Elephant

হাতির হানায় মানুষের প্রাণহানি শূন্য! বন্যপ্রাণ সংঘাত এড়াতে দেশের ‘মডেল’ বাঁকুড়া

বনদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২০২৬ সালে হাতির হানায় মানুষের মৃত্যু শূন্য, ২০০৭ সালের পর যা নজির।

নিরুফা খাতুন
নিরুফা খাতুন

শেষ আপডেট: আগস্ট ১৩, ২০২৬, ১৭:৩৩

options
link
হাতির হানায় মানুষের প্রাণহানি শূন্য! বন্যপ্রাণ সংঘাত এড়াতে দেশের ‘মডেল’ বাঁকুড়া
মানুষ-হাতি সংঘাত রুখে দেশের মডেল বাঁকুড়া উত্তর বনবিভাগ, ফাইল ছবি

মানুষ-হাতির সংঘাত এড়িয়ে প্রাণ বাঁচানো ও সুষ্ঠুভাবে হাতিদের বাঁকুড়া উত্তর বনবিভাগের সাফল্য নজর কাড়ছে দেশের অন্য হাতি-অধ্যুষিত রাজ্যগুলিরও। হাতি মানুষের সংঘাত যেখানে নিয়মিত প্রাণহানির কারণ হয়ে দাঁড়ায়, সেখানে কীভাবে মৃত্যু ঠেকানো যায়, তারই একটি কার্যকর মডেল হিসাবে বাঁকুড়ার উত্তর বনবিভাগ পথ দেখাচ্ছে অন্য রাজ্যগুলিকে। বুধবার ছিল হাতি দিবস। সেই উপলক্ষে অন্ধ্রপ্রদেশ বনদপ্তর ও কেন্দ্রীয় পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রকের সহায়তায় বিশাখাপত্তনমে কর্মশালার আয়োজন করা হয়। হাতি ও মানুষের সংঘাত কীভাবে এড়ানো যায়, তা নিয়ে আলোচনা হয়। সব রাজ্যের বনদপ্তরের প্রতিনিধিরা সেখানে হাজির ছিলেন। পশ্চিমবঙ্গে প্রতিনিধি হিসাবে ছিলেন বাঁকুড়া উত্তর বিভাগের ডিএফও শেখ ফরিদ জে।

Advertisement

২০২৫-‘২৬ অর্থবর্ষে বাঁকুড়া উত্তর বনবিভাগে হাতির হানায় একটিও মৃত্যু হয়নি। প্রায় দু’দশকের মধ্যে এই প্রথম এমন নজির তৈরি হয়েছে। একইসঙ্গে মানুষের পালটা আক্রমণে হাতি হত্যার ঘটনাও শূন্যে নামিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে। বাঁকুড়ার ধাঁচে বাকি রাজ্যগুলি হাতি-মানুষের সংঘাত রুখতে চাইছে। এদিনের কর্মশালায় বাঁকুড়ার সাফল্য তুলে ধরা হয়। রাজ্য বনমন্ত্রী মনোজকুমার ওরাওঁ বলেন, ‘‘অন্য রাজ্যগুলির কাছে বাঁকুড়ার মডেল তুলে ধরা হয়েছে, এটা আমাদের কাছে গর্বের বিষয়। হাতি ও মানুষের সংঘাত এবং তার জেরে মৃত্যুর ঘটনা ঘটছে। এটা একটা বড় সমস্যা। বাঁকুড়ার মডেলের মতো রাজ্যের বাকি ডিভিশনগুলিতেও কাজ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এখন দেশের অন্যান্য রাজ্যও বাঁকুড়ার মডেলকে ফলো করতে চাইছে।”

Advertisement

খাবারের খোঁজে জঙ্গল ছেড়ে দাঁতালের লোকালয়ে চলে আসা কিংবা জীবিকার খোঁজে মানুষের জঙ্গলের ভিতরে ঢুকে পড়া, উভয় কারণেই ঘটে হাতি-মানুষ সংঘাত। যার ফলে ‘গজপতি’র রোষে বেমক্কা হারিয়ে গিয়েছে একাধিক প্রাণ। শুধু প্রাণহানিই নয়, অধিকাংশ ক্ষেত্রে হাতির আক্রমণে সাধারণ মানুষের জীবন জীবিকাতেও মারাত্মক প্রভাব পড়ে। বসতবাড়ি, ফসলি জমিতে হাতির হানায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ হয় বিপুল। ২০১৫-২০১৬ সালে যেখানে হাতির সঙ্গে সংঘাতে বাঁকুড়া উত্তর বনবিভাগে ২৮ জন মানুষের মৃত্যু হয়েছিল বাঁকুড়ায়। গত কয়েক বছরের ইতিহাসে যা ছিল সর্বোচ্চ।

Advertisement

২০২৩-২০২৪ সালে ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। তবে ২০২৫-২০২৬ সালে সেই সংখ্যাটা শূন্য। দুই দশক পর অর্থাৎ ২০০৭ সালের পর এবার মৃত্যুর ঘটনা শূন্যে নেমে এসেছে। বাঁকুড়ার সাফল্যের তত্ত্ব ছিল শুধুমাত্র হাতিকে জঙ্গলে আটকে রাখা নয়, তাদের স্বাভাবিক চলাচলের পথ, মানুষের বসতি এবং সংঘাতের সম্ভাব্য জায়গাগুলিকে একসঙ্গে বিবেচনা করে ব্যবস্থা নেওয়া।

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.