Investment Tips

অস্থির বাজারে কীভাবে টিকে থাকবেন? জেনে নিন বিনিয়োগের বিশেষ ‘মন্ত্র’

বাজারে অস্থিরতা থাকলেও এই সব ফান্ডের পোর্টফোলিও বেশ মজবুত বলে চিহ্নিত করা যায়। দীর্ঘমেয়াদে সম্পদ গঠনের উপযোগী। তবে বিনিয়োগের ধরন-মানে সিপ না লাম্পসাম-তা নির্ভর করবে আপনার ঝুঁকি নেওয়ার ক্ষমতা, সময়সীমা এবং লক্ষ্যের উপর।

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: জুন ২৩, ২০২৬, ১৮:৩০

options
link
অস্থির বাজারে কীভাবে টিকে থাকবেন? জেনে নিন বিনিয়োগের বিশেষ ‘মন্ত্র’
অস্থির সময়ে কীভাবে বাজারে টিকে থাকা সম্ভব। ছবি: সংগৃহীত।

বাজারে সব সময় স্থিরতা বজায় থাকবে-এই আশা করা বিলাসিতা। কিন্তু তা বলে অস্থির সময়ে কীভাবে বাজারে টিকে থাকা সম্ভব, সেই মন্ত্র (Investment Tips) জেনে রাখা সব ইনভেস্টরেরই উচিত। লিপিবদ্ধ করল টিম সঞ্চয়

Advertisement

এই বিশেষ অ্যানিভার্সারি ইস্যুর জন্য আমরা বেছে নিয়েছি পাঁচটি ব্যতিক্রমী ইক্যুইটি ফান্ড। প্রতিটির ক্ষেত্রে বাছাইয়ের একটা বিশেষ কারণ আছে। লগ্নির নির্দিষ্ট উদ্দেশ্য ও ‘ইনভেস্টমেন্ট ফিলোজফি’, এই দুইয়ের পরিপ্রেক্ষিতে পাঁচটি পোর্টফোলিও দেখতে হবে। তার আগে গোড়াতেই বলি আমাদের কোনও পক্ষপাত নেই, শুধু তথ্য দেওয়ার জন্য এই আলোচনা।

Advertisement

বাজারে অস্থিরতা থাকলেও এই সব ফান্ডের পোর্টফোলিও বেশ মজবুত বলে চিহ্নিত করা যায়। দীর্ঘমেয়াদে সম্পদ গঠনের উপযোগী। তবে বিনিয়োগের ধরন-মানে সিপ না লাম্পসাম-তা নির্ভর করবে আপনার ঝুঁকি নেওয়ার ক্ষমতা, সময়সীমা এবং লক্ষ্যের উপর। প্রতিটা পোর্টফোলিওর সারাংশ, বিশেষ করে টপ হোল্ডিংস, চার্টে দেখে নেবেন।

Advertisement

Nippon India Small Cap Fund

ছোট সংস্থার মধ্যে সম্ভাবনাময় ব্যবসা খুঁজে বের করার জন্য ইতিমধ্যে পরিচিত। স্টক নির্বাচন এবং লম্বাচওড়া পোর্টফোলিওর কারণে নজর কাড়ে। লং টার্মে ভাল সুযোগ তৈরি করে বলে অনেকেই চেনেন। তবে এখানে অস্থিরতা বেশি, তাই নিয়মিত সিপ এখানে হয়তো সুবিধাজনক হবে।

SBI PSU Fund

পাবলিক সেক্টর ইউনিট বা সরকারের সংস্থায় কেন্দ্রীভূত। এটা থিম্যাটিক ফান্ড, সাম্প্রতিক অতীতে ডিসইনভেস্টমেন্ট তথা অন্য রিফর্মের উপর ভর করে এগিয়েছে। ব্যাঙ্কিং, এনার্জি, ডিফেন্সের মতো ক্ষেত্রে সরকারি নীতির সুবিধা পেতে পারে এই ফান্ড। তবে থিম্যাটিক হওয়ায় ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি, এও যেন মনে রাখেন লগ্নিকারীরা। বড়মাপের লাম্পসাম বিনিয়োগের আগে ধাপে ধাপে প্রবেশ করাই ভালো হবে।

Aditya Birla Sun Life Quant Fund

ডেটা-চালিত বা কোয়ান্ট মডেলের মাধ্যমে স্টক বাছাই করে হয়। ‘হিউমান ইন্টারভেনশন’ (পক্ষপাতের সমান) কমিয়ে নির্দিষ্ট কিছু নিয়ম মেনে পোর্টফোলিও গঠনই এর বৈশিষ্ট্য। এই প্রসঙ্গে বলা চলে যে বাজারের বিভিন্ন পর্যায়ে নানা ধরণের আচরণ দেখা যায়। এই ফান্ডের পোর্টফোলিও কোয়ান্ট-ভিত্তিক।

Tata Focused Equity Fund

এখানে ‘ফোকাসড’ কথাটা বিশেষ ভাবে মনে রাখবেন। সীমিত সংখ্যক ইক্যুইটিতে বিনিয়োগ করা হয়। ফলে ভাল স্টক বাছাইয়ের ক্ষেত্রে রিটার্ন আকর্ষণীয় হতে পারে। তবে এখানে ‘কনসেন্ট্রেশন রিস্ক’ থাকে। যাঁরা কিছুটা ঝুঁকি নিয়ে উচ্চ মানের শেয়ারে বিনিয়োগ করতে চান, তাঁদের জন্য উপযুক্ত বলে অনেকে মনে করেন।

Franklin India Multi Cap Fund

বড়, মাঝারি ও ছোট, এই তিন মার্কেট ক্যাপিটালাইজেশনের সেগমেন্টেই ভারসাম্য রাখার চেষ্টা করেন পরিচালকরা। এখানে যথেষ্ট বৈচিত্র্য বা ডাইভারসিফিকেশন আনা সম্ভব। সে ভাবেই এর পোর্টফোলিও তৈরি করা হয়। দীর্ঘমেয়াদে ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের জন্য এমন ফান্ড বেশ নির্ভরযোগ্য হতে পারে।

কোনও বিশেষ ক্রমানুসারে আমাদের পাঁচ ফান্ডের নাম করা হয়নি। কোনও রেকোমেনডেশন করার প্রশ্ন নেই। পোর্টফোলিও তৈরি করতে চান, এমন ইনভেস্টর যেন নিজের পরামর্শদাতার সঙ্গে কথা বলেন। আমাদের বাছাই করার কারণগুলো:

* গ্রোথ বা সম্পদ বৃদ্ধির সম্ভবনা

* থিম্যাটিক লগ্নির সুযোগ

* ডেটা-চালিত বা কোয়ান্টের কৌশলের সুবিধা নেওয়া

* ‘কনসেন্ট্রেটেড বেট’, যার ফোকাসড ফান্ডে থাকে, তার সুযোগ নেওয়া

* বিস্তৃত বৈচিত্র্য বা বিভিন্ন মার্কেট ক্যাপিটালাইজেশন পরখ করা।

সব শেষে বলা যায় যে ইক্যুইটির বাজারে কোনও গ্যারান্টি নেই। নিয়মিত সিপ করে বড় কর্পাস করার নজির আছে। বড় কারেকশন বা সংশোধনে লাম্পসাম বিনিয়োগ নতুন সুযোগ এনে দিতে পারে।

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.