Guru Purnima 2026

আদিযোগী শিবের হাত ধরেই শুরু গুরু-শিষ্য পরম্পরা, গুরু পূর্ণিমার আগে রইল পুরাণ-কথা

২৯ জুলাই, বুধবার পালিত হতে চলেছে গুরু পূর্ণিমা উৎসব। কিন্তু মানবসভ্যতায় এই গুরু-শিষ্য পরম্পরার প্রথম সূচনা কীভাবে হয়েছিল? জানুন সেই পৌরাণিক কাহিনি।

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: জুলাই ২৭, ২০২৬, ১৬:১৯

options
link
আদিযোগী শিবের হাত ধরেই শুরু গুরু-শিষ্য পরম্পরা, গুরু পূর্ণিমার আগে রইল পুরাণ-কথা
কীভাবে সূচনা হল পবিত্র গুরু-শিষ্য ধারার?

অন্ধকার কাটিয়ে আলোর পথ দেখান যিনি, তিনিই গুরু। ভারতীয় সনাতন সংস্কৃতিতে গুরু কেবল পথপ্রদর্শক নন, ঈশ্বরের চেয়েও তাঁর স্থান উচ্চে। আষাঢ় মাসের পূর্ণিমা তিথিতে পালিত হয় পবিত্র গুরু পূর্ণিমা (Guru Purnima 2026)। কেবল শিক্ষাগুরু বা আধ্যাত্মিক সাধকদের প্রণাম জানানোর দিন এটি নয়, বরং জীবন চেতনায় মহাজ্ঞানের পরম আলো প্রত্যক্ষ করার এক পরম লগ্ন। ২০২৬ সালে ২৯ জুলাই, বুধবার পালিত হতে চলেছে এই পূণ্য উৎসব। কিন্তু মানবসভ্যতায় এই গুরু-শিষ্য পরম্পরার প্রথম সূচনা কীভাবে হয়েছিল? জানেন সেই পৌরাণিক কাহিনি?

Advertisement
Guru Purnima 2026: Discover why Lord Shiva is the Adi Guru
ফাইল ছবি

কী সেই পুরাণ কথা?
পৌরাণিক কাহিনি অনুসারে, স্বয়ং দেবোদেব মহাদেবই এই ধরাধামের প্রথম গুরু বা ‘আদিগুরু’। হাজার হাজার বছর আগে হিমালয়ের কোলে সুগভীর সমাধিতে মগ্ন ছিলেন শিব। ধ্যানভঙ্গের পর তিনি দেখেন, পরম জ্ঞান লাভের তীব্র তৃষ্ণা নিয়ে তাঁর সম্মুখে বসে আছেন সাতজন ঋষি—সপ্তর্ষি। তাঁদের দীর্ঘ তপস্যা ও জ্ঞানার্জনের আকুলতা দেখে মহাদেব প্রসন্ন হন। আষাঢ় পূর্ণিমার পূণ্য তিথিতে শিব ধারণ করলেন ‘দক্ষিণামূর্তি’ রূপ।

Advertisement

সেই রূপেই তিনি সপ্তর্ষির হাতে তুলে দিলেন পরম ব্রহ্মজ্ঞান। পরবর্তীতে মহাদেবের কাছ থেকে দীক্ষিত ও আলোকিত হয়ে সেই সাত ঋষি পৃথিবীর কোণায় কোণায় ছড়িয়ে পড়লেন। সাধারণ মানুষকে দেখালেন ধর্ম, চেতনা ও জীবনের সঠিক দিশা। এভাবেই আদিগুরুর হাত ধরে মর্ত্যে প্রবর্তিত হল গুরু-শিষ্য পরম্পরার চিরন্তন সোপান।

Advertisement

গুরু পূর্ণিমাকে ‘ব্যাস পূর্ণিমা’ কেন বলে?
গুরু পূর্ণিমার এই আলোকময় উৎসবের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে রয়েছে মহর্ষি বেদব্যাসের নাম। লোকবিশ্বাস, আষাঢ় পূর্ণিমার এই তিথিতেই জন্ম নিয়েছিলেন তিনি। মানবজাতির কল্যাণার্থে চার বেদকে লিপিবদ্ধ ও বিভক্ত করার পাশাপাশি ১৮টি পুরাণ এবং ‘মহাভারত’-এর মতো মহাকাব্য রচনা করেন তিনি। বিশ্বকে জ্ঞানের এই বিপুল ভাণ্ডার উপহার দেওয়ার জন্য মহর্ষি বেদব্যাসকে মানব ইতিহাসের অন্যতম শ্রেষ্ঠ গুরু রূপে পুজো করা হয়।

তাই এই তিথিটি ‘ব্যাস পূর্ণিমা’ নামেও সমধিক পরিচিত। কথিত আছে, গুরুর কৃপা ছাড়া সংসার-অন্ধকার পেরোনো অসম্ভব। শিব যেভাবে সপ্তর্ষিকে অজ্ঞতার অন্ধকার থেকে আলোর জ্যোতিতে এনেছিলেন, তেমনি গুরুই শিষ্যকে দেখান মুক্তির পথ।

গুরু পূর্ণিমার পূজা ও তিথির সময়সূচি
পূর্ণিমা তিথি আরম্ভ: ২৮ জুলাই, সন্ধে ৬টা ১৮ মিনিট।
পূর্ণিমা তিথি সমাপ্তি: ২৯ জুলাই, রাত ৮টা ০৫ মিনিট।
পূজার শুভ মুহূর্ত: ২৯ জুলাই, ভোর ৫টা ৪১ মিনিট থেকে সকাল ৯টা ০৫ মিনিট।

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.