Advertisement
Advertisement
Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ৭ আষাঢ় ১৪৩৩
  • মঙ্গলবার
  • ২৩ জুন ২০২৬
Contra fund

বাজারের অতিরিক্ত হতাশা থেকে বাঁচতে কনট্রা ফান্ডে বিনিয়োগ, জেনে নিন বিস্তারিত

কী এই শব্দবন্ধের অর্থ? গুরুত্বই বা কী?

Advertisement
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: জুন ২২, ২০২৬, ১৬:২২

link
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: জুন ২২, ২০২৬, ১৬:২২

options
link
বাজারের অতিরিক্ত হতাশা থেকে বাঁচতে কনট্রা ফান্ডে বিনিয়োগ, জেনে নিন বিস্তারিত zoom
ইদানিং 'কনট্রা' ধারণাটা আবার নতুন করে আলোচনায় এসেছে।

ফের নতুন করে চর্চায় কনট্রা। কী এই শব্দবন্ধের অর্থ? গুরুত্বই বা কী? কনট্রা ফান্ডে কেন বিনিয়োগ করবেন? জেনে নিন বিস্তারিত। বিশেষ সাক্ষাৎকারে অঞ্জলি ইনভেস্টমেন্টের কর্ণধার সজল রায়। কথা বলেছেন নীলাঞ্জন দে।

ইদানিং ‘কনট্রা’ ধারণাটা আবার নতুন করে আলোচনায় এসেছে। নানা কারণে ফরেন ইনভেস্টরদের টাকা দেশ থেকে বেরিয়ে যাচ্ছে, দেশেও অনেকে চাইছেন বিভিন্ন বিদেশি মার্কেটে বিনিয়োগ করতে। এই ট্রেন্ড কীভাবে দেখছেন? আজ সাধারণ বিনিয়োগকারীর কাছে কনট্রা স্ট্র্যাটেজি কী হতে পারে?

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement

খুব সহজ ভাষায় বলি, কনট্রা মানে হল ভিড়ের উলটো দিকে হাঁটার কৌশল। বাজারে যখন কোনও সেক্টর বা স্টককে বেশিরভাগ ইনভেস্টর অপছন্দ করছেন, তখন ঠান্ডা মাথায় তার ভিতরের শক্তি ‘ইনট্রিনসিক ভ্যালু’, বিচার করে বিনিয়োগ করাই কনট্রা ভাবনা। এটা কিন্তু অন্ধকারে হাতড়ে বেড়ানো নয়, অথবা সোজা লজিকটা উল্টো করাও নয়। তার চেয়ে বলা ভালো যে, বাজারের অতিরিক্ত হতাশা বা অতিরিক্ত আশা, এই দুইয়ের প্রভাব থেকে নিজেকে মুক্ত করা। এবং তা থেকেই সুযোগ খোঁজা।

ধরা যাক, কোনও সময় আইটি সেক্টরের উপর খুব চাপ আছে। এবার ইনভেস্টরদের সামনে প্রতিনিয়ত কোন খবরগুলো আসছে? তাঁরা চলতি নিউজ দেখছেন, তাতে নেগেটিভ রিপোর্ট বেরোচ্ছে। সোশ্যাল মিডিয়া বলছে “এই সেক্টরের ভবিষ্যৎ খুব খারাপ।” ঠিক সেই সময় হয়তো দেখা যায় কোনও বিশেষ কোম্পানির ব্যালান্স শিট আদতে শক্তিশালী হয়েছে, অথবা তাদের ব্যবসার ভিত্তি বেশ মজবুত, তাহলে দীর্ঘমেয়াদে সেখানে সুযোগ তৈরি হতে পারে। কনট্রা ফান্ডের ম্যানেজাররা সেই সুযোগটাই ধরতে চান। তবে একটা কথা আমি সব সময় বলি: কনট্রা স্ট্র্যাটেজিতে ধৈর্য‌ খুব জরুরি। কারণ এখানে সুফল অনেক সময় দেরিতে আসে। কিন্তু যখন ইতিবাচক ট্রেন্ড আসে, তখন তা যথেষ্ট শক্তিশালী হতে পারে। এই রকম আমরা একাধিক বার আগে দেখেছি।

কনট্রা মানে হল ভিড়ের উলটো দিকে হাঁটার কৌশল। বাজারে যখন কোনও সেক্টর বা স্টককে বেশিরভাগ ইনভেস্টর অপছন্দ করছেন, তখন ঠান্ডা মাথায় তার ভিতরের শক্তি ‘ইনট্রিনসিক ভ্যালু’, বিচার করে বিনিয়োগ করাই কনট্রা ভাবনা।

আপনি কি মনে করেন, এই মুহূর্তে ভারত নিজেই একটা ‘কনট্রা প্লে’?

দেখুন, এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রশ্ন। গত কয়েক কোয়ার্টার ধরে আমরা দেখেছি বিদেশি বিনিয়োগকারী, অর্থাৎ ফরেন ইনস্টিটিউটশানাল ইনভেস্টররা, ভারতের বাজার থেকে টাকা বের করে আমেরিকা, তাইওয়ান বা দক্ষিণ কোরিয়ার মতো বাজারে ঝুঁকেছেন। সেখানে প্রযুক্তি ও এআই-ভিত্তিক কোম্পানিতে দ্রুত উত্থান হয়েছে। তার ফলে ইন্ডিয়ার মার্কেট আন্ডারপারফর্ম করেছে। এখানেই কনট্রার নির্দিষ্ট জায়গা তৈরি হয়েছে।

ভারতীয় অর্থনীতির দীর্ঘমেয়াদি আবেদন কিন্তু বদলায়নি। দেশের মধ্যবিত্তের খরচ করার ইচ্ছা, আমাদের বাড়তে থাকা ডিজিটাল অর্থনীতি, উৎপাদন ক্ষেত্রের জন্য বিশেষ সরকারী পলিসি অথবা উন্নত পরিকাঠামো সংক্রান্ত প্ল্যান–এগুলো এখনও শক্তিশালী থিম। হঁ‌্যা, বাজারে সাময়িক লাভ-লোকসান জনিত হতাশা থাকতেই পারে। অনেক সময় যে ভবিষ্যতের সুযোগ লুকিয়ে থাকে সেখানেই, তা অস্বীকার করা যায় না।

এখানে সুফল অনেক সময় দেরিতে আসে। কিন্তু যখন ইতিবাচক ট্রেন্ড আসে, তখন তা যথেষ্ট শক্তিশালী হতে পারে। এই রকম আমরা একাধিক বার আগে দেখেছি।

সাধারণ রিটেল ইনভেস্টরদের কী বলবেন এই প্রসঙ্গে?

আমার পরিষ্কার বক্তব্য। ভারত এখন “আউট অফ ফেভার”, আগের মতো জনপ্রিয় নয়। এই পরিস্থিতি আরও দীর্ঘদিন চলবে, এমন নয়। যে সব মার্কেট এখন খুব তীব্র গতিতে এগিয়েছে, সেখানে কারেকশন আসতে বাধ্য। একতরফা বৃদ্ধি আর কতদিন চলবে! এই কথাটা ভাল ভাবে বোঝা দরকার। কনট্রা বিনিয়োগকারীরা সাধারণত এই ধরনের সময়েই নিজেদের ‘পজিশন’ তৈরি করেন। যাকে আমরা বলি ‘ইমিডিয়েট আউট-পারফরম্যান্স’, তা হবে না। তবুও বলে রাখি যে সাধারণ বিনিয়োগকারীর পোর্টফোলিওতে কনট্রা ফান্ড বা কনট্রা-জাতীয় ভাবনাচিন্তা জায়গা থাকা উচিত।

সব সারপ্লাস টাকা কখনও একটা স্ট্র্যাটেজিতে দেওয়া উচিত নয়। কারণ এতে পোর্টফোলিও ভোলাটিলিটি (বা সাদা কথায় জোরদার ওঠানামা) বেশি হতে পারে। তবে ‘বেশি রিস্ক’ আর ‘কম রিস্ক’, এই দুইয়ের ভারসাম্য রাখা উচিত। পোর্টফোলিওতে কিছু কনট্রা এক্সপোজার রাখা যেতে পারে। এটা অনেক সময় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়।

আমার অভিজ্ঞতায় দেখেছি অধিকাংশ মানুষ এখনকার চ্যাম্পিয়নদের উপরই সমস্ত বাজি ধরেন। যে সেক্টর ভাল চলছে, যেখানে ভ্যালুয়েশন ইতিমধ্যে খুব বেড়ে গেছে, সেখানেই আরও বেশি টাকা ঢালেন। তার ফলে পোর্টফোলিও অনেক সময় একই ধরনের ঝুঁকিতে ভরে যায়। কনট্রা কৌশল সেখানে ভারসাম্য আনে। এতে এমন বিনিয়োগ হয় যেগুলো হয়তো এই মুহূর্তে জনপ্রিয় নয়। কিন্তু ভবিষ্যতে তাদের ঘুরে দাঁড়ানোর সম্ভবনা থাকে।

সংক্ষেপে বলতে হলে, কনট্রাকে আপনার “শক অ্যাবজরবার” হিসেবে দেখুন। বাজারের শুধুমাত্র একমুখী গতি হয় না, কেবল একটা-দুটো সেক্টর অগণিত মাস ধরে কেবলই এগিয়ে যাবে, এমনও নয়। ইনভেস্টরদের দরকার যথেষ্ট ডাইভার্সিফিকেশন।

শেষ প্রশ্ন। আজকের বিনিয়োগকারীদের জন্য কনট্রা নিয়ে সবচেয়ে বড় শিক্ষাটা কী?

আজ চারিদিকে তথ্যের বন্যা। এই পরিবেশে সবচেয়ে কঠিন কাজ হল স্বাধীনভাবে ভাবা। কনট্রা স্ট্র্যাটেজি এখানে উল্লেখ করার মতো। বাজারে তাৎক্ষণিক আকর্ষণ যা কিছু পাব, তা-ই সব সময় সঠিক হবে না। ঐতিহাসিক ভাবে ইন্ডিয়ার মার্কেটে যথেষ্ট ভাল গ্রোথ দেখা গেছে। আমাদের সার্বিক CAGR (কম্পাউন্ডেড অ্যানুয়াল গ্রোথ রেট) সংক্রান্ত পরিসংখ্যান থেকে তা স্পষ্ট। তাই আমাদের নিজেদের স্টক মার্কেট এড়িয়ে যাওয়ার কথা ভাববেন না। নানা ফান্ড হাউসের পরিচালিত আজ কনট্রা প্রকল্প বাজারে উপস্থিত। সেগুলোর পোর্টফোলিও নিয়ে খোঁজ খবর করুন, প্রফেশনালদের সাহায্য নিন সব কিছু সুষ্ঠু ভাবে করার জন্য।

Disclaimer: Mutual funds are subject to market risks, please read all scheme-related documents carefully before investing. Returns are not guaranteed.

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Advertisement

Share this article on

The article link is copied.