১২ বছরে প্রথমবার সংসদে হারের মুখ দেখতে হয়েছে। মহিলা সংরক্ষণ সংশোধনী এবং আসন পুনর্বিন্যাস আইন সংসদে পাশ করাতে পারেনি মোদি সরকার। সেই হার যেন কিছুতেই হজম হচ্ছে না বিজেপির। সংসদের বাদল অধিবেশনে যেনতেনপ্রকারে ওই বিলদু’টি পাশ করাতে মরিয়া কেন্দ্র। সেই লক্ষে ইতিমধ্যেই জাতীয় রাজনীতিতে ভাঙাগড়া শুরু হয়েছে। তবে কেন্দ্র জানে, বিল পাশ করাতে শুধু বিরোধীদের ভাঙন যথেষ্ট নয়। বিরোধী শিবিরের একটা অংশের সমর্থনও প্রয়োজন। এবার সেই লক্ষ্যে মাস্টারস্ট্রোক দেওয়ার ভাবনা মোদি সরকারের।
মোদি সরকারের মূল উদ্দেশ্য যেভাবেই হোক আসন পুনর্বিন্যাস আইন পাশ করানো। বিরোধীদের অভিযোগ, নিজেদের সুবিধামতো আসন কাঠামোয় বদল ঘটিয়ে সরকার লোকসভা নির্বাচনের আগে বিরোধীদের লড়াই আরও কঠিন করে দিতে চাইছে। কিন্তু সরকার মরিয়া। সম্ভবত সে কারণেই তৃণমূলের যে সব সাংসদদের এতদিন বিজেপি অচ্ছুৎ মনে করত, লোকসভায় তাঁদের সমর্থন নিতেও পিছপা হচ্ছে না মোদি সরকার। উদ্ধব সেনাতেও ভাঙন ধরানো হয়েছে। কথা চলছে ডিএমকে-এনসিপির সঙ্গে। কিন্তু ডিএমকের সমর্থন জোগাড় করাটা এক্ষেত্রে মুশকিল। সেই মুশকিল আসান করতেই আসরে নামছেন খোদ কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।
আরও পড়ুন:
আসলে আসন পুনর্বিন্যাসের বিরোধিতায় ক্ষেত্রে কংগ্রেস-সহ ইন্ডিয়া জোটের মূল আপত্তির কারণ ছিল, উত্তর-দক্ষিণ সাম্য নিয়ে উদ্বেগ। বিরোধী শিবিরের দাবি ছিল, আসন পুনর্বিন্যাস পাশ হলে বেশি জনসংখ্যার অজুহাত দেখিয়ে উত্তর ভারতের রাজ্যগুলির আসনসংখ্যা বেশি বাড়বে, আর দক্ষিণের রাজ্যগুলি যেহেতু জনসংখ্যা অনেকটা নিয়ন্ত্রণ করে ফেলেছে, তাই দক্ষিণের রাজ্যগুলির আসন তুলনায় কম বাড়বে। যদিও আগেরবার সংসদে এই বিল পেশ করার সময় অমিত শাহ সাফ বলে দিয়েছিলেন, জনসংখ্যার ভিত্তিতে নয়, বরং লোকসভার আসন বাড়ানো হবে শতাংশের বিচারে। সব রাজ্যের এখন যা আসন রয়েছে, সেটার ৫০ শতাংশ আসন বাড়ানো হবে। কিন্তু বিলের খসড়ায় সেটা লিখিত আকারে ছিল না। আর সেটাই বিরোধীদের আপত্তির মূল জায়গা। কংগ্রেস বলছিল, মোদি সরকার যেটা মুখে বলছে, সেটা বিলে লিখিত আকারে নেই কেন? পরে যদি সরকার অবস্থান বদল করে, তার দায় কে নেবে। সেই যুক্তিতেই ডিএমকে-সহ দক্ষিণের দলগুলি বিলটির বিরোধিতা করে।
এবার বিরোধীদের মূল ওই আপত্তির জায়গাটাই উড়িয়ে দিয়ে চায় মোদি সরকার। আসলে ইদানিং কংগ্রেসের উপর ক্ষুব্ধ ডিএমকে। এম কে স্ট্যালিন আর ইন্ডিয়া জোটের অংশ নন। শোনা যাচ্ছে, বিজেপির সঙ্গে নাকি কথাবার্তাও চালাচ্ছে তারা। যদি ডিএমকে সমর্থনে রাজি হয়, তাহলে ওই ৫০ শতাংশ আসনবৃদ্ধি বিলের খসড়ায় সংযুক্ত করতেও আপত্তি নেই সরকারের। অর্থাৎ, যেটা ডিএমকের মূল আপত্তির জায়গা, সেটাই উড়িয়ে দিতে রাজি কেন্দ্র। সেটা হলে ডিএমকে সমর্থনে রাজি হলেও হতে পারে।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
‘আমরা আসছি’, ভারত সফরের আগে সোশাল মিডিয়ায় বিশেষ বার্তা ব্রাজিল দলের
-
প্রোমোটারের কাছ থেকে ১ লক্ষ টাকা ঘুষ! কনস্টেবলকে হাতেনাতে ধরল দুর্নীতি দমন শাখা
-
বাংলার পর অসমের মামলাতেও জামিন, ১৩ বছর পর বিরাট স্বস্তিতে সারদা কর্তা সুদীপ্ত সেন
-
পুকুরে ভেসেই কাটছিল জীবন! অনন্ত আম্বানির হস্তক্ষেপে মুম্বইয়ে চিকিৎসা পাচ্ছে মুর্শিদাবাদের সেই ইকবাল
-
এবার রাজ্য ও জাতীয় টেবিল টেনিস দলকে স্পনসর করবে রাজ্যের পর্যটন দপ্তর! বড়সড় ইঙ্গিত মন্ত্রীর