আলপনা আঁকা নৌকোয় চেপে সস্তায় প্রি ওয়েডিং শুটের দিন শেষ, এবার খরচ বাড়ছে বর্তির বিলের!
প্রিয়জনের হাতে হাত রেখে নৌকোয় ভেসে বেড়ানোর আদর্শ ঠিকানা বর্তির বিল।
উত্তর ২৪ পরগনা জেলার বারাসাত ও ব্যারাকপুর-এর মধ্যবর্তী নীলাগঞ্জ বাজার এলাকার বারবেড়িয়া গ্রামে রয়েছে এই জলাভূমি। কলকাতা থেকে দূরত্ব প্রায় ৪০-৪৫ কিলোমিটার। গত কয়েকবছর ধরে চর্চায় এই বর্তির বিল। বিলে ঘোরার জন্য থাকে প্রতিদিন থাকে ২৫-৩০টি রঙিন নৌকো। আর রাস্তার দুধারে সারি সারি পাটকাঠি দাঁড়ানো। আকাশ পরিষ্কার থাকলে তো ফটোশুটের জন্য একদম আদর্শ পরিবেশ।
আরও পড়ুন:
স্বাভাবিকভাবেই বর্ষা শুরু হতেই প্রতিবারের মতো এবারও বর্তির বিলে ভিড় জমাচ্ছেন সকলে। উদ্দেশ্য, প্রকৃতির মাঝে খানিকটা সময় কাটানোর পাশাপাশি ফটো তোলা। নৌকোয় করে ভেসে বেড়ানো বিলের বুকে। প্রতিদিন বাইকে চেপে বহু মানুষ ভিড় জমাচ্ছেন বর্তির বিলে। আসলে বিলের মাঝে ড্রোনে ছবি তুললে অপূর্ব লাগে। ফলে প্রতিদিনই কমপক্ষে ৭-১০ জন সেখানে প্রি ওয়েডিং ফটোশুটের জন্য আসে।
এতদিন স্রেফ নৌকোবিহারের জন্য গুণতে হত টাকা। এবার বাইক বা গাড়ি নিয়ে বর্তির বিলে গেলে পার্কিংয়ের জন্যও টাকা খরচ করতে হবে। জানা গিয়েছে, বাইক ও স্কুটারের ক্ষেত্রে ঘণ্টায় দিতে হবে ১০ টাকা। টোটো বা অটোর ক্ষেত্রে ২০ টাকা। ব্যক্তিগত গাড়ির ক্ষেত্রে ৩০ টাকা। বড় গাড়ির ঘণ্টায় ভাড়া ৫০ টাকা। বাসের ক্ষেত্রে তা ১০০ টাকা। অর্থাৎ বর্তির বিলে ঘোরার খরচ এবার বাড়ল।
আরও পড়ুন:
সোশাল মিডিয়ার দৌলতে বর্তির বিল পরিচিতি পেতে স্বাভাবিকভাবেই ওই এলাকার অর্থনীতি কিছুটা হলেও উন্নত হয়েছে। বিলের পাশে তৈরি হয়েছে ক্যাফে। সেখানে চা-কফি ছাড়াও নানারকম খাবার মেলে, ফলে কিছু মানুষের উপার্জন হয়। এবার ব্লক প্রশাসনের তরফে পার্কিং ফি চালু হওয়ায় সরকারের ঘরেও আসবে অর্থ। স্থানীয়রাও চাইছেন তাদের ‘বর্তির বিল’ সংলগ্ন এলাকা আরও সাজুক, গড়ে উঠুক পর্যটন কেন্দ্র।