Gaudiya Mission

বিশ্বজুড়ে চৈতন্যপ্রেমের জোয়ার, বিশ্বব্যাপী শান্তিবার্তা ছড়িয়ে কলকাতায় ফিরলেন মহারাজ

শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর চিরন্তন প্রেমের বার্তা নিয়েই বিশ্বজয় করে ফিরলেন গৌড়ীয় মিশনের সভাপতি ও আচার্য্য ভক্তি সুন্দর সন্ন্যাসী মহারাজ।

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: জুলাই ৮, ২০২৬, ১৮:১৫

options
link
বিশ্বজুড়ে চৈতন্যপ্রেমের জোয়ার, বিশ্বব্যাপী শান্তিবার্তা ছড়িয়ে কলকাতায় ফিরলেন মহারাজ
বিশ্বজয় করে বাগবাজারে ফিরলেন গৌড়ীয় মিশনের আচার্য্য।

যুদ্ধ, রাজনীতি আর ক্ষমতার দম্ভে বিশ্ব আজ রক্তাক্ত। দিকে দিকে শুধুই হাহাকার, অস্থিরতা। সভ্যতার এই চরম সংকটে শান্তির খোঁজে মানুষ যখন দিশেহারা, তখনই মুক্তির আলো দেখাচ্ছে পাঁচশো বছর আগের এক বাঙালি সন্ন্যাসীর প্রেম ও ভক্তির বাণী। শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর সেই চিরন্তন প্রেমের বার্তা নিয়েই বিশ্বজয় করে ফিরলেন গৌড়ীয় মিশনের সভাপতি ও আচার্য্য ভক্তি সুন্দর সন্ন্যাসী মহারাজ। ইউরোপ ও আমেরিকার মাটি ছুঁয়ে, অশান্ত হৃদয়ে শান্তির প্রলেপ দিয়ে সম্প্রতি কলকাতায় পা রাখলেন তিনি।

Advertisement

গত ১৪ মে কলকাতার বাগবাজার থেকে সহযাত্রী মাধব মহারাজকে সঙ্গে নিয়ে এক দীর্ঘ বিদেশ সফরে বের হয়েছিলেন সন্ন্যাসী মহারাজ। লন্ডনের ঐতিহাসিক শ্রী বাসুদেব গৌড়ীয় মঠ থেকে শুরু হয়েছিল এই আধ্যাত্মিক যাত্রা। এরপর একে একে অস্ট্রিয়া, জার্মানি হয়ে তাঁরা পৌঁছন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা, নিউ ইয়র্ক ও রচেস্টার গৌড়ীয় মঠে। কলম্বিয়া ও কোস্টারিকার মতো মধ্য আমেরিকার দেশগুলোতেও চলেছে ধারাবাহিক ধর্মসভা আর হরিনাম সংকীর্তন। সফরের শেষ লগ্নে কানাডার মাটিতেও সাড়া জাগায় তাঁদের এই প্রচার।

Advertisement

কলকাতায় ফিরে আচার্য্য মহারাজ বর্তমান বিশ্বের আসল অসুখটি ধরিয়ে দিলেন। তাঁর মতে, আজকের পৃথিবীর মূল সংকট কেবল অর্থনৈতিক বা রাজনৈতিক নয়, আসলে এটি এক গভীর আধ্যাত্মিক সংকট। অন্তরের শান্তি হারিয়েই মানুষ মেতে উঠছে হিংসা আর হানাহানিতে। এই অতৃপ্তি দূর করতে মহাপ্রভুর প্রেম, করুণা ও সর্বজনীন ভ্রাতৃত্বের শিক্ষা আজ বড্ড প্রাসঙ্গিক।

Advertisement

এই সফরের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য ছিল জগৎগুরু ভক্তিসিদ্ধান্ত সরস্বতী প্রভুপাদ প্রতিষ্ঠিত ‘পরাবিদ্যাপীঠ’-এর দর্শনকে বিশ্বের দরবারে তুলে ধরা। মহারাজ স্পষ্ট জানান, শুধু জাগতিক শিক্ষা বা ‘অপরাবিদ্যা’ দিয়ে সমাজকে শান্ত রাখা সম্ভব নয়। ভোগবাদী জীবনের মোহ কাটিয়ে প্রকৃত মানবিক সমাজ গড়তে আধ্যাত্মিক শিক্ষা বা ‘পরাবিদ্যা’ চর্চা আজ জরুরি হয়ে পড়েছে।

বিদেশের মাটিতে এই প্রচার যে বিপুল সাড়া ফেলেছে, তা মহারাজের কথাতেই স্পষ্ট। কলম্বিয়া, কানাডা কিংবা ইউরোপের অজস্র মানুষ অধীর আগ্রহে যোগ দিয়েছিলেন এই সব সংকীর্তন ও আলোচনায়। যান্ত্রিক জীবনের ক্লান্তি ভুলে বহু বিদেশি মানুষ খুঁজে পেয়েছেন পরম শান্তির খোঁজ। মহাপ্রভুর ভাবধারার আলোয় আলোকিত হয়ে তাঁরা স্বীকার করেছেন, ভোগবাদে নয়, প্রকৃত আনন্দ লুকিয়ে আছে এই আধ্যাত্মিক দর্শনেই। পরিশেষে মহারাজ জানান, বিশ্বের দরবারে চৈতন্যের প্রেম বিলিয়ে দেওয়াই ছিল তাঁর মূল লক্ষ্য, আর তাতেই মিলেছে পরম প্রাপ্তি।

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.