একজন মানুষ তার জীবনে যা যা অভিজ্ঞতা সংগ্রহ করে, তা ভুলতে চাইলে ভোলা যেতে পারে বড়জোর। অভিজ্ঞতা পুরোপুরি মুছে ফেলা যায় কি কোনওভাবেই? ব্রাজিলের এক বিশেষ ক্লিনিক অবশ্য দাবি করেছে যে মুছে ফেলা যায়! আর তাই তুমুল বিতর্ক শুরু হয়েছে তা কেন্দ্র করে।
আরও পড়ুন:
ক্লিনিকটি আদতে এক রিকভারি সেন্টার (Brazil body count recovery clinic), যেখানে গিয়ে কোনও ব্যক্তি নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া মেনে নিজের ‘বডি কাউন্ট’ মুছে ফেলতে পারে। বডি কাউন্ট বলতে বোঝায়, কোনও মানুষ জীবন জুড়ে কতজন সঙ্গীর সঙ্গে যৌনমিলনে লিপ্ত হয়েছেন। যতজন সঙ্গী এক জীবনে, ততই এক এক করে বাড়তে থাকবে বডি কাউন্ট। এই রিকভারি সেন্টারে একরাশ আধ্যাত্মিক পদ্ধতি মেনে চলতে পারলে, বডি কাউন্ট যতই বেড়ে গিয়ে থাক না কেন, ফিরিয়ে আনা যাবে একেবারে শূন্যতে! ব্যক্তিটি আবার শূন্য থেকে শুরু করতে পারবে পথচলা। বলা বাহুল্য, এই পরিশোধন আদতে মানসিক। অর্থাৎ, মন থেকে নানাভাবে পূর্ব অভিজ্ঞতার মলিনতা দূর করে তবেই বডি কাউন্ট ‘জিরো’-তে নিয়ে যেতে পারবেন কোনও মানুষ।

সূত্র মতে, ব্যক্তিপ্রতি পরিষেবার খরচ প্রায় ১৩ হাজার মার্কিন ডলার যা কি-না ভারতীয় মুদ্রায় ১১ লক্ষ টাকার চেয়ে খানিক বেশি। বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, বিশেষ করে ৩০ বছরের বেশি বয়সী অনেক নারী-পুরুষ এই পরিষেবায় আগ্রহ দেখাচ্ছেন। এর মধ্যে যদিও মহিলাদের সংখ্যাই বেশি।
সত্যিই কতখানি কর্মসচল এই ক্লিনিক, সত্যিই সেখানে এমন কোনও পরিষেবা চালু রয়েছে কি-না তা নিয়ে প্রশ্ন থাকলেও, সোশাল মিডিয়ায় ইতিমধ্যেই রীতিমতো ভাইরাল এই খবর। অনেকেই যেমন বিদ্রূপ করেছেন, তেমনই অনেকে আগ্রহও দেখিয়েছেন এই পরিষেবা নিয়ে।
সম্পর্ক বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘদিনের সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার পর নতুন করে জীবন শুরু করার ইচ্ছাই মানুষকে এমন পরিষেবার প্রতি আগ্রহী করে তোলে। অনেকেই বিয়ের মতো গুরুগম্ভীর সম্পর্কে জড়ানোর আগে অতীতের ক্যাজুয়াল সম্পর্কে জড়ানোর তকমা মুছতে চান। সামাজিক ও মানসিক চাপ থেকে মুক্তি পাওয়ার চেষ্টা করেন। হারিয়ে ফেলা আত্মবিশ্বাস পুনরায় ফিরে পেতে চান বললেও বোধহয় ভুল হয় না।
তবে সমালোচনার ঝড়ও কিছু কম ওঠেনি এ নিয়ে। সমালোচকরা বলছেন, একজন মানুষের মূল্য কখনওই তাঁর অতীতের সম্পর্কের উপর নির্ভর করা উচিত নয়। এই ধরনের পরিষেবা সমাজে আত্মবিশ্বাসহীনতা বাড়ায়। নারীদের প্রতি বৈষম্যমূলক মানসিকতাকে উৎসাহিত করতে পারে। সবচাইতে বড় কথা, যদি ব্যক্তিগত বডি কাউন্ট প্রভৃতি নিয়ে ভিতর ভিতর অবসাদের শিকার হয়ে থাকেন কেউ, তবে এমন রিকভারি সেন্টারের চাইতেও তার অনেক বেশি প্রয়োজন মনোবিদের।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
চিনের হাতে বাংলাদেশের তিস্তা প্রকল্প! ‘উদ্বিগ্ন’ দিল্লিকে কী বার্তা দিল বেজিং?
-
ভারতের সড়ক পরিকাঠামোয় নয়া মোড়, জোট বাঁধল বিপিসিএল, শেল এবং টিকি টার
-
খামেনেইয়ের শেষকৃত্যে ইরান যাচ্ছেন না মোদি, নেপথ্যে কোন কূটনীতির ‘খেলা’?
-
অক্সফোর্ড স্ট্রিটের আদলে সাজবে বইপাড়া! কলেজ স্ট্রিট এবার ‘নো ভেহিকেল জোন’
-
তিনের পাল্টা চার! বিধানসভায় বিল উত্তেজনার মাঝে ‘খেলা ভাঙার খেলা’য় মাতল ‘দুই’ তৃণমূল