প্রথম পাতা খেলা দেশ বিদেশ ই-পেপার
Indranil Khan

ক্রীড়াক্ষেত্রে দুর্নীতি থামান, ক্রীড়ামন্ত্রী ইন্দ্রনীল খাঁ-কে চিঠি অভিষেকের

চিঠির প্রেরক প্রাক্তন সিএবি প্রেসিডেন্ট অভিষেক ডালমিয়া। যিনি বাংলার ক্রীড়াক্ষেত্রে দুর্নীতিদমনের আবেদন পেশ করলেন রাজ‌্যের ক্রীড়ামন্ত্রী ইন্দ্রনীল খাঁ-র কাছে। যা পড়ে ময়দানের অনেকেরই মনে হচ্ছে, চিঠিতে যে স্বনামধন‌্য ক্রীড়া সংস্থার কথা বলা হয়েছে, সেটা সিএবি।

Advertisement ad
রাজর্ষি গঙ্গোপাধ্যায়
রাজর্ষি গঙ্গোপাধ্যায়

শেষ আপডেট: জুন ১৩, ২০২৬, ২০:৩৪

options
link
ক্রীড়াক্ষেত্রে দুর্নীতি থামান, ক্রীড়ামন্ত্রী ইন্দ্রনীল খাঁ-কে চিঠি অভিষেকের zoom
অভিষেক ডালমিয়া ও ইন্দ্রনীল খাঁ (ডানদিক থেকে)।

চিঠির প্রেরক প্রাক্তন সিএবি প্রেসিডেন্ট অভিষেক ডালমিয়া। যিনি বাংলার ক্রীড়াক্ষেত্রে দুর্নীতিদমনের আবেদন পেশ করলেন রাজ‌্যের ক্রীড়ামন্ত্রী ইন্দ্রনীল খাঁ-র কাছে। যা পড়ে ময়দানের অনেকেরই মনে হচ্ছে, চিঠিতে যে স্বনামধন‌্য ক্রীড়া সংস্থার কথা বলা হয়েছে, সেটা সিএবি। যে কমিটি সদস‌্যের কথা বলা হয়েছে, তিনি নেতাজি সুভাষ ইন্সটিটিউটের সদস‌্য অম্বরীশ মিত্র। যাঁর বিরুদ্ধে অর্থের বিনিময়ে প্লেয়ারকে খেলানোর অভিযোগ উঠেছিল অতীতে। এবং ময়দানের অভিযোগ, পরবর্তীতে সেই অভিযোগকারীকে ‘থামিয়ে’ দেওয়া হয়। রাজ‌্যের ক্রীড়ামন্ত্রীকে পাঠানো অভিষেকের চিঠির নির্যাস, নিচে তুলে দেওয়া হল…।

‘…রাজ্যের ক্রীড়াক্ষেত্রের ভবিষ্যৎ এবং অসংখ্য তরুণ ক্রীড়াবিদের স্বার্থে এ চিঠি আপনাকে লিখছি। লিখছি, গভীর উদ্বেগ নিয়ে। যাঁদের ভবিষ‌্যৎ নির্ধারণের একমাত্র যোগ‌্যতা, নিষ্ঠা ও পারফরম‌্যান্সের ভিত্তিতে হওয়া উচিত বলে মনে করি।

বিগত কয়েক বছরে বিভিন্ন ক্রীড়াক্ষেত্রে দুর্নীতি, পক্ষপাতিত্ব, যোগ‌্যতা সংক্রান্ত জালিয়াতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ বারবার প্রকাশ‌্যে এসেছে। প্রায়শই অভিযোগ উঠেছে যে, একজন প্লেয়ারকে খেলতে গেলে, দলে জায়গা করে নিতে গেলে, এমনকী অ‌্যাকাডেমিতে ভর্তি হলে গেলেও হয় তাকে কিংবা তার পরিবারকে, টাকা দিতে বাধ‌্য করা হয়। শুধু তাই নয়, যোগ‌্যতার নিয়মেও কারচুপি করে প্রকৃত প্রতিভাবান স্থানীয় প্লেয়ারদের বঞ্চিত করার অভিযোগও উঠেছে। যা প্রবল চিন্তার। যার ফলে ক্রীড়া প্রতিযোগিতার বিশ্বাসযোগ‌্যতআ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

বিগত কয়েক বছরে বিভিন্ন ক্রীড়াক্ষেত্রে দুর্নীতি, পক্ষপাতিত্ব, যোগ‌্যতা সংক্রান্ত জালিয়াতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ বারবার প্রকাশ‌্যে এসেছে।

বিশেষ করে রাজ‌্যের একটা স্বনামধন‌্য ক্রীড়া সংস্থার এক কমিটি সদস‌্যের কথা বলব। যাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়েছে যে, তিনি প্লেয়ারকে দলে সুযোগ দেওয়া এবং প্রতিযোগিতার অংশগ্রহণের বিনিময়ে সেই প্লেয়ার ও তাঁর লোকজনের কাছ থেকে অর্থ নিয়েছেন! জানা গিয়েছে, সেই অর্থ লেনদেনের নথি এবং সরাসরি ব‌্যাঙ্ক ট্রান্সফারের স্ক্রিনশট সহ বিবিধ তথ‌্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরে আনা হয়েছিল। কিন্তু সাধারণ মানুষের ধারণা হল, সে বিষয়ে কোনও স্বচ্ছ তদন্ত হয়নি। উলটে অভিযোগকারীকে অভিযোগ প্রত‌্যাহার করার জন‌্য বোঝানোর চেষ্টা হয়েছিল।

এ ধরনের অভিযোগ শেষ পর্যন্ত সত‌্য প্রমাণিত হোক কিংবা না হোক। দুর্নীতি, জোর করে অর্থ আদায়, আর্থিক অনিয়ম, ক্ষমতা অপব‌্যবহার ও অনৈতিক কাজকর্মের যে অভিযোগ আসছে, তার নিরপেক্ষ এবং স্বচ্ছ তদন্ত হওয়া অত‌্যন্ত জরুরি। আর তা দ্রুত জরুরি। যে অভিযোগের নিষ্পত্তি না হলে ক্রীড়া প্রতিষ্ঠানগুলোর উপর মানুষের আস্থা কমে আসবে।

তাই আমি পশ্চিমবঙ্গ সরকারকে অনুরোধ করছি, একটা সম্পূর্ণ আলাদা এবং গোপনীয় স্পোর্টস ইন্টিগ্রিটি ও অ্যান্টি-করাপশন হেল্পলাইন চালু করার জন্য। যার মাধ্যমে ক্রীড়াবিদ, অভিভাবক, কোচ, কর্মকর্তা, ‘হুইসল-ব্লোয়ার’ এবং সাধারণ মানুষ, ক্রীড়াক্ষেত্রে নানাবিধ দুর্নীতির বিরুদ্ধে অভিযোগ জমা করতে পারবেন। যে ব‌্যবস্থায় অভিযোগকারীর পরিচয় গোপন থাকবে। এবং তাঁকে নানা হুমকি বা প্রতিশোধমূলক আচরণ থেকে সুরক্ষাও দেওয়া হবে।

সিএবি প্রেসিডেন্ট থাকাকালীন, আমি নিয়ম-কানুন নিয়ে আপসহীন ছিলাম। সঙ্গে নিশ্চিত করতাম, যাতে টুর্নামেন্টে স্বচ্ছতা বজায় থাকে। আমার সে মেয়াদের একটা বড় অংশ কোভিডের কারণে প্রভাবিত হয়েছিল ঠিকই। কিন্তু তার পরেও বিভিন্ন ব‌্যাপারে পদক্ষেপ করা হয়েছিল সেই সময়। প্রায় পঞ্চাশ জনকে সাসপেন্ড করা হয়েছিল, যাঁরা কি না ভুয়ো পরিচয়পত্র ব‌্যবহার করেছিলেন। কিংবা যোগ‌্যতা-সংক্রান্ত আইন ভেঙেছিলেন। উদ্দেশ‌্য একটাই ছিল–প্রকৃত স্থানীয় ক্রিকেটাররা যাতে তাঁদের প্রাপ‌্য সুযোগ এবং প্রতিভা প্রদর্শনের মঞ্চ পান। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, খেলাধুলোর উন্নতিকল্পে স্বচ্ছতা এবং নিয়মের কঠোর প্রয়োগের বিকল্প নেই।

সিএবি প্রেসিডেন্ট থাকাকালীন, আমি নিয়ম-কানুন নিয়ে আপসহীন ছিলাম। সঙ্গে নিশ্চিত করতাম, যাতে টুর্নামেন্টে স্বচ্ছতা বজায় থাকে। আমার সে মেয়াদের একটা বড় অংশ কোভিডের কারণে প্রভাবিত হয়েছিল ঠিকই। কিন্তু তার পরেও বিভিন্ন ব‌্যাপারে পদক্ষেপ করা হয়েছিল সেই সময়।

আসলে প্রশাসক, কোচ, কর্মকর্তা, ভলান্টিয়ারদের একটা সংখ‌্যাগরিষ্ঠ অংশ সততার সঙ্গে খেলার উন্নতির জন‌্য কাজ করেন। কিন্তু অল্প কিছু মানুষের অনৈতিক কার্যকলাপ প্রতিষ্ঠানগুলির ভাবমূর্তি নষ্ট করতে পারে। এবং যোগ‌্য ক্রীড়াবিদদের স্বপ্নকে ধ্বংস করতে পারে। পশ্চিমবঙ্গ বহু যুগ ধরে এমন কিছু অসাধারণ ক্রীড়াবিদের জন্ম দিয়েছে, যাঁরা আমাদের রাজ‌্য ও দেশকে গর্বিত করেছে। অতএব, ক্রীড়াবিদদের এমন একটা পরিবেশ প্রাপ‌্য, যেখানে সুযোগ নির্ধারিত হবে প্রতিভা-পারফরম‌্যান্সের ভিত্তিতে। প্রভাব, কারচুপি বা অর্থের ভিত্তিতে নয়।

তাই আমি আপনার দপ্তরের কাছে আবেদন, একটা বলিষ্ঠ বন্দোবস্ত করা হোক। যেখানে অভিযোগ গ্রহণ থেকে পর্যবেক্ষণ ব‌্যবস্থা– সবই থাকবে। যা বার্তা দেবে যে, আমাদের রাজ‌্যে ক্রীড়া দুর্নীতির কোনও জায়গা নেই।

আসুন, আমরা সবাই মিলে এমন একটি ক্রীড়া সংস্কৃতি গড়ে তুলি। যার ভিত্তি হবে স্বচ্ছতা, দায়বদ্ধতা, সুবিচার। এবং সবার জন্য সমান সুযোগ।

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন