ভারতের ৭ দুর্গে পরতে পরতে রহস্য, জীবনে অন্তত একবার ছুঁয়ে দেখুন এই ইতিহাস
ইতিহাসপ্রেমী ভ্রমণপিপাসুরা ভ্রমণের চেকলিস্টে রাখতে পারেন ভারতের এমন কয়েকটি ঐতিহাসিক দুর্গ।
লাল কেল্লা, দিল্লি – ভারতের সবচাইতে জনপ্রিয় এই দুর্গটি। ইউনেস্কোর ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট-এর তালিকায় জায়গা করে নিয়েছে লাল কেল্লা। ১৬০০-এর দশকের মাঝামাঝি মুঘল সম্রাট শাহজাহান নির্মাণ করেন। ১৬৩৯ সালের ১২ মে তিনি এটি নির্মাণের নির্দেশ দেন, যখন তিনি মোঘল সাম্রাজ্যের রাজধানী আগ্রা থেকে দিল্লিতে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। স্বাধীনতার পর এটি ভারতের সার্বভৌমত্বের অন্যতম প্রতীক হয়ে ওঠে।
আরও পড়ুন:
আগ্রা ফোর্ট, উত্তরপ্রদেশ - ‘আগ্রার লাল কেল্লা’ নামেও পরিচিত এই দুর্গটি। রাজধানী দিল্লিতে স্থানান্তরিত হওয়ার আগে পর্যন্ত এটিই মুঘল সম্রাটদের প্রধান আবাসস্থল ছিল। দুর্গটি নির্মাণের মূল উদ্যোক্তা ছিলেন মুঘল সম্রাট আকবর। বর্তমানে এটি ইউনেস্কোর বিশ্বের শ্রেষ্ঠ ঐতিহ্যবাহী স্থানগুলির তালিকায় জায়গা করেছে। পরবর্তীকালে দুর্গটি মারাঠাদের অধীনে ছিল। তাজমহল থেকে এর দূরত্ব মাত্র কয়েক কিলোমিটার।
মেহরানগড় ফোর্ট, যোধপুর, রাজস্থান - রাজস্থানের যোধপুরে অবস্থিত বিখ্যাত মেহরানগড় দুর্গ রাঠোর বংশের রাজপুত শাসক রাও যোধা নির্মাণ করেছিলেন। রাঠোর রাজবংশের প্রধান আরাধ্য দেবতা ছিলেন সূর্যদেব, তাই মিহিরকে (সূর্য) উদ্দেশ্য করে দুর্গের নাম মেহেরানগড়। দুর্গে প্রবেশের জন্য ৭টি বিশাল দরজা রয়েছে। এর মধ্যে 'জয় পোল' এবং 'লোহা পোল' অন্যতম, যেগুলোতে আজও পুরোনো যুদ্ধের কামানের গোলার আঘাতের চিহ্ন দেখা যায়।
জয়সলমের ফোর্ট, রাজস্থান - জয়সলমেরে অবস্থিত এই দুর্গটি বিশ্বের হাতে গোনা কয়েকটি ‘জীবন্ত দুর্গ’-এর মধ্যে অন্যতম। দুর্গের বিশাল প্রাচীরের ভেতর এখনও শহরের প্রায় এক-চতুর্থাংশ মানুষ বসবাস করেন। ভাটি রাজপুত শাসক রাওয়াল জয়সাল নির্মাণ করেছিলেন এই দুর্গটি। এটি থর মরুভূমির মাঝে ত্রিকুটা পাহাড়ের উপর অবস্থিত। দুর্গটি সম্পূর্ণ হলুদ বেলেপাথর দিয়ে তৈরি। সত্যজিৎ রায়ের ‘সোনার কেল্লা’ সিনেমার সোনার কেল্লা আদতে এই দুর্গটিই।
আরও পড়ুন:
চিত্তৌড়গড় ফোর্ট, রাজস্থান - সপ্তম শতাব্দীতে মৌর্য রাজবংশের শাসক চিত্রাঙ্গদ মৌর্য তৈরি করেছিলেন। তাঁর নাম অনুসারেই কেল্লাটির নাম মূলত 'চিত্রকূট' রাখা হয়েছিল, যা কালক্রমে অপভ্রংশ হয়ে 'চিত্তোরগড়' নামে পরিচিতি পায়। পরবর্তীতে অষ্টম শতাব্দীতে গুহিল রাজবংশের প্রতিষ্ঠাতা বাপ্পা রাওয়াল মৌর্যদের পরাজিত করে এই দুর্গ জয় করেন এবং এটিকে মেওয়ার সাম্রাজ্যের প্রধান রাজধানী হিসেবে গড়ে তোলেন। তিনটি ঐতিহাসিক জোহরের সাক্ষী এই দুর্গ।
আমের ফোর্ট, জয়পুর, রাজস্থান - কচ্ছবাহ রাজবংশের শাসক রাজা মান সিংয়ের তত্বাবধানে শুরু হয় এই দুর্গের নির্মাণকাজ। মার্বেল ও লাল পাথরে নির্মিত আমের ফোর্ট বর্তমানে জয়পুরের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন আকর্ষণ। পাহাড়ের চূড়ায় অবস্থিত এই দুর্গ থেকে মাওতা হ্রদের মনোরম দৃশ্য দেখা যায়। রাজপুত স্থাপত্যশৈলীর এক অপূর্ব নিদর্শন এটি।
গোয়ালিয়র ফোর্ট, মধ্যপ্রদেশ - ঐতিহাসিক তথ্য অনুযায়ী, দুর্গটির আদি ভিত্তি তৈরি করেছিলেন রাজা সুরজ সেন। লোককথা অনুযায়ী, 'গোয়ালিপা' নামের এক সাধুর দেওয়া পবিত্র কুণ্ডের জল খেয়ে রাজা সুরজ সেন তাঁর চর্মরোগ থেকে মুক্তি পান। সেই সাধুর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েই তিনি শহর ও দুর্গের নাম রাখেন 'গোয়ালিয়র'। দুর্গের ভেতরের প্রধান আকর্ষণ মান মন্দির প্রাসাদ, গুজরি মহল, তেলি কা মন্দির প্রভৃতি।