সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: “ডন কা ইন্তেজার তো গ্যারা মুলকো কি পুলিশ কর রহি হ্যায়। লেকিন ডন কো পকড়না মুশকিলই নেহি, নামুমকিন হ্যায়।” ‘ডন’ সিনেমার বিখ্যাত লাইনটি পুরোপুরি খেটে যায় কুখ্যাত ডন ও মুম্বই হামলার মূল চক্রী দাউদ ইব্রাহিমের সঙ্গে। কারণ ভারত-সহ বিশ্বের বহু দেশে ‘মোস্ট ওয়ান্টেড’ সে। কিন্তু করাচিতে থাকা এহেন দোর্দণ্ডপ্রতাপ ডনও কিনা ভুগছে মানসিক অবসাদে। শুনতে অবাক লাগলেও এমনটাই হয়েছে। আর কারণ আর অন্য কিছু নয়, স্বয়ং তার ছেলে। কারণ বাবার ব্যবসায় নয়, দাউদের ছেলে মইন নাওয়াজ কাসকারের মন ধর্ম-কর্মের দিকে নিয়োজিত। জানা গিয়েছে, বাবার কালো ব্যবসায় সে বিন্দুমাত্র আগ্রহী নয়। এমনকী এই নিয়ে বেশ কয়েকবার দাউদের সঙ্গে তার বাক-বিতণ্ডাও হয়েছে।
গত বছর সেপ্টেম্বরে পুলিশের জালে ধরা পড়েছে দাউদের ছোট ভাই ইকবাল ইব্রাহিম কাসকার। তাকে জেরা করেই দাউদ সম্পর্কে নানা অজানা তথ্য মিলেছে। তাকে জেরা করেই বাবা এবং ছেলের এই ঝামেলার কথাও জানতে পেরেছেন পুলিশের আধিকারিকরা। এক আধিকারিক জানিয়েছেন, ‘দাউদের ছেলে মইন বাবার ব্যবসাকে একটুও সমর্থন করে না। কারণ এই ব্যবসার কারণেই গোটা বিশ্বে তাদের পরিবার কুখ্যাত। বিভিন্ন দেশে তারা মোস্ট ওয়ান্টেডের তালিকায় রয়েছে।’ এছাড়াও জানা গিয়েছে, নানা রকম পারিবারিক অশান্তি তো রয়েইছে, পাশাপাশি ভবিষ্যতে তার বিশাল ব্যবসা কে সামলাবে তাই নিয়েও চিন্তায় রয়েছে ডন। কারণ তার ভাইদের মধ্যে একজন পুলিশের জালে তো একজন অসুস্থ। তার নিজেরও বয়স হচ্ছে। আর পরিবারেও এমন কেউ নেই যার উপর নিজের বিপুল সাম্রাজ্যের ভার তুলে দিয়ে নিশ্চিন্তে থাকতে পারেন দাউদ। আর তাই দিন দিন আরও অবসাদে ভুগতে শুরু করেছে সে। ইকবালের কথায়, ‘গত কয়েকবছর ধরেই পারিবারিক ব্যবসা নিয়ে মাথা ঘামায়নি মইন। এমনকী সে বাবার সঙ্গে ঠিকমতো কথা বলে কিনা তাও জানা নেই।’
[হাফিজ সইদের মুক্তিতে ক্ষুব্ধ আমেরিকা, জঙ্গি নেতাকে আটক করার বার্তা]
তদন্তকারীদের ইকবাল আরও জানিয়েছে, বর্তমানে মইন একজন মৌলবি। গোটা কোরান তার মুখস্থ। এমনকী, করাচির সাদ্দার সাবার্বেরত ক্লিফটন এলাকায় অবস্থিত দাউদের বিলাসবহুল বাংলোতেও থাকে না সে। তার বদলে বাংলোর কাছে অবস্থিত একটি মসজিদে আর পাঁচটা সাধারণ মানুষের মতোই জীবনযাপন করে। সেখানেই মইনের সঙ্গে থাকে তার স্ত্রী ও তিন সন্তান। যদিও বিজনেস ম্যানেজমেন্ট নিয়ে পড়াশোনা করা মইন প্রথমদিকে বাবার ব্যবসায় সাহায্য করত। কিন্তু ধীরে ধীরে সেই রাস্তা থেকে সরে যায় সে। আল্লার ডাকে নিজেকে পুরোপুরি আধ্যাত্মিক জগতের সঙ্গে জড়িয়ে নেয়। সেখানেই সে ছোট ছোট শিশুদের কোরান এবং ইসলামের নিয়মকানুন শেখায়। এছাড়া আজান দেওয়া কিংবা বিভিন্ন অনুষ্ঠানে নামাজের আয়োজন করে। এছাড়া অন্যান্য সামাজিক কাজে নিজেকে যুক্ত করে রেখেছে।
[সন্তানকে কেড়ে নিয়েছে কসাইখানা, নাছোড় দৌড় গাভির]
ঝকঝকে সুন্দর, সুঠাম চেহারার মইন ২০১১ সালে করাচির এক ব্যবসায়ীর মেয়ে সাইনা শেখকে বিয়ে করে। সাইনাও পাকিস্তান ও ব্রিটেনে নিজের পারিবারিক ব্যবসা দেখাশোনা করত। কিন্তু পরে সবকিছু ছেড়ে বর্তমানে স্বামীর সঙ্গেই রয়েছে সে। এদিকে, ২০০৬ সালে দাউদের বড় মেয়ে মাহরুখের বিয়ে হয় জাভেদ মিয়াদাঁদের ছেলে জুনেইদের সঙ্গে। অপর মেয়ে মাহরিনের বিয়ে হয় ২০১১ সালে। এক শিল্পপতির মেয়ের সঙ্গে। একমাত্র ছেলেও এখন ধার্মিক, আর তাই বিশাল ব্যবসার মালিক হয়েও মাথায় হাত দাউদের। যদিও জিজ্ঞাসাবাদের সময় আবদুল আরও জানিয়েছে, সংবাদমাধ্যমে দাউদের শারীরিক অবস্থা নিয়ে যে সমস্ত খবর বেরিয়েছে তার পুরোটাই মিথ্যে। সম্পূর্ণ সুস্থই রয়েছে আন্ডারওয়ার্ল্ডের ‘বেতাজ বাদশা’। শুধু রয়েছে দুশ্চিন্তা।
সর্বশেষ খবর
-
ন’মাস ধরে যৌন নিগ্রহের শিকার! নাবালিকার সন্তান প্রসবের পর কু-কীর্তি ফাঁস, এন্টালিতে গ্রেপ্তার যুবক
-
দার্জিলিঙে রোপওয়ে করবে আদানিরা! শুভেন্দু সরকারের উদ্যোগে বঙ্গ পর্যটনে নতুন দিগন্ত
-
জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে একজোট বিরোধীরা, অপসারণের দাবিতে এবার সংসদের দু’কক্ষেই ইমপিচমেন্ট প্রস্তাব!
-
দুধের তৈরি না হলে বলা যাবে না ‘পনির’, ভেজালের রমরমা রুখতে কড়া নিয়মের পথে কেন্দ্র
-
পুজোয় বাঙালির পাতে পড়বে না পদ্মার ইলিশ! রুপোলি শস্য রপ্তানিতে মেলেনি ছাড়পত্র