায় যাবেন? উত্তরটা কিন্তু লুকিয়ে আছে দেশের হাজার বছরের সমৃদ্ধ ইতিহাসে। সাম্প্রতিককালে উত্তরপ্রদেশের ঐতিহ্যবাহী সারনাথ ভারতের ৪৫তম ইউনেস্কো ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইটের স্বীকৃতি পেয়েছে। খ্রিস্টপূর্ব ষষ্ঠ শতকে এই পুণ্যভূমিতেই ভগবান বুদ্ধ তাঁর প্রথম ধর্মোপদেশ বা ‘ধম্মচাক্কপবত্তন সুত্ত’ প্রদান করেছিলেন। ধমেখ স্তূপ, প্রাচীন বৌদ্ধ বিহার আর ইতিহাসের মৌন উপস্থিতি আজও সেখানে ইতিহাসপ্রেমীদের অবাক করে। দেশের আনাচেকানাচে ছড়িয়ে থাকা এমন ঐতিহাসিক ও প্রাকৃতিক বিস্ময়গুলি ছুঁয়ে দেখতে স্বাধীনতা দিবসের এই মাসটি হতে পারে মোক্ষম সুযোগ। ইউনেস্কোর স্বীকৃতিপ্রাপ্ত দেশের তেমনই ৫ অনন্য গন্তব্যের সন্ধান জানেন?
আরও পড়ুন:

সারনাথ
বারাণসী থেকে মাত্র ১০ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে অবস্থিত সারনাথের হরিণ উদ্যান বা মৃগদাব। এটি বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান তীর্থক্ষেত্র। ধূপের সুবাস, স্তূপের ছায়া আর প্রত্নতাত্ত্বিক ধ্বংসাবশেষের মধ্যে হাঁটলে প্রাচীন ভারতের আধ্যাত্মিকতায় ডুব দেওয়া যায়। স্বাধীনতা দিবসে নিজ দেশের মাটিকে আরও নিবিড় করে জানতে হলে এই স্থানটি বেছে নিন।

কোণার্কের সূর্য মন্দির
ওড়িশার বঙ্গোপসাগরের কোল ঘেঁষে দাঁড়িয়ে রয়েছে ত্রয়োদশ শতাব্দীর এক স্থাপত্য বিস্ময়। ১২৫০ খ্রিস্টাব্দ নাগাদ রাজা প্রথম নরসিংহদেব দ্বারা নির্মিত এই মন্দিরটি মূলত একটি সুবিশাল পাথরের রথ। ইউনেস্কোর ১৯৮৪ সালের এই বিশ্ব ঐতিহ্যস্থলটি তার সূক্ষ্ম খোদাইকর্ম ও অপার্থিব নান্দনিকতার জন্য বিশ্বখ্যাত।

সুন্দরবন জাতীয় উদ্যান
ঘরের কাছে রোমাঞ্চ চাইলে পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের মোহনায় বিস্তৃত সুন্দরবনের বিকল্প নেই। ১৯৮৭ সালে ওয়ার্ল্ড হেরিটেজের তকমা পাওয়া এই জোয়ার-ভাটার দেশ বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ অরণ্য। খাঁড়ি, রহস্যময় জঙ্গল আর রয়্যাল বেঙ্গল টাইগারের উপস্থিতি আপনাকে এক অন্য রোমাঞ্চ দেবে।

নন্দাদেবী ও ভ্যালি অফ ফ্লাওয়ার্স
উত্তরাখণ্ডের উচ্চ হিমালয়ে অবস্থিত এই প্রাকৃতিক বিশ্ব ঐতিহ্য। একপাশে ভারতের দ্বিতীয় উচ্চতম শৃঙ্গ নন্দাদেবীর রুক্ষ, বরফাবৃত বন্য সৌন্দর্য। অন্যদিকে হরেক রঙের পাহাড়ি ফুলে ছেয়ে থাকা ‘ভ্যালি অফ ফ্লাওয়ার্স’। প্রকৃতির এই বৈপরীত্য পর্যটকদের মন্ত্রমুগ্ধ করে রাখে।

কাজিরাঙা জাতীয় উদ্যান
আসামের গোলঘাট, নগাঁও ও শোণিতপুর জেলা জুড়ে বিস্তৃত কাজিরাঙা। ১৯৮৫ সালে ইউনেস্কোর তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হওয়া এই জাতীয় উদ্যান বিশ্বের সর্বাধিক একশৃঙ্গ গণ্ডারের বাসস্থান। ৪৩০ বর্গকিলোমিটার বিস্তৃত এই সবুজ পলিমাটির প্রান্তর বন্যপ্রাণী ও প্রকৃতিপ্রেমীদের জন্য এক স্বর্গরাজ্য।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
মমতার তিরস্কার, শুভেন্দুর পুরস্কার! দময়ন্তী সেন-সহ ৬ আইপিএসকে স্বাধীনতা দিবসে সম্মান মুখ্যমন্ত্রীর
-
কলকাতা মেডিক্যালে মহিলা কর্মীর আত্মহত্যার চেষ্টা! নেপথ্যে কী কারণ?
-
কার্যালয়ে কার্তুজ, গোপন ডেরায় ইসিএলের নথি! দেড় মাস পর পুলিশের জালে বিধায়ক পুত্র ‘বাহুবলী’ প্রেমপাল
-
দিল্লির মুখ্যমন্ত্রীর বাড়িতে ‘তিজ’ উদযাপনে কাকলি-শতাব্দী-রচনারা, মেহেন্দি-সেলফিতে হুল্লোড়, শামিল কঙ্গনাও
-
অনুশীলন সমিতি থেকে হিন্দুস্তান রিপাবলিকান আর্মির সদস্য! ফিরে দেখা ঝাড়গ্রামের বিস্মৃতপ্রায় বিপ্লবীকে