ফাল্গুন মাসের কৃষ্ণপক্ষের চতুর্দশীতে মহাশিবরাত্রি পালন করেন অনেকেই। মনস্কামনা পূরণের জন্য নির্জলা উপবাস করে চার প্রহরে শিবের পুজো করেন। চলতি বছরে শিবরাত্রি পড়েছে আগামী রবিবার অর্থাৎ ১৫ তারিখ। জানেন কি এই দিনে রাশি অনুযায়ী জামার রং বেছে নিলে খুলতে পারে ভাগ্য! চলুন আজ জেনে নিন শিবরাত্রিতে রাশি অনুযায়ী কোন রং আপনার জন্য আদর্শ। আপনি যদি মেষ রাশির জাতক হয়ে থাকেন তাহলে শিবরাত্রিতে পড়ুন সাদা ও...
২১২
শিবরাত্রিতে বৃষরাশির জাতকদের জন্য আদর্শ রং হল গোলাপী। এই রং পড়লে মানসিক শান্তি পাবেন। বাড়বে অর্থলাভের সম্ভাবনা।
'ধুরন্ধর' সিনেমায় পুত্র অক্ষয় খান্নার ব্লকবাস্টার পারফরম্যান্সের জেরে মাসখানেক ধরেই চর্চার শিরোনামে বিনোদ খান্না। খ্যাতির চূড়ায় থাকা এক তারকা কীভাবে মানসিক যন্ত্রণা থেকে নিস্তার পেতে আধ্যাত্মিক পথ বেছে নিয়েছিলেন এবং সংসার-সিনেজগৎকে 'আলবিদা' জানিয়ে সন্নাসগ্রহণ করেন, আবারও সেসব তথ্য লাইমলাইটে।
২১২
সম্প্রতি বিনোদ খান্নার দ্বিতীয় স্ত্রী কবিতা খান্না প্রয়াত তারকাকে নিয়ে বেশ কয়েকটি বিস্ফোরক তথ্য প্রকাশ্যে এনেছেন। যা কিনা এযাবৎকাল সিনেদুনিয়া থেকে ভক্তমহলের অগোচরেই রয়ে গিয়েছিল।
মারণরোগে আক্রান্ত হয়ে ২০১৭ সালে প্রয়াত হন বিনোদ খান্না। সেসময়ে জানা যায়, ২০১৭ সালে মূত্রথলিতে ক্যানসারের কারণে তাঁর মৃত্যু হয়েছে। কিন্তু সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে কবিতা জানান, ব্লাডার ক্যানসারের বহু আগেই ফুসফুসের ক্যানসারে আক্রান্ত হয়েছিলেন বিনোদ খান্না।
৪১২
কবিতা জানান, ২০০১ সালে নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার সময়ই চিকিৎসকরা নিশ্চিত করেন যে তিনি ফুসফুসের ক্যানসারে আক্রান্ত। অভিনেতাপত্নী জানান, দিনে ৪০ থেকে ৮০টি সিগারেট খেতেন বিনোদ। মুম্বইয়ের শীর্ষস্থানীয় চিকিৎসকরাও পরামর্শ দিয়েছিলেন যে তাঁর ফুসফুসের অর্ধেকটা কেটে বাদ দিতে হবে। কিন্তু অস্ত্রোপচারের আগেই ঘটে এক 'মিরাকল'! কেমন?
৫১২
কবিতা বলছেন, আধ্যাত্মিক গুরু শ্রী রবিশঙ্করের পরামর্শ মতো বিনোদ খান্না ঋষিকেশের আশ্রমে গিয়ে দিনে তিনবার প্রাণায়াম শুরু করেন। এরপরই জার্মানিতে চিকিৎসকরা স্ক্যান করতে গিয়ে দেখেন তাঁর ফুসফুসে মারণরোগের কোনও চিহ্নই নেই। কিন্তু কীভাবে সন্ন্যাসের পথে হাঁটেন সংসারী বিনোদ?
কবিতা খান্নার মন্তব্য, ছোটবেলা থেকেই ও খুব আধ্যাত্মিক। ১৭ বছর বয়সে 'অটোবায়োগ্রাফি অফ আ যোগী' বইটি যখন কিনতে গিয়েছিলেন, তখন সেই দোকানে ওশোও ছিলেন। কিন্তু সেদিন তাঁর উপস্থিতি বিনোদ বুঝতে পারেননি। আর ঠিক বিষয়টিই বারবার তাঁর মনকে নাড়া দিত। কিন্তু পরিবারে বেশ কিছু অঘটনের পরই পুরোপুরি আধ্যাত্মিক পথ অনুসরণ করেন তিনি। কীরকম?
৭১২
বিনোদপত্নীর কথায়, "পরিবারের বেশ কয়েকজনের মৃত্যু ওকে নাড়া দিয়েছিল। কিন্তু মায়ের মৃত্যু মেনে নিতে না পেরে সংসার, সিনেদুনিয়ার লাইমলাইট, অগণিত ভক্তদের থেকে পাওয়া ভালোবাসা, সবকিছুর মায়ামমতা ত্যাগ করে সরাসরি ওশোর চরণে গিয়ে ঠাঁই নেন।"
৮১২
বিনোদ খান্নার ওশো অধ্যায়ের কথা কারও অজানা নয়। কিন্তু এবার স্ত্রী কবিতা যা জানালেন, তাতে অবাক হতে হয়! বিনোদ খান্নার মতো তৎকালীন সুপারস্টার ওশোর ব্যক্তিগত বাগানে মালির কাজও করেছেন। কেন? কারণ সেখানে সকলের প্রবেশের অনুমতি ছিল না। কিন্তু মালি হওয়ায় অনায়াসেই ওশোর অন্দরমহলে যাতায়াত করতে পারতেন বিনোদ। আর এটাই ছিল গুরুর প্রতি তাঁর সেবা। শুধু তাই নয়!
৯১২
কবিতা জানান, ওশোর জন্য ডিজাইন করা দুর্দান্ত যে পোশাকগুলি তৈরি হত, সেগুলি বিনোদ খান্নার মাপ নিয়েই তৈরি করা হত। কারণ দু'জনের কাঁধের মাপ এবং শরীরী গড়ন একইরকম ছিল। শুধু কি তাই?
১০১২
পুনের আশ্রমে যাওয়ার আগে তিনি বোম্বের চৌপত্তি নামক সমুদ্র সৈকতে নগ্ন হয়ে একধরণের ধ্যানে বসতেন। শরীরে একটা সুতোও থাকত না তখন। এবং সেখানে ওশোর আরও অনেক অনুগামীরা অংশ নিতেন। মুম্বইয়ের মতো ব্যস্ত শহরে বিনোদ খান্নার মতো স্টারকে এভাবে নগ্ন অবস্থায় দেখলে কার কী প্রতিক্রিয়া হবে? সেসব দিকে কোনও ভ্রুক্ষেপই ছিল না অভিনেতার। কিন্তু জীবন ওলটপালট হয়ে যায় ওশো ছেড়ে যাওয়ার পর!
১১১২
কবিতা এও জানান, ওরেগাঁও থেকে ওশো এবং তাঁর অনুগামীদের যখন চলে যেতে বলা হয়, তখন বিনোদ খুব কষ্ট পেয়েছিলেন। তবে গুরুর আদেশ অক্ষরে অক্ষরে পালন করেছিলেন তিনি। আশির দশকের মাঝামাঝি সময়ে আবার বলিপাড়ায় ফিরে যান বিনোদ খান্না। সেসময়ে নাকি প্রায়ই স্ত্রী কবিতাকে বিনোদ বলতেন, আবারও সেটে ফেরার ইচ্ছের কথা। ক্যামেরার সামনে শট দিয়ে শান্ত মনে ভ্যানে ফেরার কথা। এবং অঝোরে কাঁদতে চাইতেন তখন।
১২১২
কিন্তু ওরেগাঁও থেকে চলে আসার পর বিনোদ খান্না আর কোনও দিন পুনে আশ্রমে যাননি বা ওশোর সাথে দেখা করেননি। পরে এক আধ্যাত্মিক গুরু নিজেই বলিউড অভিনেতার সঙ্গে যোগাযোগ করে পুনের আশ্রমের দায়িত্ব তাঁর হাতে সঁপে দিতে চেয়েছিলেন। কিন্তু এই প্রথমবার গুরুর 'অবাধ্য শিষ্য' হয়ে মুখের উপর 'না' বলেছিলেন বিনোদ খান্না। (ছবি- সংগৃহীত)
এক দিকে অর্থের স্রোতে ভেসে যেতে পারেন ক্রিকেটাররা। অন্যদিকে অর্থ আনতে গিয়ে কালঘাম ছোটে ক্রিকেটারদের। আইপিএল এবং পিএসএল। ভারত ও পাকিস্তানের দুই ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগের মধ্যে ব্যবধান সহস্র যোজনের।
২১২
কেন বলা হচ্ছে এ কথা? প্রমাণ দেওয়ার জন্য বহু তথ্যই পর্যাপ্ত। পাকিস্তান সুপার লিগের সবচেয়ে দামি ক্রিকেটার আইপিএলের আনক্যাপড খেলোয়াড় প্রশান্ত বীরের চেয়ে বহু গুণ কম উপার্জন করেন।
উত্তরপ্রদেশের অলরাউন্ডার প্রশান্ত বীর আইপিএলের মিনি নিলামে চমক দেখিয়েছেন। ৩০ লক্ষ বেস প্রাইসের এই তরুণ ক্রিকেটারকে ১৪.২০ কোটি টাকায় কিনেছে চেন্নাই সুপার কিংস। তিনি আসন্ন আইপিএলের অন্যতম দামি 'আনক্যাপড' ক্রিকেটার হিসাবে ইতিহাস গড়েছেন।
৪১২
পাকিস্তান সুপার লিগের ইতিহাসে সবচেয়ে দামি ক্রিকেটার স্টিভ স্মিথ। আইপিএলে দল পাননি। তাই মহাসমারোহে পিএসএলে হয়েছেন। পাকিস্তানি ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগের ১১তম সংস্করণে শিয়ালকোট স্ট্যালিওনজ অজি তারকাকে রেকর্ড টাকায় কিনেছে। তিনি পাবেন ১৪ কোটি পাকিস্তানি রুপি। ভারতীয় মুদ্রায় যা সাড়ে ৪ কোটি টাকা। অর্থাৎ যা প্রশান্ত বীরের চেয়ে প্রায় ১০ কোটি টাকা কম।
৫১২
এবার ফ্ল্যাশব্যাকে একবছর পিছিয়ে যাওয়া যাক। ২০২৫ সাল। আইপিএলের সবচেয়ে দামি ক্রিকেটার হিসেবে ইতিহাস গড়েছিলেন ঋষভ পন্থ। নিলামে তাঁকে ২৭ কোটি টাকা দিয়ে কিনেছিল লখনউ সুপার জায়ান্টস। সেই অর্থ স্মিথের প্রায় ২৩ কোটি টাকা বেশি। আবার পরিসংখ্যান ঘাঁটলে দেখা যাবে, আইপিএলের সবচেয়ে দামি ক্রিকেটারের বেতন পিএসএলের গত বছরের সবচেয়ে দামি প্রথম ১০ ক্রিকেটারের মিলিত বেতনের চেয়ে বহু গুণ বেশি।
গত পিএসএলের সবচেয়ে দামি ক্রিকেটার ছিলেন ডেভিড ওয়ার্নার। করাচি কিংসের হয়ে তিনি পেয়েছেন ২.৫৭ কোটি টাকা। পন্থের তুলনায় তা নগণ্য।
৭১২
এ বছর স্টিভ স্মিথ মোটা টাকা পেলেও তা আবার ২০২৬ আইপিএলের সবচেয়ে দামি খেলোয়াড় অস্ট্রেলিয়ান অলরাউন্ডার ক্যামেরন গ্রিনের তুলনায় 'শিশু'। কলকাতা নাইট রাইডার্স গ্রিনকে ২৫.২০ কোটি টাকায় কিনেছে। অর্থাৎ স্মিথের তুলনায় তাঁরই সতীর্থর দাম ১১ কোটি টাকার বেশি।
৮১২
২০২৬ সালের জানুয়ারিতে পিএসএল আটটি দলে সম্প্রসারিত হয়। হায়দরাবাদ এবং শিয়ালকোট ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলিকে প্রায় ৬.২৫ মিলিয়ন ডলার এবং ৬.৬ মিলিয়ন ডলারে বিক্রি করে। ভারতীয় মুদ্রায় যা ৫৬ কোটি এবং ৫৯ কোটি টাকা।
৯১২
উপরের পরিসংখ্যানের পর একবার ভাবুন, গত আইপিএলে ঋষভ পন্থ একাই পেয়েছিলেন ২৭ কোটি। শ্রেয়স আইয়ারকে পাঞ্জাব কিংস কিনেছিল ২৬.৭৫ কোটি টাকায়। সুতরাং দুই আইপিএল ক্রিকেটারের সম্মিলিত বেতন পাকিস্তানে একটি পেশাদার টি-টোয়েন্টি ফ্র্যাঞ্চাইজির মালিকানার মূল্যের সমান। এমন পরিসংখ্যান কেবল বেতন বৈষম্য নয়, বিশ্বব্যাপী খেলাধুলার ক্ষেত্রেও দুর্লভ দৃষ্টান্ত।
১০১২
নতুন পিএসএল দলগুলোর মূল্য প্রায় ৬.৫ মিলিয়ন ডলার হলেও আইপিএলের দিকে তাকালে তো চোখ কপালে উঠবে। ২০২১ সালে সঞ্জীব গোয়েঙ্কার আরপিএসজি গ্রুপ ৭,০৯০ কোটি টাকায় কেনা হয়েছিল। সুতরাং পিএসএলের সঙ্গে আইপিএলের পার্থক্যটা সহজেই বোঝা যাচ্ছে।
১১১২
তাছাড়াও পিএসএল চ্যাম্পিয়নদের পুরস্কার মূল্য ২০২৫-এর আইপিএলের চতুর্থ স্থানের পুরস্কারের চেয়েও কম। পিএসএলে জয়ী দল গত বছর পেয়েছিল পাকিস্তানি মূল্যে ১৪ কোটি টাকা। যা ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ৪.৫ কোটি টাকা। রানার্স দল পেয়েছিল ২ কোটি ৭০ লাখ টাকা।
১২১২
যদিও এক্ষেত্রেও বহু যোজন পিছিয়ে পিএসএল। ২০২৫ চ্যাম্পিয়ন দল রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু পেয়েছিল ২০ কোটি টাকা। রানার্স দল পেয়েছিল ১২ কোটি টাকা। তৃতীয় স্থানে থাকা দল ৭ কোটি টাকা। চতুর্থ স্থানে থাকা দল পেয়েছিল ৬.৫ কোটি। অর্থাৎ পিএসএলের চ্যাম্পিয়ন দলের পুরস্কার মূল্য আইপিএলের চতুর্থ স্থানে থাকা দলের পুরস্কার মূল্য চেয়ে অনেক কম।