ছুটির দিন অজান্তেই কিডনিকে বিপদে ফেলছেন না তো? অবিলম্বে বদলান এই ৬ অভ্যাস
উইকএন্ড মানেই দেরি করে ঘুম, বাইরে খাওয়া, ঘুরতে যাওয়া বা ঘণ্টার পর ঘণ্টা সিনেমা-গেমে ডুবে থাকা। কিন্তু এই অভ্যাসগুলিই অজান্তে কিডনি ও মূত্রথলির উপর চাপ তৈরি করতে পারে। পর্যাপ্ত জল পান না করা, প্রস্রাব চেপে রাখা, নুন বেশি খাওয়া, ঘুমের অনিয়ম, ফাস্ট ফুড এবং প্রয়োজন ছাড়াই ব্যথার ওষুধ খাওয়ার মতো অভ্যাস কিডনির স্বাস্থ্যের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। তাই ছুটির দিনেও কিছু অভ্যাসে সতর্ক থাকা জরুরি।
লং ড্রাইভ, সিনেমা দেখা, শপিং বা দীর্ঘক্ষণ গেম খেলার সময় অনেকেই টয়লেট যাওয়ার প্রয়োজন উপেক্ষা করেন। এক-আধবার প্রস্রাব আটকে রাখলে সাধারণত সমস্যা হয় না। তবে নিয়মিত দীর্ঘক্ষণ প্রস্রাব চেপে রাখার অভ্যাস মূত্রথলির স্বাভাবিক কার্যক্রমে সমস্যা তৈরি করতে পারে। দীর্ঘ সময় বাইরে থাকলে কোথায় টয়লেট আছে, আগে থেকে খেয়াল রাখুন। শরীর যখন প্রস্রাবের সংকেত দিচ্ছে, তখন অযথা তা আটকে রাখবেন না।
আরও পড়ুন:
উইকএন্ডের খাবারে নুনের পরিমাণ অজান্তেই বাড়ে। পিৎজা, চিপস, ইনস্ট্যান্ট নুডলস বা প্যাকেটজাত স্ন্যাকসে সোডিয়াম বেশি থাকতে পারে। অতিরিক্ত সোডিয়াম রক্তচাপ বাড়াতে পারে এবং শরীরের জল ও ইলেকট্রোলাইটের ভারসাম্য বজায় রাখতে কিডনিকে বেশি কাজ করতে হয়। দীর্ঘদিন উচ্চ রক্তচাপ থাকলে ক্রনিক কিডনি ডিজিজের ঝুঁকিও বাড়ে। তাই সপ্তাহান্তে বাইরে খেলেও পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে রাখুন এবং প্যাকেটজাত খাবারের লেবেলে সোডিয়ামের মাত্রা দেখে নিন।
জিম, খেলাধুলা, ট্রেকিং বা দীর্ঘক্ষণ হাঁটার পর শরীরে ব্যথা হলে অনেকেই চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়াই পেনকিলার খান। পেনকিলার কিডনিতে রক্তপ্রবাহ কমাতে পারে। বিশেষ করে শরীরে জলের ঘাটতি থাকলে কিছু মানুষের ক্ষেত্রে এগুলি হঠাৎ কিডনির কার্যক্ষমতা কমিয়ে দিতে পারে। তাই প্রয়োজন ছাড়া নিয়মিত পেনকিলার না খাওয়াই ভালো। কিডনির সমস্যা, ডিহাইড্রেশন বা অন্য কোনও শারীরিক অসুস্থতায় ওষুধ খাওয়ার আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
সপ্তাহের অন্য দিনগুলিতে নিয়ম মেনে ঘুমালেও ছুটির দিন গভীর রাত পর্যন্ত জেগে থাকা এবং দুপুর পর্যন্ত ঘুমানোর অভ্যাস শরীরের স্বাভাবিক ঘড়িকে বিগড়ে দিতে পারে। এই অনিয়মকে বলা হয় ‘সোশাল জেট ল্যাগ’। দীর্ঘদিন ঘুমের অনিয়ম স্থূলতা, ডায়াবিটিস ও উচ্চ রক্তচাপের পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে। এগুলি আবার দীর্ঘমেয়াদে কিডনি রোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। তাই উইকএন্ডেও ঘুমের সময় খুব বেশি বদলে ফেলবেন না।
আরও পড়ুন:
উইকএন্ড মানেই বার্গার, পিৎজা, ফ্রায়েড চিকেন, চিপস বা মিষ্টি পানীয় হলে শরীরে অতিরিক্ত ক্যালরি, নুন ও অস্বাস্থ্যকর ফ্যাট ঢুকতে পারে। প্রতি সপ্তাহে নিয়ম করে এমন খাবার খেলে ওজন বেড়ে যাওয়া, ডায়াবিটিস ও উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি বাড়তে পারে। এই সমস্যাগুলিই আবার কিডনি রোগের গুরুত্বপূর্ণ কারণ। তাই বাইরে খেলেও বাড়ির ডায়েটে সবুজ শাকসবজি, ফল ইত্যাদি প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার রাখুন।
কিডনি রোগকে ‘নীরব ঘাতক’ বলা হয়। তাই সপ্তাহান্তের ছোট ছোট অভ্যাসেও নজর দিন। পর্যাপ্ত জল পান করুন, অতিরিক্ত নুন ও অ্যালকোহল কমান, অপ্রয়োজনে পেনকিলার খাবেন না, প্রস্রাব চেপে রাখবেন না এবং ঘুমের সময় ঠিক রাখুন। ডায়াবিটিস, উচ্চ রক্তচাপ বা কিডনি রোগের ঝুঁকি থাকলে নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানোও জরুরি। কিডনি সপ্তাহের সাত দিনই কাজ করে, যত্নও তাই প্রতিদিনই দরকার।