কখনও নিউটন, কখনও যমরাজ! ওটিটি জমাতে রোহিতের পর নয়া শো নিয়ে আসছেন শেহওয়াগ
নতুন দায়িত্ব নিয়ে কী বলছেন ‘নজফগড়ের নবাব’?
২২ গজে তিনি ব্যাট হাতে নামলেই বদলে যেত ছবিটা। বিপক্ষের বাঘা বাঘা বোলারদের ঘুম ছুটে যেত। তিনি বীরেন্দ্র শেহওয়াগ। তিনি মানেই ঝড়। আগ্রাসী ব্যাটিংয়ে ক্রিকেটপ্রেমীদের বারবার মুগ্ধ করেছেন বীরু। সেই বাইশ গজকে অবশ্য বহু দিন আগেই বিদায় জানিয়েছেন তিনি। এরপর কখনও ধারাভাষ্যকার, কখনও কোচের ভূমিকায় দেখা গিয়েছে তাঁকে। এবার ক্রিকেটের গণ্ডি পেরিয়ে সম্পূর্ণ নতুন ভূমিকায় ‘নজফগড়ের নবাব’।
আরও পড়ুন:
অ্যামাজনের ‘রাইজ অ্যান্ড ফল’-এর দ্বিতীয় সিজনে সঞ্চালকের ভূমিকায় দেখা যাবে প্রাক্তন ভারতীয় ওপেনারকে। ইতিমধ্যেই সোশাল মিডিয়ায় প্রোমো ক্লিপ প্রকাশ করে নতুন সিজনের ঘোষণা করেছে প্রাইম ভিডিও। সেখানেই দেখা গিয়েছে সঞ্চালক শেহওয়াগকে। ক্রিকেট মাঠে নির্ভীক ব্যাটিংয়ের জন্য পরিচিত শেহওয়াগ মাঠের বাইরে স্পষ্টবাদী। দুই-ই এবার এই রিয়ালিটি শোয়ের ইউএসপি। নতুন দায়িত্ব নিয়ে শেহওয়াগের কথাতেও মিলেছে সেই চেনা মেজাজ।
রাইজ অ্যান্ড ফল ২-এর হোস্ট হিসাবে আশনির গ্রোভারের জায়গায় শেহওয়াগ। এই অনুষ্ঠানের হাত ধরেই ওটিটি প্ল্যাটফর্মে সঞ্চালক হিসাবে আত্মপ্রকাশ করতে চলেছেন প্রাক্তন ওপেনার। বীরুর কথায়, “ক্রিকেট আমাকে একটা জিনিস শিখিয়েছে। শেষ বল না হওয়া পর্যন্ত কোনও ম্যাচই জেতা যায় না। আর ‘রাইজ অ্যান্ড ফল’-এর দ্বিতীয় সিজন সেই ব্যাপারটাকে অন্য উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছে।”
সঞ্চালক হিসাবে এই অনুষ্ঠানের কোন বিষয়টি তাঁকে সবচেয়ে আকৃষ্ট করছে? শেহওয়াগের উত্তর, “এখানে সহজে জেতার কোনও সুযোগ নেই। কারও অবস্থানও স্থায়ী নয়। তাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ কেবল শীর্ষে পৌঁছনো নয়। নিজেকে টিকিয়ে রাখা। আপনাকে জানতে হবে কখন আগ্রাসী হতে হবে। কখন সাবধানী হতে হবে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল, দ্রুত আপনাকে খেলার গতিপ্রকৃতি বুঝে নিতে হবে।”
আরও পড়ুন:
‘রাইজ অ্যান্ড ফল’-এর মূল ভাবনাই তৈরি হয়েছে সম্পূর্ণ বিপরীত দুই জগৎকে নিয়ে। এক দিকে বিলাসবহুল পেন্টহাউস। অন্যদিকে বেসমেন্ট। নতুন সিজনে ১৫ জন তারকা প্রতিযোগী অংশ নেবেন। তাঁদের ভাগ করা হবে দুই দলে– ‘রুলারস’ অর্থাৎ শাসক ও ‘ওয়ার্কার্স’ অর্থাৎ কর্মী। কৌশল ও প্রতি মুহূর্তে বদলে যাওয়া সমীকরণের এই খেলায় এবার শেহওয়াগের সঞ্চালনা কতটা ঝড় তুলতে পারে, নজর থাকবে সেদিকেই।
ইতিমধ্যেই প্রকাশ্যে এসেছে নতুন সিজনের প্রথম টিজার। প্রোমোয় শেহওয়াগকে কখনও স্যর আইজ্যাক নিউটন, কখনও চিকিৎসক, স্কুলশিক্ষক, ক্যারাটে প্রশিক্ষক, আবার কখনও যমরাজের সাজে দেখা গিয়েছে। ক্রিকেটের অভিজ্ঞতার সঙ্গে অনুষ্ঠানের তুলনাও টেনেছেন প্রাক্তন ক্রিকেটার। ‘রাইজ অ্যান্ড ফল’ হল ব্রিটিশ প্রযোজনা সংস্থা ল্যামবার্টের তৈরি জনপ্রিয় রিয়ালিটি শো ফরম্যাট। মূল ফরম্যাটের উপর ভিত্তি করেই এর দেশীয় সংস্করণ তৈরি করেছে বানিজয় এশিয়া।
প্রতিযোগীদের মধ্যে কাঁটে কি টক্কর এবং পুরস্কারের অর্থ নিয়ন্ত্রণের লড়াই প্রথম সেশনে দর্শকদের নজর কেড়েছিল। এবার শেহওয়াগের আগমনে অনুষ্ঠানে আরও স্বতঃস্ফূর্ততা, রসিকতা এবং ক্রিকেটের আবহ যোগ হবে বলেই মনে করছেন নির্মাতারা। তবে দ্বিতীয় মরশুমের আনুষ্ঠানিক সম্প্রচারের তারিখ এখনও ঘোষণা করা হয়নি। খুব শীঘ্রই সেই তারিখ জানানো হবে।