Global Satellite

ইসরোর শক্তিস্যাট মিশনে কাঠমিস্ত্রির মেয়ে, দেশকে গর্বিত করল ১৪ বছরের কান্দুলা

শেষ পর্যন্ত বিশ্বের প্রথম শুধুমাত্র নারী পরিচালিত চন্দ্র-কেন্দ্রিক কিউব-স্যাট মিশন 'শক্তি-স্যাট'-এর জন্য ভারত থেকে নির্বাচিত ২০ জন পড়ুয়ার একজন হয়েছে কান্দুলা জেসি।

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: আগস্ট ৭, ২০২৬, ১৪:৫০

options
link
ইসরোর শক্তিস্যাট মিশনে কাঠমিস্ত্রির মেয়ে, দেশকে গর্বিত করল ১৪ বছরের কান্দুলা
ছবি: সংগৃহীত।

বাবা কাঠমিস্ত্রি, মেয়ে মহাকাশ গবেষণায় নাম লেখাচ্ছে। তাও আবার মাত্র ১৪ বছর বয়সে। বিশ্বমঞ্চে ভারতের মুখ উজ্জ্বল করল অন্ধ্রপ্রদেশের বাসিন্দা দশম শ্রেণির ছাত্রী কান্দুলা জেসি। এই গল্প আসলে স্বপ্নপূরণের। ছোট থেকেই দেশের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ইসরোর বিজ্ঞানী হওয়ার স্বপ্ন দেখত কান্দুলা। শেষ পর্যন্ত বিশ্বের প্রথম শুধুমাত্র নারী পরিচালিত চন্দ্র-কেন্দ্রিক কিউব-স্যাট মিশন ‘শক্তি-স্যাট’-এর জন্য ভারত থেকে নির্বাচিত ২০ জন পড়ুয়ার একজন হয়েছে কান্দুলা জেসি।

Advertisement

‘শক্তি-স্যাট’ হল ‘স্পেস কিডজ ইন্ডিয়া’-র একটি বৈশ্বিক মহাকাশ উদ্যোগ। এর নেতৃত্বে রয়েছেন প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও ড. শ্রীমাথি কেসান। তিনি ইসরো (ISRO) ও নাসা (NASA)-র একজন অ্যাম্বাসেডর। এই মিশনে যোগ দিতে ১০৮টি দেশের প্রায় ১২ হাজার আবেদনকারীর আবেদন করেছিল। এর মধ্যে ভারতের নির্বাচিত প্রতিনিধির সংখ্যা। তাদের একজন অন্ধ্রপ্রদেশের দশম শ্রেণির ছাত্রী কান্দুলা জেসি।

Advertisement

অন্ধ্রপ্রদেশের পূর্ব গোদাবরী জেলার একটি সরকারি স্কুলের দশম শ্রেণির ছাত্রী কান্দুলা। জেসির বাবা একজন কাঠমিস্ত্রি, মা গৃহিণী। আর্থিক সমস্যার কারণে তাকে বেসরকারি স্কুল ছেড়ে সরকারি স্কুলে ভর্তি হতে হয়েছিল। সেই সরকারি স্কুল থেকেই আজকের স্বপ্নের উড়ান। চোদ্দো বছরের ছাত্রীর সাফল্যের অন্যতম কারিগর স্কুলের বিজ্ঞান শিক্ষিকা মণিমালা।

Advertisement

তিনিই ছাত্রীর বিজ্ঞানপ্রেম লক্ষ্য করে তাকে আবেদন করতে উৎসাহ দেন। এরপর ৫৫০টি অনলাইন প্রশিক্ষণ সেশন এবং ২১টি মডিউল সম্পন্ন করে স্যাটেলাইট সিস্টেম, প্রপালশন, থার্মোডাইনামিক্স ও মহাকাশ প্রযুক্তির মতো কঠিন বিষয় শেখে কান্দুলা। নির্বাচন প্রক্রিয়ায় ছিল আন্তর্জাতিক বিজ্ঞানীদের সঙ্গে এক ঘণ্টার সাক্ষাৎকার। ইংরেজিতে নিজের দক্ষতার প্রমাণ দিতে হয়েছে। এক মিনিটের ভিডিও প্রেজেন্টেশন তৈরি করেছিল সে। কঠোর পরিশ্রমের পর নির্বাচিত হয়েছে কান্দুলা।

আগামী ২৩ আগস্ট থেকে নয়াদিল্লিতে শুরু হবে হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ। এরপর ছাত্রীরা যে চন্দ্র কিউবস্যাট তৈরি করবে, সেটি চলতি বছরের অক্টোবর মাসে শ্রীহরিকোটা থেকে উৎক্ষেপণের পরিকল্পনা রয়েছে ইসরোর। হ্যাঁ ইসরো। জেসির একটাই স্বপ্ন— একদিন ইসরোতে বিজ্ঞানী হিসেবে কাজ করা। নিজের পরিবার, শিক্ষক ও দেশের নাম উজ্জ্বল করা।

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.