Temple Stairs

মন্দিরের সিঁড়িতে বসে এই কাজ করলেই রুষ্ট হন ঈশ্বর, জানুন শাস্ত্রের নিয়ম

দেবদর্শনের পর আমরা কেউ কেউ মন্দিরের সিঁড়িতে কিছুক্ষণ বসি। আপাতদৃষ্টিতে এই অভ্যাসটি অত্যন্ত সাধারণ। কিন্তু এর পিছনে রয়েছে এক গভীর আধ্যাত্মিক রহস্য। শাস্ত্রমতে, এই সামান্য বসার অভ্যাসে যদি একটুও ত্রুটি থাকে, তবে পুণ্যলাভের বদলে জীবনে নেমে আসতে পারে চরম অমঙ্গল।

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: মে ২৭, ২০২৬, ২১:১৩

options
link
মন্দিরের সিঁড়িতে বসে এই কাজ করলেই রুষ্ট হন ঈশ্বর, জানুন শাস্ত্রের নিয়ম
শাস্ত্রজ্ঞদের মতে, একটি গোটা মন্দিরের অবয়ব আসলে স্বয়ং ঈশ্বরের মূর্ত প্রতীক।

মন্দিরের গর্ভগৃহে এক অদ্ভুত প্রশান্তি। ধূপ-ধুনোর গন্ধ আর ঘন্টির শব্দ। মন ভালো হয়ে যায় নিমেষেই। দেবদর্শনের পর আমরা কেউ কেউ মন্দিরের সিঁড়িতে কিছুক্ষণ বসি। আপাতদৃষ্টিতে এই অভ্যাসটি অত্যন্ত সাধারণ। কিন্তু এর পিছনে রয়েছে এক গভীর আধ্যাত্মিক রহস্য। শাস্ত্রমতে, এই সামান্য বসার অভ্যাসে যদি একটুও ত্রুটি থাকে, তবে পুণ্যলাভের বদলে জীবনে নেমে আসতে পারে চরম অমঙ্গল।

Advertisement

শাস্ত্রজ্ঞদের মতে, একটি গোটা মন্দিরের অবয়ব আসলে স্বয়ং ঈশ্বরের মূর্ত প্রতীক। মন্দিরের শিখর বা চূড়াকে যদি ঈশ্বরের মুখমণ্ডল ধরা হয়, তবে প্রবেশপথের সিঁড়িগুলি হল তাঁর ‘চরণপাদুকা’ বা পদযুগল। সেই কারণেই ভক্তরা মন্দিরে ঢোকার আগে পরম ভক্তিতে সিঁড়ি স্পর্শ করে প্রণাম করেন। মনে করা হয়, ভগবানের চরণের কাছে বসে মনে মনে প্রার্থনা জানালে তা সরাসরি ঈশ্বরের দরবারে পৌঁছায়।

Advertisement
ফাইল ছবি

তবে দেবদর্শনের পর সিঁড়িতে বসার একটি বিশেষ নিয়ম রয়েছে। সিঁড়িতে বসে আপনি কী ভাবছেন বা কী করছেন, তা আপনার ভাগ্য নির্ধারণ করতে পারে। পুজো শেষে সিঁড়িতে শান্ত হয়ে বসে চোখ বন্ধ করে ঈশ্বরের ধ্যান করা উচিত। শাস্ত্রে এই সময় একটি বিশেষ শ্লোক পাঠ করার কথা বলা হয়েছে— ‘অনায়াসেন মরণম, বিনা দৈন্যেন জীবনম। দেহান্ত তব সানিধ্যম, দেহি মে পরমেশ্বরম।’ অর্থাৎ, হে পরমেশ্বর! শেষ জীবনে যেন কোনও কষ্ট পেতে না হয়, জীবন যেন কাটে সচ্ছলতায় এবং মৃত্যুর পর যেন তোমার শ্রীচরণে স্থান পাই।

Advertisement

কিন্তু এখানেই আমরা ভুল করি। বহু মানুষই মন্দিরের সিঁড়িকে আড্ডার জায়গা বানিয়ে ফেলেন। সেখানে বসে সংসারের কূটকচালি থেকে শুরু করে ব্যবসা-বাণিজ্য, পরনিন্দা বা রাজনীতির আলোচনাও চালিয়ে যান নির্দ্বিধায়। শাস্ত্র বলছে, এই পবিত্র ও ইতিবাচক শক্তির কেন্দ্রে বসে নেতিবাচক আলোচনা করলে তার মারাত্মক বিরূপ প্রভাব পড়ে ব্যক্তির ওপর। পুণ্য তো দূর অস্ত, উলটে ক্ষতি হয় নিজেরই।

তাই এবার থেকে মন্দিরে গেলে কয়েকটি বিষয় অবশ্যই মাথায় রাখুন। মন্দিরে প্রবেশের আগে হাত-পা ভালো করে ধুয়ে নিন। মন্দির চত্বরে উচ্চস্বরে কথা বলা বা চিৎকার করা থেকে বিরত থাকুন। সমস্ত রকম সাংসারিক অশান্তি ও পরচর্চার আলোচনা মন্দির প্রাঙ্গণের বাইরেই রাখুন। দর্শন শেষে সিঁড়িতে কিছুক্ষণ নীরবে বসুন, চোখ বুজে ঈশ্বরের রূপ কল্পনা করুন। আর অবশ্যই, মন্দিরের পবিত্র পরিবেশ নোংরা করবেন না। মন শান্ত রাখলেই মিলবে করুণাময়ীর পরম কৃপা।

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.