এক সময়ে খেলেছিলেন যশস্বী জয়সওয়াল, মুশির খানের সঙ্গে। তাঁর আরেকটি পরিচয়, তিনি প্রাক্তন ক্রিকেটার সঞ্জয় বাঙ্গারের সন্তান। তিনি অনয়া বাঙ্গার। এবার জেন্ডার অ্যাফার্মেশন বা লিঙ্গনির্ণায়ক অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়েছে তাঁর। থাইল্যান্ডে এই অস্ত্রোপচারের পর সামাজিক মাধ্যমে একটি আবেগঘন পোস্টে নিজের দীর্ঘ যাত্রার কথা তুলে ধরেন তিনি। হাসপাতালের বেডে শুয়ে নিঃশর্ত সমর্থনের জন্য বাবাকে কৃতজ্ঞতাও জানান।
আরও পড়ুন:
হাসপাতাল থেকে বাবার সঙ্গে তোলা একটি ছবি শেয়ার করে অনয়া জানান, এই পথ সহজ ছিল না। কেবল তাঁর জন্যই নয়, পরিবারের কাছেও এটা ছিল বিরাট চ্যালেঞ্জের। ‘এই যাত্রা সহজ ছিল না। তবে আজ কৃতজ্ঞতায় ভরে গিয়েছি আমি,’ লিখেছেন তিনি। জানা গিয়েছে, অনয়ার চিকিৎসার সমস্ত খরচ বহন করেছেন সঞ্জয়। বাবার ভূমিকার কথা তুলে ধরেন অনয়া। তাঁর কথায়, ‘জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়ে বাবাকে পাশে পেয়েছি। এটাই আমার সবচেয়ে বড় শক্তি। এই সমর্থন হঠাৎ করে আসেনি। কিন্তু যখন এসেছে, তা ছিল নিঃশর্ত, সত্যিকারের, আর অটল।’
View this post on InstagramAdvertisement
অনয়া আরও লেখেন, ‘এই অস্ত্রোপচার আমার জীবনের এক বড় পদক্ষেপ। কিন্তু বাবার উপস্থিতি যাকে সহজ করে দিয়েছে। সম্ভব করে তুলেছে। বড় হওয়া সময়সাপেক্ষ। ভালোবাসাও তাই। কিন্তু যখন তা সত্যি হয়ে ওঠে, তখন তার মূল্য অপরিসীম। অনেক কৃতজ্ঞতা।’ অনয়া ২০২১ সালে লিঙ্গ পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেন। সেই মতো ‘হরমোনাল রিপ্লেসমেন্ট সার্জারি’ও হয় তাঁর। দীর্ঘ ১০ মাসের প্রক্রিয়া শেষে আরিয়ান থেকে অনয়া হয়েছেন তিনি। কিন্তু সেই প্রক্রিয়ার মধ্যে থেকে যাওয়ার সময় অনেক লড়াই করতে হয়েছিল। একটা সময় বাবা সঞ্জয় বাঙ্গার নাকি স্পষ্টই বলেছিলেন, ক্রিকেটে তাঁর আর কোনও জায়গা নেই। পরিস্থিতি এতটাই জটিল হয়ে গিয়েছে যে, ভারতের প্রাক্তন ক্রিকেটারকে নিয়ে কথাও বলতে চাইতেন না মেয়ে অনয়া। এমনকী তাঁর মাথায় এসেছিল আত্মহত্যার ভাবনাও। কিন্তু সময় সব কিছু বদলে দেয়।
এই অস্ত্রোপচারের নাম ‘ভ্যাজিনোপ্লাস্টি’। অর্থাৎ এই সার্জারির মাধ্যমে পুরুষাঙ্গ অপসারণ করে সেখানে কৃত্রিমভাবে যোনিপথ স্থাপন করা হয়। কিন্তু অনয়া পুরোপুরি ‘মহিলা’ হয়ে গেলে কি মহিলাদের ক্রিকেটে খেলতে পারবেন? আইসিসি’র নিয়ম অনুযায়ী, কেউ যদি পুরুষ হিসাবে বয়ঃসন্ধি কাটান, তাহলে পরে মহিলা হিসাবে খেলতে পারবেন না। এর পাশাপাশি টেস্টোস্টেরন লেভেল দেখা হবে। ২০২৩ সালের নভেম্বরে আইসিসি জানায়, ট্রান্সজেন্ডার অ্যাথলিটদের মহিলা ক্রিকেটে অংশগ্রহণের অনুমতি দেওয়া হবে না। তাই আপাতত মহিলা দলে তিনি খেলতে পারবেন না। উল্লেখ্য, মুম্বই অনূর্ধ্ব-১৬, পণ্ডিচেরি অনূর্ধ্ব-১৯ ট্রায়াল ও মুম্বই অনূর্ধ্ব-২৩ ট্রায়াল খেলেছেন তিনি। সেই অনয়া লিঙ্গনির্ণায়ক অস্ত্রোপচার সম্পন্ন করেছেন। তবে এই অস্ত্রোপচারের পিছনে তাঁর মা হওয়ার স্বপ্ন রয়েছে, তা তিনি আগেই বলেছেন। এমনকী তাঁর এই লড়াই এলজিবিটিকিউ সমাজের অনেক রূপান্তরকামীদের লড়াই করার সাহস জোগাবে বলেই মনে করেন তিনি।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
এবার পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানি, তোলাবাজির অভিযোগ, পুলিশের দ্বারস্থ বধূ
-
‘খুব বাঁচা বেঁচেছি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ধন্যবাদ’, রচনার সুরবদলের পরই কেন একথা বললেন মনোরঞ্জন?
-
আয়ারল্যান্ডের বিরুদ্ধেও চুনকাম! ১০৫০ দিন পর সিরিজ হার ভারতের, কেন খেলানো হল না বৈভবকে?
-
‘তোলাবাজি’র অর্থে মেয়ে-স্বামীর নামে সম্পত্তি, নির্বাচনী হলফনামায় তথ্য গোপন! তৃণমূল বিধায়কের বিরুদ্ধে পুলিশে অভিযোগ
-
অস্ট্রেলিয়ার কাছে হেরে গ্রুপ থেকে বিদায়, বিশ্বকাপে স্বপ্নভঙ্গ ভারতের মেয়েদের