কেউ চিনতে পারে অতিবেগুনি রশ্মি, কারও ৩০ হাজার চোখ! ‘দূর দর্শনে’ মানুষকে অনায়াসে টেক্কা দেয় যারা
তালিকায় কোন কোন প্রাণী?
কথায় বলে, ঈগলের চোখ। এতেই স্পষ্ট দৃষ্টিশক্তির জন্য বিখ্যাত এই প্রাণী। জানা যায়, মানুষের তুলনায় এদের দৃষ্টিশক্তি প্রায় পাঁচ গুণ বেশি প্রখর, তিন কিলোমিটারেরও বেশি দূর থেকে খরগোশ বা মাছ শনাক্ত করতে পারে এরা। এদের চোখের ভেতরের বিশেষ আলোক-সংবেদী কোষগুলো অত্যন্ত দ্রুতগতিতে ওড়ার সময়ও সূক্ষ্ম বিষয় দেখতে পায়। ঈগলরা স্পষ্টতা না হারিয়েই দূরের দৃশ্যকে বড় করে বা 'জুম' করে দেখতে পায়।
আরও পড়ুন:
ম্যান্টিস শ্রিম্প অর্থাৎ ম্যান্টিস চিংড়ি দেখতে ছোট। কিন্তু এদের দৃষ্টিশক্তি মানুষের ধারণার বাইরে। মানুষের চোখে যেখানে মাত্র তিনটি রঙের গ্রাহক, সেখানে এদের থাকে ষোলোটি পর্যন্ত। ফলে এরা অতিবেগুনি রশ্মি, পোলারাইজড আলো এবং রঙের এমন সব সূক্ষ্ম পার্থক্য শনাক্ত করতে পারে। এদের দৃষ্টিশক্তি ঠিক কীভাবে কাজ করে, তা পুরোপুরি বুঝে উঠতে পারেননি বিজ্ঞানীরা।
পেঁচারা রাতে দেখতে পায়, তা সকলেরই জানা। কিন্তু জানেন কি এদের বড় ও নলাকার চোখ প্রচুর আলো সংগ্রহ করতে পারে। অল্প আলোতেও পেঁচার চোখ অত্যন্ত নিখুঁতভাবে কোনও কিছুর নড়াচড়া ও আকৃতি শনাক্ত করতে পারে। পেঁচার কোনও কোনও প্রজাতি রাতে মানুষের তুলনায় ১০০ গুণ পর্যন্ত ভালো দেখতে পায়। শিকারের উপর নিঃশব্দে ঝাঁপিয়ে পড়ার সময় তাদের ‘বাই-নোকুলার ভিশন’ দূরত্ব ও গভীরতা সঠিকভাবে বুঝতে সাহায্য করে।
অত্যন্ত কার্যকর দৃষ্টিশক্তির অধিকারী প্রাণীদের মধ্যে ফড়িং অন্যতম। এদের বিশাল পুঞ্জাক্ষিতে প্রায় ৩০,০০০ ছোট ছোট অংশ থাকে, যা তাৎক্ষণিকভাবে যেকোনও নড়াচড়া বুঝতে পারে। চোখ ফড়িংয়ের মাথার প্রায় পুরো অংশ জুড়ে থাকে। ফলে তারা প্রায় ৩৬০-ডিগ্রি বা চারপাশের পূর্ণাঙ্গ দৃশ্য দেখতে পায়। অবিশ্বাস্য গতিতে ওড়ার সময়ও তারা দ্রুতগামী পোকামাকড়কে অনুসরণ করতে পারে এরা।
আরও পড়ুন:
আশপাশে সর্বক্ষণ ঘুরে বেরানো বিড়ালকে সাধারণই ভাবে সকলে। কিন্তু জানেন কি ওদের রাতের দৃষ্টিশক্তি অসাধারণ। তাদের চোখে ট্যাপেটাম লুসিডাম নামক একটি প্রতিফলক স্তর থাকে, যা অন্ধকারে দৃষ্টিশক্তি বাড়ানোর জন্য রেটিনার মাধ্যমে আলো প্রতিফলিত করে। এ কারণেই গাড়ির হেডলাইট বা ফ্ল্যাশলাইটের নিচে বিড়ালের চোখ জ্বলজ্বল করে। কম আলোতে বিড়াল মানুষের চেয়ে ছয় থেকে আট গুণ ভালো দেখতে পায়, যা গোধূলিতে এদের অত্যন্ত কার্যকর শিকারী করে তোলে।