Howrah

প্রথম সাক্ষাতেই পালানোর ছক! প্রেমের টানে হাওড়া থেকে সবংয়ে যুবক, দিনভর অপেক্ষার পরে এ কী হল?

মাস ছয়েকের আলাপে হয়েছিল 'প্রেম'। প্রেমিকের বাড়ি হাওড়ায়। আমি প্রেমিকা থাকে পশ্চিম মেদিনীপুরের সবংয়ে। সমাজমাধ্যমে আলাপের মধ্যে দিয়ে ধীরে ধীরে প্রেম জমাট বাঁধতে শুরু করে বলে খবর। দু'জনে দুই জেলার বাসিন্দা হওয়ায় দেখা হওয়ার সুযোগ হচ্ছিল না।

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: জানুয়ারি ২৫, ২০২৬, ১৭:৩৩

options
link
প্রথম সাক্ষাতেই পালানোর ছক! প্রেমের টানে হাওড়া থেকে সবংয়ে যুবক, দিনভর অপেক্ষার পরে এ কী হল?
প্রতীকী ছবি।

মাস ছয়েকের আলাপে ‘প্রেম’। প্রেমিকের বাড়ি হাওড়ায়। আর প্রেমিকা থাকে পশ্চিম মেদিনীপুরের সবংয়ে। সমাজমাধ্যমে আলাপের মধ্যে দিয়ে ধীরে ধীরে প্রেম জমাট বাঁধতে শুরু করে বলে খবর। দু’জনে দুই জেলার বাসিন্দা হওয়ায় দেখা হওয়ার সুযোগ হচ্ছিল না। কিন্তু প্রেমের টানে সামনাসামনি দেখা করার ইচ্ছাও তীব্র হতে থাকে। সামনেই সরস্বতী পুজো, বাঙালির ভ্যালেনটাইনস ডে। ওই দিনই দু’জনে দেখা করার পরিকল্পনা করেছিল। হাওড়া থেকে প্রেমিক যুবক পৌঁছে গিয়েছিল সবংয়ে। কিন্তু দু’জনের দেখা তো হলই না! বরং থানায় যেতে হল ওই প্রেমিককে! সরস্বতী পুজোর দিন প্রেমের মাঝে কী এমন হল!

Advertisement

ওই তরুণীর বাসিন্দা পশ্চিম মেদিনীপুরের সবং এলাকায়। এদিকে হাওড়ার বাগনানের বাসিন্দা ওই যুবক। মাস ছয়েক আগে সমাজমাধ্যমে তাঁদের মধ্যে পরিচয় হয়। সেই পরিচয় থেকেই বিনিময় হয় মোবাইল নম্বর। ফোনে এরপর শুরু কথা বলা। মনের টান অনুভব হওয়ায় পরিচয় বদলে গিয়েছিল প্রেমে। প্রেমালাপ হওয়ার পাশাপাশি দেখা করার তাড়নাও প্রবলভাবে তৈরি হয়েছিল। ঠিক হয়, সরস্বতীপুজোর দিনই দু’জনের দেখা হবে। শুধু তাই নয়, যুবককে ওই তরুণী জানিয়েছিল, তাঁর হাত ধরে সেদিনই বাড়ি ছাড়তে চায়! এমনই দাবি ওই তরুণের।

Advertisement

ফলে বাঙালির ভ্যালেনটাইনস ডে-র দিনই হাওড়া থেকে সবংয়ে চলে যায় ওই যুবক। ঠিকানা আগেই বলে দিয়েছিল ওই ‘রহস্যময়ী’ তরুণী। বেশ কয়েকটি বাস বদল করে, পরে পায়ে হেঁটে এলাকায় গিয়ে পৌঁছন ওই যুবক। এরপর শুধুই অপেক্ষা। ঘড়ি দেখে একাধিকবার ফোন করলেও ওপার থেকে কোনও সাড়া আসেনি। সরস্বতী পুজোর দিন সেজেগুজেই বাড়ি থেকে চলে এসেছিলেন তিনি। এরপর রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে বেড়ানো। তবে তিনি একা ছিলেন না, সঙ্গে নিয়েছিলেন তাঁর এক বন্ধুকেও। বারবার ফোনের পর যোগাযোগ করা সম্ভব হয়েছিল ওই তরুণীর সঙ্গে। প্রেমিকা সেসময় জানিয়েছিলেন, সরস্বতী পুজোর দিন, অর্থাৎ শুক্রবার আর দেখা করা সম্ভব নয় কোনও সমস্যার কারণে। শনিবার ভোরে পালানোর কথাও জানানো হয়। ওই রাত কোথাও কাটিয়ে দেওয়ার পরামর্শও দেওয়া হয়!

Advertisement

বন্ধুকে সঙ্গে নিয়ে শুক্রবার দুপুর তিনটে থেকে রাত আটটা পর্যন্ত অচেনা রাস্তাতেই ঘুরতে থাকেন ওই যুবক। চায়ের দোকানেও বসে থাকতে দেখা যায় তাঁদের। দীর্ঘক্ষণ অচেনা দু’জনকে এলাকায় ঘুরতে দেখে সন্দেহ হয়েছিল স্থানীয়দের। খবর যায় পুলিশে। তাঁদের দু’জনকেই থানায় নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। থানায় গিয়েও ওই যুবক কোনও মুখ খোলেননি বলে অভিযোগ। রাত বাড়তে থাকে। শেষপর্যন্ত গোটা বিষয়টি পুলিশকে জানাতে বাধ্য হন ওই যুবক। এরপর খবর দেওয়া হয় যুবকদের বাড়িতে। পরিবারের লোকজন ও বন্ধুবান্ধব রাতে থানায় গিয়ে ওই দু’জনকে বাড়ি নিয়ে যান। 

কিন্তু ওই তরুণীর কী হল? সেই বিষয়ে কোনও তথ্য পাওয়া যায়নি। সবং থানার এক আধিকারিক জানিয়েছেন, প্রেমিককে শুক্রবার রাতে বাড়ির লোকজন এসে নিয়ে গিয়েছেন। সন্দেহবশত কেউ যাতে মারধর না করে বা কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, সেই কারণে তাঁদের উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়েছিল।

 

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.