বুদ্ধের মাথার গোল গোল বস্তু আসলে চুল নয়, একঝাঁক শামুকের বাস! অবাক করা নেপথ্য কাহিনি
বইয়ের পাতায় হোক বা ক্যানভাসে, লক্ষ্য করলে দেখবেন গৌতম বুদ্ধের মাথায় রয়েছে গোলাকার প্যাঁচানো সব বস্তু। বুদ্ধের এই অদ্ভুত রূপের আসল সত্য কী জানা আছে?
চুলের প্রতি মানুষের স্বাভাবিক আকর্ষণ মোহ বা মায়ার রূপক। বৌদ্ধ দর্শনে এটিকে ‘অজ্ঞানের আগাছা’ বলা হয়। সংসারের সমস্ত আসক্তি ছিন্ন করতেই সিদ্ধার্থ প্রব্রজ্যা গ্রহণের সময় তাঁর মাথার চুল কেটে ফেলেন। বৌদ্ধ সন্ন্যাসীদের মস্তক মুণ্ডন তাই কেবল শারীরিক রূপান্তর নয়। বরং বিনয়, আত্মশুদ্ধি এবং সংসারত্যাগের এক চিরন্তন অঙ্গীকার।
আরও পড়ুন:
সাধারণ সন্ন্যাসীদের মস্তক মুণ্ডিত হলেও মহাপুরুষ বুদ্ধের মূর্তিতে থাকে একশো আটটি ছোট পেঁচানো কোঁকড়ানো চুল। কেউ কেউ মনে করেন, এটি আসলে প্রাচীন ভাস্করদের এক বিশেষ শৈল্পিক রীতি। বুদ্ধের সৌন্দর্য ও আধ্যাত্মিক পূর্ণতা ফুটিয়ে তুলতেই বিভিন্ন অঞ্চলের ভাস্করেরা তাঁর মস্তকে এই বিশেষ ধরনের কোঁকড়ানো চুলের রূপায়ণ করেছিলেন বলে জনশ্রুতি।
রয়েছে অন্য এক উপাখ্যানও। একদিন গৃহত্যাগী বুদ্ধ নীরব ধ্যানে মগ্ন ছিলেন। সময় গড়িয়ে দুপুর হলেও তাঁর একাগ্রতা ভাঙেনি। গাছের পাতা ভেদ করে মধ্যাহ্নের প্রখর সূর্যরশ্মি সোজা এসে পড়ছিল তাঁর খোলা মস্তকে। ধ্যানমগ্ন মহাপুরুষ বাহ্যিক তীব্র দাবদাহ সম্পূর্ণ ভুলে গিয়েছিলেন। কিন্তু সেই উত্তাপ তাঁর দীর্ঘ সাধনার পথে বড় বাধা হয়ে উঠতে পারত।
আরও পড়ুন:
সন্ধ্যায় ধ্যান ভাঙার পর বুদ্ধ উপলব্ধি করেন যে, তাঁকে শান্তিতে ধ্যান করার সুযোগ দিতে গিয়ে একশো আটটি শামুক প্রখর রোদে শুকিয়ে প্রাণ হারিয়েছে। এই ক্ষুদ্র প্রাণীদের মহৎ আত্মত্যাগে বুদ্ধ গভীরভাবে দ্রবীভূত হন। বৌদ্ধ সংস্কৃতিতে তাদেরকে শহীদের মর্যাদা দেওয়া হয়। সেই স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানাতেই বুদ্ধমূর্তিতে ওই শামুকচিহ্ন খোদাই করা হয়।