মস্কো : দিকে দিকে টাঙানো হয়েছে জায়ান্ট স্ক্রিন। সমর্থকরা প্রিয় দলের পতাকা নিয়ে নেমে পড়েছেন রাস্তায়। শয়ে শয়ে নয়, হাজারে হাজারে। ফিফা ফ্যান ফেস্ট ঘিরে এই মুহূর্তে টের পাওয়া যাচ্ছে অনুগামীদের ফুটবল জ্বর।
‘গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ’– শুরু হতে মাত্র দু’দিন বাকি। কাপের উদ্বোধন অনুষ্ঠান নিয়ে বরাবরই থাকে আলাদা মাত্রার উত্তেজনা। রাশিয়া বিশ্বকাপও ব্যতিক্রম নয়। ১৪ জুন, রাশিয়া ও সৌদি আরবের প্রথম ম্যাচের সিটি পড়ার আগেও লুঝনিকি স্টেডিয়ামের ৮০ হাজার ও সারা বিশ্বে ছড়িয়ে থাকা কোটি কোটি মানুষ অপেক্ষা করবেন উদ্বোধন অনুষ্ঠানের জন্য। এ যেন প্রদীপ জ্বালানোর আগে সলতে পাকিয়ে নেওয়া।
[ চোট পাওয়া কাঁধ ধরেই ঝুলোঝুলি ফ্যানের, সালাহর খ্যাতি নিয়ে বিড়ম্বনায় মিশর ]
ফুটবলের সঙ্গে সংগীতের যোগাযোগ বহুকালের। ফুটবল যেমন একটা বিশ্বজোড়া অনুভূতি, সংগীতও তাই। এবং এই দুইকে ঘিরে মানুষের আবেগ চিরকালই মারাত্মক। শাকিরা থেকে পিটবুল-কাপ উদ্বোধনী অনুষ্ঠান আগে অনেকে মাতিয়ে গিয়েছেন। এ বার থাকছেন ব্রাজিলের কিংবদন্তি ফুটবলার রোনাল্ডো, পপশিল্পী রবি উইলিয়ামস এবং রাশিয়ান গায়িকা আইদা গারিফুলিনা। আর থিম সং? লিভ ইট আপ। গাইবেন হলিউড তারকা উইল স্মিথ ও নিকি জ্যাম।

উচ্ছ্বসিত রবি উইলিয়ামস জানিয়েছেন, ‘আমি আনন্দিত। উত্তেজিতও বটে। সারা জীবন ধরে কতই না পারফর্ম করে চলেছি, কিন্তু ৮০ হাজার ফুটবল ভক্ত! তাঁদের সামনে বিশ্বকাপ উদ্বোধন করার কথা কোনওদিন কি স্বপ্নেও ভেবেছিলাম!’ বিশ্বকাপের উদ্বোধনে কেবলমাত্র ফুটবলকেই যে প্রাধান্য দেওয়া হয়, এমন নয়। পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয় সেই দেশের সংস্কৃতির সঙ্গে। এবারে রাশিয়ান গায়িকা আইদা গারিফুলিনা নিজের গান গাইবেন এই উদ্বোধনে। রাশিয়ার এই সময়কালের তরুণদের মধ্যে অন্যতম জনপ্রিয় তারকা তিনিই। তিনিও উত্তেজিত ভাবে বলেছেন, ‘কোনওকালে ভাবার স্পর্ধা করিনি এত বড় অনুষ্ঠানের অংশ হব আমি। তাও আবার আমার নিজের দেশে, রাশিয়ায়।’
[ সুয়ারেজ কামড়ালে আমিও কামড়াব, হুমকি রাশিয়ার ডিফেন্ডারের ]

ফুটবলের কিংবদন্তি রোনাল্ডো বলেছেন, ‘উদ্বোধনী ম্যাচ সবসময়ই প্রতীকী। এমন একটি মুহূর্ত, যখন বোঝা যায় এই মুহূর্তটার জন্য চার বছর ধরে অপেক্ষা ছিল এবং অবশেষে তা এসেছে। কেউ-ই জানে না টুর্নামেন্টের এই চার সপ্তাহে কী হতে চলেছে। কিন্তু সবাই এ ব্যাপারে একমত যে এটা স্মরণীয়।’
[ কানে খাটো হলেও বিশ্বকাপে রাশিয়ার বাজি এই বিড়াল, কীভাবে জানেন? ]
সব ফুটবল প্রেমিকই যে গ্যালারিতে থাকবেন না, এ তো নির্মম সত্য। কিন্তু যেখানে খেলার নাম ‘ফুটবল’, সেখানে কি কিছু আর বাঁধ মানে! শহরে, মফস্বলে যেরকম ক্লাবে ক্লাবে, পাড়ায় পাড়ায় পতাকা, ছোটখোটো উপনিবেশ। খাস মস্কোয় তা ফ্যান ফেস্ট। যদিও সংখ্যাটা বিপুল। প্রায় ২৫ হাজার। ফেস্ট জুড়ে অনেকটাই পার্টির মতো আবহাওয়া। সঙ্গে জায়েন্ট স্ক্রিন। বিশ্বজোড়া ফুটবলের হাজার হাজার দর্শকদের উচ্ছ্বাস, আনন্দ, কান্না। গত রবিবার উদ্বোধন হয়ে গেল এই ফেস্টের। ফ্রান্সের বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক মার্শেল দেশাইলি ও রাশিয়ার চিরকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা আলেকজান্ডার কাজরাকোভ উপস্থিত ছিলেন উদ্বোধনে।

সকলের জন্য হাট করে খোলা এই ফেস্টে স্বাভাবিকভাবেই এসে জুটেছে অনেক পতাকা, স্প্রে, নানা আদলের বাদ্যযন্ত্রও। ছোট্ট একটা বিশ্ব, জায়েন্ট স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে। কার হাতে উঠবে বিশ্বকাপ– সেজন্যই তো অপেক্ষা করা। শুধু ফ্যান ফেস্ট বা রাশিয়ার গ্যালারি পাওয়া দর্শকদের না। দূরের এদেশও অপেক্ষায়।

সর্বশেষ খবর
-
‘ইসলামে বাধ্যতামূলক নয় হিজাব’, মুসলিম পড়ুয়ার আবেদন খারিজ করে আর কী বলল হাই কোর্ট?
-
গোবিন্দার পরকীয়া চর্চার মাঝেই বিয়ের পিড়িতে ছেলে যশবর্ধন! পাত্রী কে?
-
দু’দফায় বাড়ল গ্যাসের ই-কেওয়াইসির সময়সীমা, তবু ‘উদাসীন’ বহু এলপিজি গ্রাহক
-
এবার আর্থিক নিষেধাজ্ঞায় ইরানকে ভাতে মারার হুমকি আমেরিকার, পালটা হুঁশিয়ারি তেহরানের
-
মমতার ‘ঘরে’ ফিরলেন কাশেম সিদ্দিকী, ‘কালীঘাটেই তো ছিলেন’, বললেন ঋতব্রত