Madhya Pradesh

‘ইয়ে দোস্তি হাম নেহি তোড়েঙ্গে’, মনিবের মৃত্যুশোকে মুহূর্তে প্রাণ হারাল ১৫ বছরের সঙ্গী পোষ্য

প্রাণীদের ভালোবাসা অনুভব করার জন্য তেমন হৃদয় দরকার। যে মানুষ একবার প্রাণীর ভালোবাসা চিনতে পেরেছে, তার কাছে বুঝি তুচ্ছ স্বর্গসুখ।

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: জুলাই ১৭, ২০২৬, ১৫:৫৪

options
link
‘ইয়ে দোস্তি হাম নেহি তোড়েঙ্গে’, মনিবের মৃত্যুশোকে মুহূর্তে প্রাণ হারাল ১৫ বছরের সঙ্গী পোষ্য
সূত্র: ইন্টারনেট

পোষ্যের প্রতি মানুষের প্রেম কি সন্তানস্নেহের সমতুল্য হতে পারে? কেউ বলবেন, মানুষের সঙ্গে মানুষের যে ভালোবাসা, স্নেহ-প্রেম-সহাবস্থান, তার জায়গা অন্য কোনও কিছুই নিতে পারে না। অন্য একাংশ অবশ্য বলবেন, প্রাণীদের ভালোবাসা অনুভব করার জন্য তেমন হৃদয় দরকার। যে মানুষ একবার প্রাণীর ভালোবাসা চিনতে পেরেছে, তার কাছে বুঝি তুচ্ছ স্বর্গসুখ।

Advertisement

‘তোড়েঙ্গে দম মগর, তেরা সাথ না ছোড়েঙ্গে’— ‘শোলে’ ছবির গানের এ কথা আক্ষরিক অর্থেই সত্যি হয়েছে মধ্যপ্রদেশের বেতুলনিবাসী প্রদীপ জৈনের ক্ষেত্রে। বিগত ১৫ বছর ধরে তাঁর ছায়াসঙ্গী হয়ে ছিল বাড়ির পোষ্য পোমেরিয়ান কুকুরটি, নাম ডুগ্গু। ২৪ ঘণ্টা মনিবের সঙ্গে সঙ্গে থাকা, তাঁর হাত থেকে খাবার খাওয়া, গা ঘেঁষে ঘুমানো, বাড়ি ফেরা মাত্রই লাফিয়ে উঠে পড়া গায়ে— গত ১৫ বছর ধরে একই রুটিনে বাঁধা পড়েছিল প্রদীপ ও ডুগ্গুর জীবন। এমনকী প্রদীপ অসুস্থ হলে ডুগ্গু খাওয়া ছেড়ে দিত। অসুস্থ হয়ে পড়ত নিজেও।

Advertisement
Betul Man and Pet Dog Die Hours Apart After 15 Years Together
জীবন মরণ পেরিয়ে প্রদীপ ও ডুগগু।

 

Advertisement

তবে ৬৭ বছর বয়সি প্রদীপ দীর্ঘদিন ধরেই এক কঠিন অসুখের সঙ্গে লড়াই করে চলেছিলেন। টানা আট দিন ভর্তি ছিলেন হাসপাতালে। ফেরার কথা ছিল চলতি সপ্তাহের রবিবার। সেইমতো ডুগ্গুও মনিবের অপেক্ষায় অধীর আগ্রহে বসে ছিল বাড়ির দোরগোড়ায়। কিন্তু সে ইচ্ছে পূর্ণ হল না। প্রদীপ পরিবারের সকলকে ছেড়ে পাড়ি দিলেন না ফেরার দেশে। সম্পত্তি সংসার ছাড়াও পিছনে ফেলে গেলেন ১৫ বছরের ছায়াসঙ্গীকে। কিন্তু সে কি বাঁচতে পারবে এমন একাকীত্বের জীবন?

প্রদীপ বাড়ি ফিরলেন বটে, তবে নিথর শরীর হয়ে। তাঁর দেহ আঁকড়ে কান্নায় ভেঙে পড়ল পরিজনেরা। ডুগ্গু দাঁড়িয়ে রইল দূরত্বে। নীরব পাথরের মতো। ঘটনার ঘনঘটা ভিতর ভিতর তাকে পিষে দিয়েছে ততক্ষণে। আর তারপরই শুরু হল তারস্বর কান্না। পরিবারের লোকেরা সরিয়ে নিয়ে গেলেও, উচ্চস্বরে বিলাপ করে গেল চারপেয়েটি। যখন প্রদীপের দেহ নিয়ে পরিবারের সদস্যরা বেরল, আচমকাই দেখা গেল হাঁটতে পারছে না ডুগ্গু। শুয়ে পড়েছে মাটিতে।

এরপর কয়েক মুহূর্ত মাত্র। কিছু করে ওঠার আগেই উপস্থিত সকলে বুঝল, ডুগ্গু আর নেই (Man and Pet Dog Die Hours Apart)। স্বাভাবিকভাবেই, পরপর দুই মৃত্যুতে কান্না দ্বিগুণ হল তাঁদের। তবে এ কথা আশ্বস্ত করল সকলকে যে প্রদীপ আর একা নেই। পরলোকেও তাঁর সঙ্গী হয়েছে ডুগ্গু। এ ঘটনা হতবাক করে। এক পোষ্য ও মনিবের এমন আশ্চর্য ভালোবাসা ভাবতে বাধ্য করে নতুনভাবে।

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.