Bar-tailed Godwit

‘কতটা পথ পেরলে তবে…’, ডানায় ভর করে টানা উড়ে রেকর্ড চার মাসের গডউইট পাখির!

ইউএস জিওলজিক্যাল সার্ভের তরফে দেওয়া সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালে এই দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিল। সমগ্র প্রাণীকুলেও এই নজির কারও নেই।

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: এপ্রিল ১, ২০২৬, ১৭:২৪

options
link
‘কতটা পথ পেরলে তবে…’, ডানায় ভর করে টানা উড়ে রেকর্ড চার মাসের গডউইট পাখির!
আকাশপথে রেকর্ড দূরত্ব অতিক্রম করা বার টেলড গডউইট বা বি-সিক্স পাখি। ছবি: সংগৃহীত

১১ দিনে পাড়ি ১৩,৫৬০ কিলোমিটার পথ! আলাস্কা থেকে অস্ট্রেলিয়ার তাসমানিয়া। পুরোটাই ডানায় ভর দিয়ে, টানা উড়ে। না বিশ্রাম, না আহার, না তৃষ্ণা নিবারণ। এভাবেই রেকর্ড গড়েছে B6 (বি সিক্স) নামের একটি পাখি। ২০২২ সালে এই দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিল মাত্র চার মাস বয়সি পাখিটি। শুধু পক্ষীকুল নয়। সমগ্র প্রাণীকুলের মধ্যেও এই নজির কারও নেই। ‘বার টেলড গডউইট’ (Bar-tailed Godwit) প্রজাতির পাখিটির এই কীর্তি সম্প্রতি প্রকাশ্যে এনেছে ইউএস জিওলজিক্যাল সার্ভে (ইউএসজিএস)। তথ্য বলছে, পাখিদের এই প্রজাতি দেখা যায় আলাস্কা, সাইবেরিয়ায়। এদের গতি ঘণ্টায় প্রায় ৫৫ কিলোমিটার।

Advertisement

তবে খুঁটিয়ে বিচার করলে দেখা যাবে, পরিযায়ী পাখিদের ক্ষেত্রে এহেন নজির তৈরি করা ব্যতিক্রমী কিছু নয়। ফি-বছরই প্রায় এমন ঘটে। ভারত থেকে আমুল ফ্যালকন প্রজাতির পাখি কয়েক হাজার কিলোমিটার পথ উড়ে যায়। অনায়াসে পেরিয়ে যায় বেশ কয়েকটি মহাদেশ। এখন প্রশ্ন, কী করে সম্ভব হয় এমনটা? বি সিক্স বা আমুল ফ্যালকন কীভাবে টানা উড়ে, এতটা পথ পেরিয়ে যেতে পারে? প্রশান্ত মহাসাগরের মতো বিপুল-বিস্তৃত জলরাশির উপর দিয়ে উড়ে যেতে পারে পিছনে রয়েছে অভিযোজন কৌশল। পাখিরা ‘জার্নি’ শুরুর আগে পেটপুরে খেয়ে নেয়।

Advertisement

পথ চেনার ক্ষেত্রে এদের নিজস্ব কিছু পদ্ধতি আছে। বি সিক্স যেমন পৃথিবীর চৌম্বকীয় ক্ষেত্রকে ‘প্রাকৃতিক কম্পাস’-এর মতো ব্যবহার করে। এদের চোখে এক ধরনের প্রোটিন রয়েছে, যার নাম ক্রিপ্টোক্রোমস। এটি সেই চৌম্বকীয় ক্ষেত্র চিনে এগোতে পারে। পাখিদের মস্তিষ্কও জিপিএস কৌশলের মতো পদ্ধতি মেনে এগোতে সক্ষম।

বি সিক্স বা গডউইটও তাই করেছিল। আলাস্কায় এরা প্রচুর পরিমাণে আহার করে নেয়। তাতে শরীরে ফ্যাট জমে। একটুও বিশ্রাম না নিয়ে, খাবারের কণা না গ্রহণ করে কিংবা এক ফোঁটাও জল পান না করে? এর পিছনে রয়েছে অভিযোজন কৌশল। এর জন্য পাখিরা ‘জার্নি’ শুরুর আগে পেটপুরে খেয়ে নেয়। বি সিক্স-ও তাই করেছিল। আলাস্কায় এরা প্রচুর পরিমাণে আহার করে নেয়। তাতে শরীরে ফ্যাট জমে। মোট ওজনের প্রায় অর্ধেক সেই ফ্যাট। এবার উড়ান শুরুর পর পাখিটি সময় বুঝে নিজের শরীরে পরিবর্তন আনতে শুরু করে। পরিস্থিতিমতো বদল। পাখিটি নিজের পেট, লিভারে চাপ দিয়ে কুঁচকে, ছোট করে দেয়। এতে ওজন কমে, এনার্জি কম ব্যয় হয়। পাশাপাশি শরীরে জমে থাকা ফ্যাটও দূর হয় সক্রিয়ভাবে।

Advertisement

শুধু প্রশান্ত মহাসাগরের মতো বিপুল-বিস্তৃত জলরাশি নয়, বড় মরুভূমি পেরনোর সময়ও প্রাণরক্ষার তাগিদে পাখিরা নানা ধরনের অভিযোজন-কৌশল গ্রহণ করে। আর তাই তারা অনেক দিন না খেয়ে, না জলপান করে, টানা উড়ে যেতে পারে। পথ চেনার ক্ষেত্রেও এদের নিজস্ব কিছু পদ্ধতি আছে। বি সিক্স যেমন পৃথিবীর চৌম্বকীয় ক্ষেত্রকে ‘প্রাকৃতিক কম্পাস’-এর মতো ব্যবহার করে। এদের চোখে এক ধরনের প্রোটিন রয়েছে, যার নাম ক্রিপ্টোক্রোমস। এটি সেই চৌম্বকীয় ক্ষেত্র চিনে এগোতে পারে। পাখিদের মস্তিষ্কও জিপিএস কৌশলের মতো পদ্ধতি মেনে এগোতে সক্ষম।

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.