নির্বাচকদের ১০ লক্ষ করে ঘুষ! পান সেরা ক্রিকেটারের সম্মানও, কাম্বলি নন, চেনেন শচীনের এই সতীর্থকে?
ব্যাটিং নয়, ক্রিকেট তাঁকে মনে রেখেছে এক কুকীর্তির জন্যই!
ঘটনার সূত্রপাত ১৯৮০-এর দশকে। সেসময়ে শচীনের পাশাপাশি বিনোদ কাম্বলি, যতীন পরাঞ্জপের মতো তারকাদের উত্থান দেখছে মুম্বই ক্রিকেট। সেসময়েই অন্যতম প্রতিভা ছিলেন ব্যাটার অভিজিৎ কালে। ১৯৮৭-৮৮ সালে তিনি জায়গা করে নেন মুম্বইয়ের অনূর্ধ্ব ১৭ দলে। ওই স্কোয়াডের অধিনায়ক ছিলেন শচীন স্বয়ং। মরশুম শেষে মুম্বইয়ের সেরা জুনিয়র ক্রিকেটারের পুরস্কারও পেয়েছেন অভিজিৎ। একই পুরস্কার পেয়েছিলেন শচীনও।
আরও পড়ুন:
এমন প্রতিভাবান ক্রিকেটার আগামী দিনে ভারতের জার্সিতে খেলবেন, নিশ্চিত ছিল ক্রিকেটমহল। সিনিয়র পর্যায়ে গিয়ে অবশ্য অভিজিতের পক্ষে মুম্বইয়ের তারকাখচিত দলে সুযোগ পাওয়াটা কঠিন হয়ে পড়ে। তবে ধাক্কা সামলে তিনি যোগ দেন মহারাষ্ট্রে। সেখানে গিয়ে আর আটকে রাখা যায়নি অভিজিৎকে। ঝুড়ি ঝুড়ি রান করেন। সেসময়ে ঘরোয়া ক্রিকেটের অন্য়তম তারকা অভিজিৎ।
কিন্তু মহারাষ্ট্র থেকে জাতীয় দলের রাডারে ঢুকে পড়তে ১০ বছর সময় লাগে। ১৯৯৯-২০০০ মরশুমে বরোদার বিরুদ্ধে অপরাজিত ২৪৮ রানের ইনিংস খেলে দেশজুড়ে হইচই ফেলে দেন অভিজিৎ। ফলো অনে নেমে দলের হার বাঁচানো সেই অনবদ্য ইনিংসের পর জাতীয় দলে অভিজিতের ডাক পাওয়া নিশ্চিত বলেই ধরে নিয়েছে ক্রিকেটমহল। ২০০১ সালে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে সেঞ্চুরি হাঁকান অভিজিৎ, ভারত 'এ' দলের জার্সি গায়ে।
কিন্তু জাতীয় দলের ডাক তখনও আসেনি। পরের বছর তিনি 'এ' দলের হয়ে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে যান। রান পেয়েছেন বোর্ড প্রেসিডেন্ট একাদশের হয়েও। শেষ পর্যন্ত ২৯ বছর ২৮৭ দিন বয়সে এসে প্রথমবার জাতীয় দলের জার্সিতে খেলতে নামেন অভিজিৎ। বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ওয়ানডে ম্যাচ খেলেন। কিন্তু ২২ বল খেলে মাত্র ১০ রান করেন। ওই একটা ম্যাচেই অভিজিতের কেরিয়ারে দাঁড়ি পড়ে যায়।
আরও পড়ুন:
২০০৩ সালের এপ্রিল মাসে ওই একটা ম্যাচের পর আর দ্বিতীয় সুযোগ পাননি মুম্বইয়ের এই ব্যাটার। একের পর এক সিরিজে তিনি সুযোগের অপেক্ষায় থেকেও ডাক পাননি। তারপরই জঘন্য কাণ্ড ঘটিয়ে ফেলেন অভিজিৎ। ২০০৩ সালে জাতীয় দলের নির্বাচক ছিলেন কিরণ মোরে, প্রণব রায়রা। তাঁদের প্রত্যেককে ১০ লক্ষ টাকা করে ঘুষ দিতে চেয়েছিলেন অভিজিৎ।
কখনও নিজে, কখনও বাবা-মা'কে দিয়ে ঘুষের প্রস্তাব পাঠানোর মতো বিস্ফোরক অভিযোগ ওঠে অভিজিতের বিরুদ্ধে। প্রথমে যাবতীয় অভিযোগ অস্বীকার করেন তিনি। পরে গোটা বিষয়টি নিয়ে বোর্ড তদন্ত শুরু করে। সেসময়ে অভিজিৎ স্বীকার করে নেন, টাকা দিয়ে নির্বাচকদের প্রভাবিত করার চেষ্টা করেছিলেন তিনি। তবে এই ঘটনার প্রমাণ মেলেনি। কিন্তু অভিজিতের স্বীকারোক্তির ভিত্তিতেই সাজা দেওয়া হয়।
২০০৪ সালের শেষ পর্যন্ত নিষিদ্ধ করা হয় অভিজিৎকে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলার স্বপ্ন শেষ হয়ে যায় চিরতরে। তবে ঘরোয়া ক্রিকেটে আজও জ্বলজ্বল করছে অভিজিতের পারফরম্যান্স। ৯৩টি প্রথম শ্রেণির ম্যাচ খেলে ৭১৩৪ রান করেছেন, ২৫টি সেঞ্চুরি এবং ২৮টি হাফসেঞ্চুরি হাঁকিয়েছেন। ৫৪.৪৫ গড় রয়েছে তাঁর। কিন্তু ব্যাটিংয়ের জন্য নয়, ক্রিকেট তাঁকে মনে রেখেছে এক কুকীর্তির জন্যই!