এবার থেকে নবম শ্রেণিতে নয়, অষ্টম শ্রেণিতে উঠলেই বিনামূল্যে পড়ুয়াদের সাইকেল দেবে সরকার। গত কয়েকদিন আগে ‘সারথি’ প্রকল্পের সূচনা করে এমনটা ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শুধু তাই নয়, এই প্রকল্পের জন্য সাইকেল বাংলাতেই তৈরি হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। এজন্য যে শিল্পগোষ্ঠী বা সংস্থা সাইকেল বানাতে চাইবে, তাদের বিনামূল্যে জমি দেওয়া হবে বলেও ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। আর এই ঘোষণায় নতুন করে আশার আলো তৈরি হয়েছে শিল্পাঞ্চল আসানসোলে। শুধু তাই নয়, রাজ্য পুর ও নগরন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পালের মন্তব্য ঘিরে তৈরি হয়েছে আরও জল্পনা। রাজ্যে ‘সারথি’ প্রকল্পের মাধ্যমে পড়ুয়াদের সাইকেল বিলি অনুষ্ঠানকে সামনে রেখে আসানসোলের শিল্প ভবিষ্যৎ এবং কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্তের ইঙ্গিত পুর মন্ত্রীর মুখে।
একসময় ১৯৫২ সালে পথ চলা শুরু করা আসানসোলের বিখ্যাত সেনরেল কারখানায় তৈরি ‘বলাকা’ বা ‘হ্যামার’ মডেলের সাইকেল শুধু বাংলাতেই নয়, বিশ্বজুড়ে সমাদৃত ছিল।
আরও পড়ুন:
শনিবার আসানসোল দক্ষিণ বিধানসভা কেন্দ্রের বল্লভপুর রামগোপাল সরাফ বিদ্যাপীঠ স্কুলে আয়োজিত অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের হাতে সারথি প্রকল্পে সাইকেল তুলে দেওয়া হয়। সেখানেই রাজ্যে সাইকেল তৈরির প্রশাসনিক ঘোষণার রেশ ধরেই মন্ত্রী আসানসোলে পুনরায় সাইকেল তৈরির কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার কথা বলেন।
একসময় ১৯৫২ সালে পথ চলা শুরু করা আসানসোলের বিখ্যাত সেনরেল কারখানায় তৈরি ‘বলাকা’ বা ‘হ্যামার’ মডেলের সাইকেল শুধু বাংলাতেই নয়, বিশ্বজুড়ে সমাদৃত ছিল। ২০০১ সালে কারখানাটি বন্ধ হয়ে গেলেও সেখানকার পুরনো ঐতিহ্য ও পরিকাঠামো এখনও অমূল্য সম্পদ। মন্ত্রী বলেন, ”মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন বাইরে থেকে আমরা সাইকেল আর আনব না। আগের সরকার এনেছিল। তাতে অনেক সিন্ডিকেট, কাটমানি ছিল। অনেক বড় বড় পরিবারের নাম জড়িয়েছে। কিন্তু আমরা বাংলাতেই সারথি প্রকল্পে সাইকেল বাংলাতেই তৈরি করব।” আর তা বলতে গিয়ে সেনরেলের কথা তুলে ধরেন অগ্নিমিত্রা। তিনি জানান, বাংলাতেই যদি সাইকেল তৈরি হয় তাহলে সেনরেল কেন নয়। পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী বলেন, ”১৯৫২ সালে সেনরেলের কারখানা খোলে। ‘বলাকা’ বা ‘হ্যামার’ মডেলের সাইকেল বিশ্ব বিখ্যাত ছিল। বাম আমলে সাইকেল বন্ধ হয়ে গেল। আবার করে সেটি খোলার চেষ্টা করছি।”
শুধু সেনরেল নয়, আসানসোলে বন্ধ থাকা কারখানাগুলি ফের সরকার খোলার চেষ্টা করছে বলে জানান মন্ত্রী। পুরমন্ত্রী আশ্বাস দেন, বন্ধ কারখানার আইনি জট ও জমির সমস্যা কাটিয়ে সেখানে নতুন শিল্প স্থাপনের জোর প্রশাসনিক উদ্যোগ শুরু হয়েছে। সাইকেল কেবল যাতায়াতের মাধ্যম নয়, তা স্বাবলম্বী হওয়ার নতুন পথ। মন্ত্রীর এই বক্তব্যের পর আসানসোলের সেনরেলের বন্ধ জমিতে ফের চাকা ঘুরলে তা গোটা অঞ্চলের শিল্পচিত্র বদলে দিতে পারে বলে আশার আলো তৈরি হয়েছে।
সর্বশেষ খবর
-
‘স্ট্যান্ডিং কমিটির শীর্ষে কেন বিদ্রোহী সাংসদ?’ কাকলিতে আপত্তি জানিয়ে স্পিকারকে চিঠি অভিষেকের
-
কেন কালীঘাট এলাকার একাধিক ব্যক্তির নামে সিম তুলেছিলেন সুমিত? নেপথ্যে বড় লেনদেন! তদন্তে পুলিশ
-
মেসি-ম্যাচে বঞ্চিত দর্শকদের শুভেন্দুর উপহার, উরুগুয়ে ম্যাচে ২২ হাজার টিকিট মিলবে বিনামূল্যে
-
ভারতের লড়াইকে ‘বাহবা’ দিলেন ব্রাজিল কোচ, হেরে খালিদ দুষলেন মনঃসংযোগের অভাবকে
-
‘লেনিন, মার্কস, হো চি মিন, এরা কারা?’ রাস্তার নাম বদল নিয়ে মুখ খুললেন মুখ্যমন্ত্রী