প্রথম প্রেমের মতোই…, মহাতারকা হয়ে ওঠার আগে কেমন ছিল শচীন-বিরাটদের গাড়ি?
জীবনের প্রথম সবকিছু সব সময়ই বিশেষ।
কপিল দেবের নেতৃত্বে ১৯৮৩ সালের ক্রিকেট বিশ্বকাপ জয়ের ঐতিহাসিক দিন থেকেই ভারতীয় ক্রিকেটের নতুন যুগের সূচনা। ঐতিহাসিক স্মৃতিকে সম্মান জানাতে তাঁর গ্যারেজের বেশিরভাগ গাড়ির নম্বর প্লেটে '১৯৮৩' সংখ্যাটি ব্যবহার করেন। তাঁর প্রথম আধুনিক বিলাসবহুল এসইউভি গাড়ির তালিকায় ছিল মার্সিডিজ-বেঞ্জ জিএলই ২৫০ডি। ২০১২-র অক্টোবরে ভারতের প্রথম ব্যক্তি হিসাবে পোর্শে ইন্ডিয়ার তৎকালীন ডিরেক্টর অনিল রেড্ডির কাছ থেকে প্যানামেরা ডিজেলের চাবি পান।
আরও পড়ুন:
ফ্ল্যাশব্যাকে গেলে অনেকেরই মনে পড়বে ১৯৮৫-র সাত দেশীয় বেনসন অ্যান্ড হেজেস ওয়ার্ল্ড চ্যাম্পিয়নশিপের কথা। মেলবোর্নে ফাইনালে পাকিস্তানকে ৮ উইকেটে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন ভারত। সিরিজসেরা হয়ে লাল অডি ১০০ লাক্সারি সেডান গাড়ি পুরস্কার পান রবি শাস্ত্রী। সেই প্রথম কোনও ক্রিকেটার গাড়ি পুরস্কার পেয়েছিলেন। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধীর নির্দেশে গাড়িটির আমদানি শুল্ক মকুব হয়। সেই গাড়িতে কপিল-সহ অনেকেই উঠে পড়েন রাইড নেওয়ার জন্য।
‘খেলছে শচীন, খেলছে শচীন, মারছে শচীন ছয়’। ‘ক্রিকেট ঈশ্বরে’র ব্যাটিং দেখার জন্য অপেক্ষা করে থাকতেন সকলে। ২০০ টেস্টে ১৫,৯২১ রান করেছেন। ১০০টি সেঞ্চুরি। শচীন তেণ্ডুলকরের প্রথম গাড়ি ছিল মারুতি ৮০০। ১৯৮৯ সালে হালকা নীল রঙের এই গাড়িটি নিজের উপার্জিত অর্থে কিনেছিলেন। পরে বিক্রি করে দিলেও, সেকেন্ড হ্যান্ড গাড়ি বিক্রির প্ল্যাটফর্ম স্পিনি অনুরূপ মডেল পুনর্নির্মাণ করে অবাক করে দিয়েছিল শচীন তেণ্ডুলকরকে।
২০১১-র বিশ্বকাপ জয়ী অধিনায়ক মহেন্দ্র সিং ধোনির জীবনের প্রথম গাড়ি কালো রঙের মাহিন্দ্রা স্করপিও। লাকি নম্বর ‘৭’ হওয়ায় গাড়িতে ৭ নম্বরটি ব্যবহার করতে চেয়েছিলেন। ঝাড়খণ্ডে তখন ১ থেকে ১০ পর্যন্ত নম্বরগুলো সরকারি যানবাহনের জন্য সংরক্ষিত থাকলেও ধোনিকে বিশেষ ছাড় দেওয়া হয়। ২০০৭ সালের ফেব্রুয়ারিতে মাহিন্দ্রা গ্রুপের পক্ষ থেকে তাঁকে কাস্টমাইজড করা ওপেন-টপ (ছাদখোলা) স্করপিও উপহার দেওয়া হয়েছিল।
আরও পড়ুন:
বিশ্বের অন্যতম ধোনি ক্রিকেটার বিরাট কোহলি। তাঁর প্রথম প্রথম গাড়ির নাম? উত্তরটা টাটা সাফারি। ক্রিকেট খেলে রোজগারের টাকায় কেনা এই গাড়ি ভারতীয় ব্র্যান্ডের এসইউভি। এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, “ভাইয়ের সঙ্গে বেরিয়েছিলাম লং ড্রাইভে। তখন জানতামই না এটা ডিজেল গাড়ি। পাম্পে গিয়ে পেট্রল ভরেছিলাম। তারপর যা-তা কাণ্ড!” গাড়িটি বেশ পুরনো হলেও এর জনপ্রিয়তা অটুট। দাম শুরু সাড়ে ১৫ লক্ষ টাকা থেকে।
মাত্র ১৮ বছর বয়সেই বিলাসবহুল গাড়ি কেনার স্বপ্ন দেখেছিলেন প্রাক্তন ভারত অধিনায়ক রোহিত শর্মা। একদিন অনুশীলনে যাওয়ার সময় দামি গাড়ি দেখে দাঁড়িয়ে পড়েন। প্রতিজ্ঞা করেন একদিন এই গাড়িই কিনবেন। সেই স্বপ্ন সফল হয়েছে তাঁর। হিটম্যানের প্রথম কেনা গাড়ির নাম স্কোডা অক্টাভিয়া, যা ভারতীয় বাজারে স্কোডা লরা নামেও পরিচিত। ২০০৭ সালে আন্তর্জাতিক কেরিয়ার শুরু ও প্রথম আইপিএল চুক্তির পর গাড়িটি কেনেন।
হার্দিক পাণ্ডিয়ার গাড়ির কালেকশন দেখলে চোখ কপালে উঠবে। ভারতীয় অলরাউন্ডারের গ্যারাজে রয়েছে ১৫ কোটির গাড়িও। ল্যাম্বরগিনি, রোলস-রয়েস, রেঞ্জ রোভার কী নেই কালেকশনে! তাঁর প্রথম বিলাসবহুল গাড়িগুলির অন্যতম অডি এ৬ সেডান। ২০১৮-তে ইন্ডিয়ান স্পোর্টস সম্মাননা অনুষ্ঠানে ‘ব্রেকথ্রু পারফরম্যান্স’ পুরস্কার জেতার পর অডি ইন্ডিয়ার তরফে এই উপহার দেওয়া হয়। তখন এর দাম ছিল ৫১ লক্ষ টাকা। তবে তিনি প্রথম কিনেছিলেন মারুতি ৮০০।
ভারত অধিনায়ক শুভমান গিলের গ্যারাজে অন্যতম দামি গাড়ি হল রেঞ্জার রোভার ভেলার। যার দাম ১.০৫ কোটি। এই গাড়িটি কিনে ছোটবেলার স্বপ্ন পূরণ করেছিলেন। এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছিলেন, ১২-১৩ বছর বয়স থেকেই রেঞ্জ রোভার গাড়িটি তাঁর দারুণ পছন্দ ছিল। তবে তাঁর প্রথম গাড়িটি মাহিন্দ্রা থার। ভারতে যার দাম শুরু ১১ লক্ষ টাকা থেকে।
বল হাতেই নয়, স্টিয়ারিং হাতেও রাজা জশপ্রীত বুমরাহ। গ্যারাজে একাধিক মূল্যবান গাড়ি রয়েছে। ক্রিকেট থেকে প্রথম দিকে সাফল্যের পর উপার্জিত অর্থ দিয়ে কিনেছিলেন হুন্ডাই ভার্না। ভারতে এর দাম শুরু ১১ লক্ষ টাকা থেকে। তাছাড়াও রয়েছে নিসান জিটি-আর, রেঞ্জ রোভার ভেলার, নিসান জিটি-আর, মারুতি ডিজায়ার, টয়োটা ইটিয়োস, মারুতি ডিজায়ারের মতো গাড়িও।