krishna and yashoda

জননীর শাস্তি ভালোবাসারই প্রতিরূপ নয় কি? যশোদা-কৃষ্ণের সম্পর্ক থেকে যে ৪ শিক্ষা নিতে পারেন আজকের মায়েরা

সমগ্র জগৎ সংসার কানাইয়ের মর্ম বোঝার আগে, বুঝেছিলাম মা যশোদা। কারণ মা যেভাবে তাঁর সন্তানকে চেনেন, তেমনটা হয়তো পৃথিবীর অন্য কোনও নিকট আত্মীয়ের পক্ষেই সম্ভব নয়।

Advertisement
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: মে ২, ২০২৬, ২০:২২

options
link
জননীর শাস্তি ভালোবাসারই প্রতিরূপ নয় কি? যশোদা-কৃষ্ণের সম্পর্ক থেকে যে ৪ শিক্ষা নিতে পারেন আজকের মায়েরা
সন্তানকে শাস্তি দিতে হচ্ছে, কিন্তু তা বলে কি মা তাকে ভালোবাসবে না আর?

পেটে ধরেননি ঠিকই, তবে শ্রীকৃষ্ণের জননী বলতে প্রথমেই মা যশোদার (krishna and yashoda) নাম মনে আসে ভক্তকূলের। তাঁদের মা-সন্তানের সম্পর্ক দৈবের গণ্ডি পেরিয়ে যেন হয়ে ওঠে মানবিক। দুরন্ত ছেলের সঙ্গে মায়ের খুনসুটি, শাসনের মধ্যে দিয়েই খুঁজলে পাওয়া যায় এমন বহু শিক্ষণীয় বার্তা, তা বর্তমান প্রেক্ষাপটেও দিব্যি খাটে। আধুনিক মায়েরাও যদি সন্তানপালনের ক্ষেত্রে এই ৫ শিক্ষা মাথায় রাখেন, তবে সংসারে সুখ আসে। সন্তানও বেড়ে ওঠে প্রকৃত মানুষের মতো।

Advertisement
4-parenting-lessons-derived-from-krishna-and-maa-yashodas-relation
সমগ্র জগৎ সংসার কানাইয়ের মর্ম বোঝার আগে, বুঝেছিলাম মা যশোদা

১। শ্রীকৃষ্ণ যে ছোট থেকেই বড় দুরন্ত, প্রায়শই তাঁর দুষ্টুমিতে অতিষ্ঠ হয়ে পড়ে বৃন্দাবনবাসী, তা জানেন তাঁর ভক্তরা। এর জন্য মা যশোদা তাঁকে শাসন করতেন ঠিকই, তবে ভালোবাসতেন সমপরিমাণ। প্রত্যেক মায়েরই উচিৎ, সন্তানকে সহবৎ শেখানোর পাশাপাশি তার স্বকীয় গুণগুলিকেও মেনে নেওয়া। অর্থাৎ যে শিশু অশান্ত, তাঁকে শান্ত হওয়ার জন্য জোরজার না করাই শ্রেয়।

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement

২। সন্তানের নিরাপত্তা নিয়ে সর্বদা চিন্তিত থাকতেন মা যশোদা। শাস্তিস্বরূপ শ্রীকৃষ্ণকে থামের সঙ্গে বেঁধে রেখেছেন, এমনটাও দেখা গিয়েছে। কিন্তু তা বলে তার বাইরে যাওয়া, বন্ধুদের সঙ্গে মেলামেশাকে পুরোপুরি আটকে দেননি। সন্তানকে নিরাপদ রাখার অর্থ যে তাকে এক জায়গায় আবদ্ধ করে ফেলা নয়, এই শিক্ষা নিতে হয় তাঁদের কাহিনী থেকে। মাত্রাতিরিক্ত বাধা দিলে বরং হীতে বিপরীত হতে পারে।

Advertisement

৩। সন্তান দুষ্টুমি করছে, তাকে শাস্তি দিতে হচ্ছে, কিন্তু তা বলে কি মা তাকে ভালোবাসবে না আর? মা যশোদা রেগে গিয়েছেন নন্দলালের প্রতি। কিন্তু সে কেঁদে ক্ষমা চাওয়া মাত্র নিজেও ভেসেছেন চোখের জলে। বর্তমানে অনেক মা-ই শাস্তি ও ভালোবাসার মাঝের সীমা নির্ধারণ করে উঠতে পারেন না। সন্তানকে মানুষ করে গড়ে তোলার ক্ষেত্রে যে তিরস্কারের মতোই জরুরি স্নেহ, তা কখনওই ভুললে চলে না।

4-parenting-lessons-derived-from-krishna-and-maa-yashodas-relation
মা যশোদা তাঁকে শাসন করতেন ঠিকই, তবে ভালোবাসতেন সমপরিমাণ

৪। সমগ্র জগৎ সংসার কানাইয়ের মর্ম বোঝার আগে, বুঝেছিলাম মা যশোদা। কারণ মা যেভাবে তাঁর সন্তানকে চেনেন, তেমনটা হয়তো পৃথিবীর অন্য কোনও নিকট আত্মীয়ের পক্ষেই সম্ভব নয়। বাস্তব প্রেক্ষাপটেও একইরকম সাযুজ্যপূর্ণ এই কথা। সন্তানের প্রতিভা কিংবা খামতি ধরা পড়ছে কি-না, সে বিষয়ে সকলের আগে সচেতন হতে হবে মাকেই।

প্রাত্যহিক জীবনে প্রত্যেক মুহূর্ত সন্তানের চিন্তায় ব্যতিবস্ত থাকতেন মায়েরা। সন্তানের ওপর অভিমানে গুমরে ওঠেন, পরক্ষণেই আবার ক্ষমা করে টেনে নেন বুকে। আর এভাবেই অতিসাধারণ কোনও মা-সন্তান একাত্ম হয়ে যান যশোদা ও শ্রীকৃষ্ণের সঙ্গে।

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন