পেরিয়ে গিয়েছে বেশ কয়েকটা বছর। কিন্তু এখনও ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে তৈরি হল না চেকপোস্ট। যার জেরে থমকে নদিয়ার করিমপুরের উন্নয়নের স্বপ্ন। করিমপুর সংলগ্ন শিকারপুর সীমান্তে একটি নতুন চেকপোস্ট বা স্থলবন্দর গড়ে ওঠার কথা ছিল। দফায় দফায় আলোচনা চললেও পূর্বতন সরকারের উদাসীনতায় কাঁটাতারেই আটকে যায় সমস্ত সম্ভাবনা। ফলে তৈরি হয়নি স্থলবন্দর। যদিও বদলের বাংলায় ফের চেকপোস্ট তৈরি হওয়ার আশায় জেলার মানুষ।
বিজেপি নেতা আনন্দ ভট্টাচার্য বলেন, “সেই সময় দলের পক্ষ থেকে আমি নিজে তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের হাতে শিকারপুর চেকপোস্টের যাবতীয় নথিপত্র তুলে দিয়েছিলাম। কেন্দ্র সরকার চেকপোস্টের জন্য ৭৫ একর জমি চেয়েছিল। কিন্তু তৎকালীন রাজ্য সরকারের অসহযোগিতার কারণেই সমস্ত আবেদন-নিবেদন ধামাচাপা পড়ে যায়।”
আরও পড়ুন:
করিমপুরের বিস্তীর্ণ এলাকা মূলত কৃষিনির্ভর। গত কয়েকবছরে শিল্প বা ছোটবড় কোনও কারখানা সেখানে গড়ে ওঠেনি। এখানকার মানুষের অর্থনৈতিক নির্ভরতা শুধুই চাষবাসের ওপর। এলাকার মানুষের মতে, শিকারপুরে চেকপোস্ট তৈরি হলে শুধু দুই দেশের মধ্যে যাতায়াতই সহজ হত না, বরং সীমান্ত বাণিজ্যকে কেন্দ্র করে বদলে যেতে পারত তেহট্ট মহকুমা সহ পুরো করিমপুর এলাকার অর্থনৈতিক চিত্র।
ভৌগোলিক দিক থেকে নদিয়ার শিকারপুর সীমান্তরেখা বরাবর মাথাভাঙ্গা নদী পার হলেই বাংলাদেশের প্রাগপুর। সেখান থেকে কুষ্টিয়ার দূরত্ব মাত্র ১৫ কিলোমিটার এবং ঢাকার দূরত্ব প্রায় ২০০ কিলোমিটার। পরিকাঠামোর দিক থেকে ভারতের দিকে মাথাভাঙ্গা নদী পর্যন্ত পাকা সড়ক আগে থেকেই তৈরি আছে। মাঝে শুধু মাথাভাঙ্গা নদীতে একটি সেতু নির্মাণ করলেই সরাসরি যোগাযোগ স্থাপন সম্ভব ছিল। ২০১৬ সালে সীমান্ত এলাকায় চেকপোস্ট তৈরির বিষয়ে শুরু হয় আলোচনা। তৎকালীন বাংলাদেশ সরকারের আওয়ামী লীগ সাংসদ রেজাউল হক চৌধুরীর নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল করিমপুরে এসে ব্লক ও জেলা প্রশাসনের সর্বোচ্চ স্তরে জমি ও পরিবেশের সম্ভাবনা নিয়ে বিশদ আলোচনা করেছিলেন। কিন্তু বাস্তবের মুখ দেখেনি এই প্রকল্প।
এই প্রসঙ্গে বিজেপি নেতা আনন্দ ভট্টাচার্য বলেন, “সেই সময় দলের পক্ষ থেকে আমি নিজে তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের হাতে শিকারপুর চেকপোস্টের যাবতীয় নথিপত্র তুলে দিয়েছিলাম। কেন্দ্র সরকার চেকপোস্টের জন্য ৭৫ একর জমি চেয়েছিল। কিন্তু তৎকালীন রাজ্য সরকারের অসহযোগিতার কারণেই সমস্ত আবেদন-নিবেদন ধামাচাপা পড়ে যায়। তবে সরকার বদলেছে তাই নতুন করে আমরা আশা রাখছি।” তৎকালীন সময় কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের পারস্পরিক টানাটানিতে থমকে যায় এই প্রকল্প। ওপার বাংলার সঙ্গে আত্মিক টান ও অর্থনৈতিক উন্নতির স্বপ্ন নিয়ে আজও প্রহর গুনছেন নদিয়ার সীমান্তবাসী। দুই দেশের স্বার্থেই এই প্রস্তাবিত চেকপোস্ট দ্রুত বাস্তবায়িত করার দাবি করিমপুরবাসীর।
সর্বশেষ খবর
-
রাতে কাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে দুর্ঘটনা, নিউটাউনে দু’টি বাইকের সংঘর্ষে মৃত্যু নিরাপত্তারক্ষীর
-
দিনের পর দিন টাট্টু ঘোড়ার সঙ্গে যৌনতা! জেলে ব্রিটিশ কিশোর
-
রাজ্যবাসীকে ‘ফেস্টিভ প্যাকেজ’ উপহার খাদ্যমন্ত্রীর! ৫০ শতাংশ ছাড়ে মিলবে রেশন সামগ্রী
-
খুদে দুর্গা গড়েই চমক! দেশ-বিদেশে পাড়ি কৃষ্ণনগরের কৃশানুর অভিনব শিল্পকর্ম
-
‘তার মানে বিচার হবে’, অভয়া সৎকার মামলা সিবিআইয়ের হাতে যাওয়ার পর বললেন মা রত্না