কালীঘাটের কাকু থেকে ‘পুষ্পা’ জাহাঙ্গির, সুমিত! পরপর গ্রেপ্তার ঘনিষ্ঠরা, সব পথ গিয়ে মিশবে অভিষেকে?
ক্রমশ বিপদ বাড়ছে অভিষেকের!
অভিষেক ঘনিষ্ঠ অধিকাংশেরই একে একে ঠিকানা হয়েছে গারদ। যদিও এখনও অবধি যা প্রকাশ্যে এসেছে তা 'হিমশৈলের চূড়ামাত্র' বলেই দাবি তদন্তকারীদের। অর্থাৎ এর শিকড় অনেক গভীরে। দিনের আলোয় যা দেখা যাচ্ছে, আদতে তা খুব সামান্য। এদিকে একের পর এক শাগরেদদের গ্রেপ্তারে ক্রমশ একা হচ্ছেন অভিষেক। অনেকেরই ধারণা, এতে বিপদ বাড়ছে অভিষেকের। চলুন দেখে নেওয়া যাক কোন অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন অভিষেক ঘনিষ্ঠ কোনজন।
আরও পড়ুন:
বৃহস্পতিবার অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালীঘাটের বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয় তাঁর আপ্তসহায়ক সুমিত রায়কে। মূলত জমি দুর্নীতিতে অভিযুক্ত তিনি। প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগসাজশ করে শালবনির বিশাল পরিমাণ সরকারি জমি বেআইনিভাবে ছোট ছোট ভাগে নাকি বিক্রি করেছেন তিনি। তবে এখানেই শেষ নয়। তদন্তকারীদের ধারণা, অভিষেকের বিরুদ্ধে যা যা মামলা রয়েছে তাঁর সবেতেই কোনও না কোনওভাবে জড়িয়ে সুমিত।
অভিষেক বন্দ্য়োপাধ্যায়ের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ হিসেবেই পরিচিত বাগুইআটির তৃণমূল নেতা দেবরাজ চক্রবর্তী। শোনা যায়, তিনি যুবরাজের আস্থাভাজন ছিলেন। দীর্ঘদিন ধরেই তাঁর বিরুদ্ধে তোলাবাজি, মারধর, হুমকি, আয় বহির্ভূত সম্পত্তির অভিযোগ থাকলেও অদৃশ্য শক্তির জোরে বরাবর বেঁচে গিয়েছেন তিনি। তবে পালাবদলের পর আর রেহাই মেলেনি। আদালত তাঁর স্ত্রী অদিতি মুন্সিকে আগাম জামিন দিলেও দেবরাজকে দেননি। পরবর্তীতে পুরুলিয়া থেকে দেবরাজ গ্রেপ্তার হন।
অভিষেকের শাগরেদদের মধ্যেই একজন জাহাঙ্গির খান। অবৈধ সম্পত্তি, আর্থিক দুর্নীতি, জমি দখল, হিংসা ছড়ানো-সহ একাধিক অভিযোগে জর্জরিত ছিলেন তিনি। তবে তৃণমূল জমানায় শত অভিযোগ সত্ত্বেও এলাকায় দাপিয়ে বেরিয়েছেন তিনি। ফলতায় ভোট প্রচারে গিয়ে তাঁকে পাশে নিয়ে 'ইলেকট্রিক চুল্লি'র কথা বলে বিতর্কে জড়িয়েছিলেন খোদ অভিষেক। পালাবদলের পর নেপাল সীমান্ত এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয় জাহাঙ্গিরকে। ওয়াকিবহল মহলের দাবি, অভিষেকের নির্দেশে এলাকায় ছড়ি ঘোরাতেন জাহাঙ্গির।
আরও পড়ুন:
অভিষেক ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ হওয়ার পর থেকেই শওকত মোল্লা তাঁর ডান হাত হিসেবেই পরিচিত ছিলেন। এলাকায় কার্যত তাঁর কথায় বাঘে গরুতে এক ঘাটে জল খেত। ফলে গণধর্ষণ, শারীরিক নির্যাতন এবং আপত্তিকর ছবি-ভিডিও দেখিয়ে দিনের পর দিন ব্ল্যাকমেইল, বোমাবাজি, দুর্নীতি-সহ বহু অভিযোগ থাকলেও সেই সময় তাঁর বিরুদ্ধে কোনও পদক্ষেপ করেনি পুলিশ। অবশেষে গত জুন মাসে গ্রেপ্তার হন শওকত।
নিয়োগ দুর্নীতিতে দীর্ঘদিন আগেই গ্রেপ্তার হয়েছিলেন কালীঘাটের কাকু ওরফে সুজয়কৃষ্ণ ভদ্র। রহস্যভেদে তাঁর কণ্ঠস্বরের নমুনা সংগ্রহ করতে গিয়ে তদন্তকারীদের যে কত জটিলতা পেরতে হয়েছে তা দেখেছে বাংলা। তাঁর মুখে বারবার শোনা গিয়েছে 'সাহেব'-এর কথা। ওয়াকিবহল মহলের দাবি, এই সাহেব আদতে অভিষেকই। যদিও তা এখনও প্রমাণিত নয়। তবে পরিস্থিতি যেদিকে এগোচ্ছে তাতে অভিষেকের গ্রেপ্তারি বেশি দূরে নয় বলেই দাবি অনেকের।