অন্তর্বাসে চকোলেট-স্ট্রবেরির স্বাদ, খাওয়াও যায়! জানেন, দেশে ‘এডিবল আন্ডারওয়্যারে’র চাহিদা কোথায় বেশি?
লজ্জা নিবারণের এই বস্ত্রখণ্ডটুকুই নিমেষে খেয়ে ফেলা যায়!
কিন্তু লজ্জা নিবারণের এই বস্ত্রখণ্ডটুকুই নিমেষে খেয়ে ফেলা যায়! সম্প্রতি একটি সাক্ষাৎকার সম্প্রচারিত হওয়ার পর থেকেই হইচই পড়ে গিয়েছে বিশেষ এই অন্তর্বাস নিয়ে। সেখানে দাবি করা হয়, এডিবেল আন্ডারওয়্যার ভারতে যথেষ্ট জনপ্রিয়। বিশ্বে যত এডিবেল অন্তর্বাস বিক্রি হয়, তার একটা বড় অংশের ক্রেতা ওড়িশা এবং ঝাড়খণ্ডের জনতা! অর্থাৎ তাঁরা এমন অন্তর্বাস কিনছেন, যা কিনা খেয়ে ফেলা যাবে ইচ্ছা হলেই।
আরও পড়ুন:
সাধারণ সুতি, স্যাটিন, লেসের মতো কাপড় দিয়ে তৈরি হয় অন্তর্বাস। প্রশ্ন হল, তাহলে মানুষ অন্তর্বাস খাবেন কী করে? সাধারণ শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়ায় তো এটা অসম্ভব। কিন্তু এডিবেল অন্তর্বাস এমনভাবে তৈরি করা হয় যাতে কোনও সমস্যা ছাড়াই এই অন্তর্বাস খাওয়া যাবে। অনলাইন হোক বা বিশেষ দোকান, এই অন্তর্বাস কিনতে পাওয়া যায় নানা জায়গায়। তবে সাধারণ অন্তর্বাসের তুলনায় দাম অনেকটাই বেশি।
এমন অদ্ভুত অন্তর্বাসের আবির্ভাব হল কী করে? শুরুটা হয়েছিল একেবারে মজার ছলে। দুই মার্কিন কলেজপড়ুয়া ডেভিড স্যান্ডারসন এবং লি ব্র্যাডি ঠিক করেন, এমন অন্তর্বাস বানাবেন যা খেয়েও ফেলা যাবে। ১৯৭৫ সালে এই মজার অন্তর্বাস বানিয়েও ফেলেন দু'জনে মিলে। কিন্তু অন্তর্বাস খাওয়া যাবে-এই ধারণা মানতে পারেনি ব্যবসায়ী মহল। ফলে পেটেন্টও মেলেনি দুই তরুণের। পরে পেটেন্ট মেলে, শুরু হয় ক্যান্ডিপ্যান্টের উৎপাদন।
শিকাগোর কারখানায় তৈরি হওয়া এই অন্তর্বাস খুব দ্রুতই জনপ্রিয় হয়ে ওঠে মার্কিন মুলুকে। অশালীনতার অভিযোগে মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্তও লড়তে হয় ক্যান্ডিপ্যান্টসকে। কিন্তু খেয়ে ফেলা অন্তর্বাসের জনপ্রিয়তায় এতটুকু ভাটা পড়েনি। বরং স্বাধীন মানসিকতার আমেরিকানরা অত্যন্ত সদর্থকভাবে এই বিশেষ অন্তর্বাসকে গ্রহণ করেন। এই অন্তর্বাস নিয়ে লেখা হয় উপন্যাসও। পরে আমেরিকার গণ্ডি ছাড়িয়ে গোটা বিশ্বে এই অন্তর্বাস জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।
আরও পড়ুন:
এই অন্তর্বাস তৈরিতে স্রেফ খাদ্যপণ্যই ব্যবহার করা হয়। শুরুর দিকে অন্তর্বাস তৈরিতে ব্যবহার হত চিনির পাক দেওয়া ক্যান্ডি বা লজেন্সের মতো উপাদান। অন্তর্বাসের আকারে একাধিক লজেন্স সাজিয়ে তৈরি হত ক্যান্ডিপ্যান্টস। মহিলা এবং পুরুষ সকলের জন্যই পাওয়া যেত এই বিশেষ অন্তর্বাস। অর্থাৎ এই অন্তর্বাসে থাকা ক্যান্ডি খেলেও শারীরিকভাবে কোনও অসুবিধা দেখা যাবে না। পরবর্তীকালে বদল হয়েছে অন্তর্বাস তৈরির উপাদানে।
বর্তমানে চকোলেট এবং চুইংগামের উপাদান ব্যবহার করে বানানো হয় এই অন্তর্বাস। চকলেটের টুকরো গেঁথে অন্তর্বাস তৈরি হয়। অরেঞ্জ, স্ট্রবেরির মতো নানা স্বাদে চুইংগামের পরত তৈরি করে, সেখান থেকে অন্তর্বাসের আকারে টুকরো কেটেও তৈরি হয় এডিবল আন্ডারওয়্যার। অর্থাৎ ১০০ শতাংশ খাদ্যপণ্য দিয়েই এই বিশেষ অন্তর্বাস তৈরি হয়, যা ভারতেও বেশ জনপ্রিয় বলে দাবি। তবে এই দাবির পক্ষে কোনও পরিসংখ্যান মেলে না।