ধরা যাক, আপনি কোনও এক কোম্পানির এমন এক উচ্চপদে রয়েছে, যেখানে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ প্রায়শই আর্থিক লেকদেনের দায়িত্ব দিয়ে থাকে আপনাকে। একদিন ফোন হাতে নিতে হোয়াটসঅ্যাপে মেসেজ পেলেন দায়িত্বপ্রাপ্ত সিনিয়রের কাছ থেকে। তিনি লিখেছেন, কোম্পানির অ্যাকাউন্ট থেকে অন্য একটি অ্যাকাউন্টে পাঠাতে হবে বিপুল পরিমাণ টাকা। কী করবেন এমন পরিস্থিতিতে? ব্যক্তি তো আপনার পরিচিতই। স্বাভাবিকভাবেই, তিলমাত্র সন্দেহ জাগবে না। বরং দায়িত্ব নিয়ে সে টাকা যেন যথাস্থানে পৌঁছয়, তা-ই নিশ্চিত করবেন।
কিন্তু এখানেই বিছিয়ে রয়েছে বিরাট বড় ফাঁদ (whatsapp boss scam)। মেসেজের অন্যপারে আদতে অপেক্ষা করছে সাক্ষাৎ বিপদ। কোম্পানির সিনিয়র নয়, মেসেজটি পাঠিয়েছে প্রতারক। আর টাকা পাঠানো মাত্র তা গিয়ে জমা হয়েছে প্রতারকের অ্যাকাউন্টে!
আরও পড়ুন:

ভারতের দুই ভিন্ন কোম্পানির সঙ্গে ঘটেছে এমনটাই। আর তাতে কোম্পানি থেকে গায়েব হয়েছে মোট ৩.৫ কোটি টাকা! রাতারাতি দেউলিয়া হয়ে অথৈ জলে পড়েছে দুটি কোম্পানিই। কিন্তু প্রতারকের কাছ থেকে আসা মেসেজ সিনিয়রের পাঠানো হয় কী করে? এখানেই লুকিয়ে আসল কাহিনী।
জানা গিয়েছে, এই ঘটনার দিনকতক আগে, কর্মচারীদের হোয়াটসঅ্যাপে অচেনা নম্বর থেকে এসেছে একটি ZIP ফাইল, যা খোলামাত্র প্রতারকের পাঠানো ম্যালওয়্যার ঢুকে গিয়েছে ফোনে! ব্যক্তিটির ফোনের যাবতীয় তথ্য এক লহমায় পৌঁছে গিয়েছে প্রতারকের কাছে। সাইবার ক্রাইম বিশেষজ্ঞদের মতে, এরপরের ঘটনা খানিক থ্রিলার সিনেমার মতো! সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির অফিসের ঊর্ধ্বতন ম্যানেজারের নম্বর ব্লক করেছে প্রতারক, বদলে নিজের নম্বর সেভ করেছে একই নামে। এরপর ব্যক্তিটিকে মেসেজ পাঠিয়ে জানিয়েছে, টাকা পাঠানোর কথা।
এক অ্যালুমিনিয়াম ট্রেডিং ফার্মে কর্মরত অ্যাকাউন্ট্যান্ট-কে দিয়ে এই প্রতারণা শুরু হয়। কোম্পানির ম্যানেজিং ডিরেক্টরের বার্তা পেয়ে, ১.৯৮ কোটি টাকা পাঠিয়ে দেন তিনি। পরে প্রতারণার বিষয়টি ধরা পড়লে সাইবার ক্রাইম দপ্তরে অভিযোগ করা হয়। তদন্তে প্রায় ৮৭.০৪ লক্ষ টাকা ফ্রিজ করা সম্ভব হয়েছে।
এরপর একটি স্বর্ণালঙ্কার ডিজাইন সংস্থার অ্যাকাউন্ট্যান্টও একই ফাঁদে পড়েন। প্রতারণার জেরে তারা হারিয়েছে ১.৫ কোটি টাকা।

কীভাবে নিরাপদ থাকবেন?
• অচেনা নম্বর থেকে আসা ZIP ফাইল বা অন্য কোনও অ্যাটাচমেন্ট খুলবেন না।
• বড় অঙ্কের টাকা পাঠানোর আগে অবশ্যই ফোন করে বা সরাসরি কথা বলে নিশ্চিত হবেন।
• মোবাইল ও কম্পিউটারে ভালো মানের সিকিউরিটি সফটওয়্যার ব্যবহার করুন।
• নিয়মিত সাইবার নিরাপত্তা সম্পর্কে আপডেটেড হতে থাকুন।
• ফোনের কনট্যাক্ট, সেটিংস বা হোয়াটসঅ্যাপে অস্বাভাবিক পরিবর্তন দেখলে সঙ্গে সঙ্গে সতর্ক হন।
• সন্দেহজনক ঘটনা ঘটলে দ্রুত সাইবার ক্রাইম সেলে অভিযোগ করুন।
বর্তমানে সাইবার প্রতারণার কৌশল আগের চেয়ে অনেক বেশি উন্নত। তাই অচেনা ফাইল খোলার আগে অবশ্যই সতর্ক থাকুন এবং কোনও আর্থিক লেনদেনের নির্দেশ এলে একাধিক উপায়ে তা যাচাই করুন।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
মমতার তিরস্কার, শুভেন্দুর পুরস্কার! দময়ন্তী সেন-সহ ৬ আইপিএসকে স্বাধীনতা দিবসে সম্মান মুখ্যমন্ত্রীর
-
কলকাতা মেডিক্যালে মহিলা কর্মীর আত্মহত্যার চেষ্টা! নেপথ্যে কী কারণ?
-
কার্যালয়ে কার্তুজ, গোপন ডেরায় ইসিএলের নথি! দেড় মাস পর পুলিশের জালে বিধায়ক পুত্র ‘বাহুবলী’ প্রেমপাল
-
দিল্লির মুখ্যমন্ত্রীর বাড়িতে ‘তিজ’ উদযাপনে কাকলি-শতাব্দী-রচনারা, মেহেন্দি-সেলফিতে হুল্লোড়, শামিল কঙ্গনাও
-
অনুশীলন সমিতি থেকে হিন্দুস্তান রিপাবলিকান আর্মির সদস্য! ফিরে দেখা ঝাড়গ্রামের বিস্মৃতপ্রায় বিপ্লবীকে