বিজেপির টিকিটে রাজ্যসভায় গান্ধী পরিবারের সদস্য! নাম ভাসছে কুমার বিশ্বাস, স্মৃতি ইরানিদের
বিধানসভার আগে রাজ্যসভা নির্বাচনেই বড়সড় চমক দিতে চলেছে বিজেপি।
হাতে আর মাস পাঁচেক। তারপরই উত্তরপ্রদেশের নির্বাচনে। যাকে ২০২৯ লোকসভা নির্বাচনে সেমিফাইনাল হিসাবে ধরা হচ্ছে। সেই মেগা নির্বাচনের আগে অন্য এক ভোট নিয়ে সরগরম উত্তরপ্রদেশ। আসলে আগামী ১৬ অক্টোবর উত্তরপ্রদেশের ১০ আসনের রাজ্যসভা নির্বাচন ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন। বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিজেপি-সমাজবাদী পার্টি দুই শিবিরই চাইছে বিপক্ষকে জোর ধাক্কা দিতে।
এই মুহূর্তে উত্তরপ্রদেশে এনডিএ-র বিধায়ক সংখ্যা ২৯৪। অর্থাৎ ওই ১০ আসনের মধ্যে ৭টি আসনে এনডিএর জয় নিশ্চিত। সমাজবাদী পার্টির বিধায়ক সংখ্যা ১০০। কংগ্রেসের বিধায়ক সংখ্যা ২। খাতায় কলমে অখিলেশের দলের দুই আসনে জয় নিশ্চিত। একটি আসন নিয়ে দুই শিবিরের মধ্যে টানাটানি। শোনা যাচ্ছে, বিজেপি অষ্টম প্রার্থী দেবে। আবার সমাজবাদী পার্টিও তৃতীয় প্রার্থী দেবে। বাকিটা নির্ভর করবে ক্রস ভোটের উপর।
আরও পড়ুন:
অখিলেশ যাদব ইতিমধ্যেই রাজ্যসভার প্রার্থী তালিকায় চমক দিয়েছেন। প্রথম নিশ্চিত আসনে তিনি দলের প্রবীণ নেতা নেতা তথা নিজের কাকা রামগোপাল যাদবকে। দ্বিতীয় নিশ্চিত আসনে তিনি প্রার্থী করেছেন গুজরাটের ব্যবসায়ী তথা রিলায়েন্সের শীর্ষকর্তা ধনরাজ নাথওয়ানিকে। ধনরাজ একদিকে রিলায়েন্সের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত, অন্যদিকে ক্রিকেট প্রশাসক। গুজরাট ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি। একসময় এই পদে ছিলেন অমিত শাহ।
তবে বিজেপি সম্ভবত রাজ্যসভা নির্বাচনের প্রার্থী নির্বাচনে এই ধরনের কোনও চমকের কথা ভাবছে না। বরং তাঁরা উত্তরপ্রদেশের স্থানীয় রাজনীতি এবং জাতিগত সমীকরণ সামলে প্রার্থী ঘোষণা করতে চাইছে। শোনা যাচ্ছে, উত্তরপ্রদেশে দলিত, ব্রাহ্মণ, ঠাকুর সব জাতের প্রতিনিধিরাই থাকছেন বিজেপির প্রার্থী তালিকায়। সেই সঙ্গে জাতীয় রাজনীতির কয়েকজন পরিচিত নামকে টিকিট দেওয়া হবে।
বিজেপির হয়ে রাজ্যসভায় যাওয়ার দৌড়ে যার নাম উপরের সারিতে তিনি হলেন বরুণ গান্ধী। মানেকা গান্ধী এবং বরুণ গান্ধী পরিবারের সদস্য হওয়া সত্ত্বেও দীর্ঘদিন বিজেপির সঙ্গে যুক্ত। অতীতে মা-ছেলে দুজনেই গেরুয়া শিবিরের টিকিটে লোকসভায় গিয়েছেন। তবে দলের শীর্ষনেতাদের সঙ্গে মতানৈক্যের কারণে বরুণকে ২০২৪ সালে টিকিট দেওয়া হয়নি। ইদানিং আবার দলের মূল স্রোতে ফিরেছেন তিনি। তাঁকে রাজ্যসভায় পাঠানো হতে পারে।
আরও পড়ুন:
বিজেপির প্রার্থী তালিকায় নাম থাকতে পারে কুমার বিশ্বাসেরও। হিন্দির বিখ্যাত কবি কুমার একসময় যুক্ত ছিলেন আপের সঙ্গে। কেজরিওয়ালের সহযোদ্ধা ছিলেন। কিন্তু পরে কেজরির সঙ্গে মতানৈক্যে আপ ছাড়েন। ইদানিং বিভিন্ন রাজ্যে 'রাম কথা'র প্রচার করেন। বিজেপি নেতাদের ঘনিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন। শোনা যাচ্ছে ব্রাহ্মণ মুখ কুমার বিশ্বাসকেও রাজ্যসভা পাঠাতে পারে বিজেপি।