তরুণীকে হোটেলে ডেকে অসভ্যতা, পরকীয়া, ড্রাগের নেশা! গুরুতর অভিযোগে বিদ্ধ যুবি-রাহুল-সহ ভারতীয় ক্রিকেটাররা
প্রথম সারির বহু ভারতীয় ক্রিকেটারকে থাকতে হয়েছে জেলে।
অভিষেক পোড়েল বা জ্যাকব মার্টিন্সরা প্রথম নন। এর আগে বহু ক্রিকেটার নানাবিধ অভিযোগে বিদ্ধ হয়েছেন। কারও বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানির অভিযোগ উঠেছে। কেউ বিদ্ধ হয়েছেন ধর্ষণে। কেউ করেছেন মারামারি। এই তালিকায় প্রথম নাম নভজ্যোৎ সিং সিধুর। ১৯৯৮ সালে এক দুর্ঘটনাকে কেন্দ্র করে ঝামেলায় এক ব্যক্তিকে মারধর করেন সিধু। পরে ওই ব্যক্তির মৃত্যু হয়। ২০২২ সালে ওই মামলায় জেল খাটতে হয় সিধুকে।
আরও পড়ুন:
প্রাক্তন ভারতীয় ক্রিকেটার অমিত মিশ্রর বিরুদ্ধে রীতিমতো বিস্ফোরক অভিযোগ রয়েছে। ভারতীয় দলের প্রাক্তন স্পিনারের বিরুদ্ধে অভিযোগ, ২০১৫ সালে বেঙ্গালুরুর এক হোটেলে নিজের বান্ধবীকে শারীরিকভাবে হেনস্তা করেন তিনি। এমনকী ওই মহিলার শ্লীলতাহানির অভিযোগও উঠেছে ক্রিকেটারের বিরুদ্ধে। সেসময় অমিত মিশ্রকে আটকও করে পুলিশ। তবে চমকপ্রদভাবে মাত্র ৩ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদের পর তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
গ্রেপ্তার হয়ে কয়েক ঘণ্টার জন্য হাজতবাস করতে হয়েছে প্রাক্তন ক্রিকেটার সুরেশ রায়নাকেও। ২০২০ সালে তিনি মুম্বইয়ের এক নাইট ক্লাবে বন্ধুদের সঙ্গে পার্টিতে মত্ত ছিলেন। সেসময় দেশে করোনা পরিস্থিতি রীতিমতো ভয়াবহ রূপ নেয়। অথচ কোনওরকম সোশাল ডিসট্যান্সিং প্রোটকল না মেনে মত্ত ছিলেন রায়নারা। মোট ৩৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। ছিলেন রায়না এবং গায়ক গুরু রানধাওয়াও। পরে তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হয়।
আরও পড়ুন:
প্রাক্তন ক্রিকেটার মহম্মদ শামির বিরুদ্ধে অভিযোগ সম্ভবত সবচেয়ে বিস্ফোরক। শামির প্রাক্তন স্ত্রী হাসিন জাহান প্রাক্তন ক্রিকেটারের বিরুদ্ধে মারধর, পরকীয়া , গার্হস্থ্য হিংসার মতো গুরুতর অভিযোগ আনেন। হাসিনের দাবি ছিল, শামি তাঁর উপস্থিতিতেই বিদেশি মহিলাদের সঙ্গে সম্পর্ক রাখতেন। যদিও সেসব অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি। শামিকে জেলেও থাকতে হয়নি। তবে আইনি লড়াই এখনও চলছে।
ভারতীয় ক্রিকেটের কিংবদন্তি অলরাউন্ডার যুবরাজ সিংকেও গ্রেপ্তার হতে হয়েছিল। অন্যান্য ক্রিকেটারকে নিয়ে মশকরা করতে গিয়ে দলিতদের অসম্মান করার অভিযোগ ওঠে যুবির বিরুদ্ধে। হরিয়ানার হিসারের এক আইনজীবী যুবরাজের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। সেই মামলায় আদালত যুবরাজকে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেন। যুবি হরিয়ানার হিসারে আত্মসমর্পণ করেন। পরে তাঁকে কিছুক্ষণ জিজ্ঞাসাবাদ করে ছেড়ে দেওয়া হয়।
গত বছর একটি বেটিং অ্যাপ কেলেঙ্কারিতে জড়িয়ে পড়েন একাধিক ভারতীয় ক্রিকেটার। যে তালিকায় সবচেয়ে বড় নামগুলির মধ্যে রয়েছেন শিখর ধাওয়ানও। 1xBet নামের একটি বেআইনি বেটিং অ্যাপের মামলায় শিখর ধাওয়ানকে ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করে ইডি। পরে ধাওয়ানের প্রায় সাড়ে ৪ কোটি টাকার সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত হয়। ওই মামলায় তলব করা হয়েছিল সুরেশ রায়না, রবিন উথাপ্পাদেরও।
রেভ পার্টিতে নেশার ঘোর। ড্রাগের নেশায় অসভ্যতা। ভয়াবহ সব অভিযোগে বিদ্ধ হতে হয়েছে প্রাক্তন ভারতীয় ক্রিকেটার রাহুল শর্মাকে। ২০১২ সালে মুম্বইয়ে একটি রেভ পার্টিতে ড্রাগ নিয়ে গ্রেপ্তার হন প্রাক্তন লেগ স্পিনার। পরে তাঁর রক্তে মাদকের নমুনা পাওয়া যায়। ওই কাণ্ডের জন্য বড় কোনও শাস্তি পাননি রাহুল। তবে তাঁর আইপিএল কেরিয়ার কার্যত শেষ হয়ে যায় ওই কাণ্ডের পরই।