Champions Trophy 2025

খাতায়-কলমে BCCI জয়ী হলেও পাকভূমে উড়বে না ভারতের তেরঙ্গা! ক্রিকেট জিতল কি?

চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি জিতে কি রোহিতরা 'যোগ্য জবাব' দিতে পারবেন?

Advertisement
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: ফেব্রুয়ারি ১৭, ২০২৫, ২১:৩৭

options
link
খাতায়-কলমে BCCI জয়ী হলেও পাকভূমে উড়বে না ভারতের তেরঙ্গা! ক্রিকেট জিতল কি?
ফাইল চিত্র

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: ৯ মার্চ। স্থান- লাহোরের গদ্দাফি স্টেডিয়াম। প্রেক্ষাপট- চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ফাইনাল। ‘জন গণ মন’তে মুখরিত গোটা স্টেডিয়াম। শেষ পর্যন্ত রোহিত শর্মার হাতে উঠল চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি। হাওয়ায় টানটান ভারতের তেরঙ্গা পতাকা। চিরশত্রুর ঘরের মাঠে গিয়ে খেতাব জয়। ভারতীয় সমর্থকদের গর্জনে কান পাতা দায়।

Advertisement

এই দৃশ্য কল্পনা মাত্র। যা বাস্তব হওয়ার কোনও সম্ভাবনা নেই। চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি শুরু হতে আর দিন দুয়েক বাকি। হাইব্রিড মডেলের অনেক ডামাডোল পেরিয়ে পাকিস্তান ও দুবাই, দুই জায়গাতেই হবে আইসিসির মেগা ইভেন্ট। ভারত খেলবে দুবাইয়ে। এর মধ্যে নতুন বিতর্ক বেঁধেছে, করাচি স্টেডিয়ামে ভারতের পতাকা না থাকায়। ইতিমধ্যে নিজেদের স্বপক্ষে যুক্তিও দিয়েছে পাকিস্তান। কিন্তু একটা জিনিস পরিষ্কার। ভারত যদি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি জেতেও, শেষ পর্যন্ত পাকভূমে তেরঙ্গা বিজয় নিশান উড়বে না।

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement

নিরাপত্তার কারণে পাকিস্তানে যাবে না ভারত। সীমান্ত বিরোধ থেকে সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপে ইন্ধন, প্রতিবেশী দেশের দিকে বারবার আঙুল উঠেছে। শেষ পর্যন্ত কঠোর অবস্থান নিতে বাধ্য হয়েছে ভারত। ফলে বোঝাই গিয়েছিল, হাইব্রিড মডেল শেষ ভরসা হতে চলেছে। এক্ষেত্রে পিসিবি-র থেকে বেশ কয়েক কদম এগিয়েছিল বিসিসিআই। অবশেষে জয়ী হয়েছে ভারতের বোর্ডই। ভারত খেলবে দুবাইয়ে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যাননি রোহিত শর্মা। এমনকী নিজেদের দেশ ছেড়ে মরুশহরে খেলতে আসতে হবে রিজওয়ানদের। ফলে গোটা আয়োজনই কেমন যেন ‘ম্যাড়ম্যাড়ে’।

Advertisement

অবশ্য মনে করা হয়েছিল, ক্রিকেটের জৌলুসের কাছে সমস্ত বিতর্ক ফিকে হয়ে যাবে। দুই বোর্ডের টানাপোড়েনে পার করবে জিতবে ক্রিকেটই। কিন্তু কোথায় কী! এদিন ফের বিতর্ক দানা বাঁধল করাচি স্টেডিয়ামে ভারতের পতাকা না ওড়ায়। অস্ট্রেলিয়া থেকে বাংলাদেশ, অংশগ্রহণকারী সব দেশের পতাকাই রয়েছে। নেই শুধু ভারতের ত্রিবর্ণরঞ্জিত পতাকা। এটা কেন হবে? ভারতও তো চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির অংশ। ট্রফিজয়ের দাবিদারও বটে। তাহলে এই বৈষম্য কেন? পাক বোর্ড অবশ্য পরে জানিয়েই দিল, ভারত পাকিস্তানে নেই, তাই ভারতের পতাকাও নেই।

এর উত্তর একটাই হতে পারে। চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি জিতে দেখিয়ে দেওয়া যে, এভাবে রোহিতদের উপর চাপ তৈরি করা যায় না। বরং তা আরও তাতিয়ে দেয়। বিষয় হচ্ছে, ভারত যদি ফাইনালে ওঠে আর সেখানে যদি পাকিস্তানের সঙ্গে দেখা হয়, তাহলে বাবরদেরই আসতে হবে দুবাইয়ে। অথচ খাতায়-কলমে তারাই আয়োজক। বিসিসিআই প্রকারান্তরে এভাবেই নিজেদের ক্ষমতা বুঝিয়ে দিয়েছে।

উত্তর যেমন এভাবে দেওয়া যায়, তেমনই আরও একটা সম্ভাব্য উত্তর ছিল। পাকিস্তানের মাটিতে গিয়ে তাদের হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন্সদের চ্যাম্পিয়ন হওয়া। যেমনটা ঘটেছিল ২০০৪ সালে, সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে দ্বিপাক্ষিক সিরিজ। ভারত-পাক মহারণের সেই গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায় এখনও ভক্তদের স্মৃতিতে অমলিন। এবারও সেটা হলে উন্মাদনা যে আরও বাড়ত, এ কথা নিঃসন্দেহে বলা যায়। এমনিতে সাম্প্রতিক সময়ে ভারতের কাছে পর্যুদস্ত হয়েছে পাকিস্তান। দ্বিপাক্ষিক সিরিজও বন্ধ প্রায় দুই যুগ। এই পরিস্থিতিতে পাকভূমে তেরঙ্গা পতাকার উত্থান ঘটলে, ক্রিকেট মাদকতা অন্য পর্যায়ে চলে যেত। স্টেডিয়ামে পতাকা ওড়ানো হচ্ছে কি হচ্ছে না, তার যোগ্য উত্তর ট্রফি ও পতাকা তোলা, দুটো একসঙ্গে করে দেওয়া যেত।

সেটা হচ্ছে না। ভারতীয় বোর্ডকে অনেক হিসেব-নিকেশ করে পা ফেলতে হয়েছে। হাইব্রিড মডেল নিয়ে জয় পেয়েছে বিসিসিআই। এবার পালটা দিল পাকিস্তান। কিন্তু একটা প্রশ্ন থেকেই গেল, ক্রিকেট জিতল কি? চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী-সহ বাকি দেশগুলোকে ‘শান্ত’ করে রোহিতরা চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি জিতলে অন্তত তার একটা উত্তর পাওয়া যাবে।

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.