বছর কয়েক আগে কিশোর অভিপ্রায় বিশ্বাসের ‘উইকএন্ড’ রুটিন একেবারে নির্দিষ্ট ছিল। সাতসকালে দুর্গাপুর থেকে ট্রেনে কলকাতা সল্টলেকের ভিডিওকন কোচিং সেন্টারে আসা। তারপর কয়েক ঘণ্টা প্র্যাকটিস। তারপর আবার দুর্গাপুর ফিরে যাওয়া। মাঝের সময়ে বিশ্রাম নিতেন স্টেশনের প্ল্যাটফর্মেই। শনিবার এবং রবিবারটা এভাবেই কাটত তাঁর। আর যদি ম্যাচ থাকত, তবে আগের দিন মাঝরাতেই বাড়ি থেকে কলকাতার উদ্দেশ্যে রওনা হতে হত অভিপ্রায়কে। যে যাত্রায় সঙ্গী হতেন মা অলকা বিশ্বাস। সেই পরিশ্রমের ফলও পেলেন অভিপ্রায়। অস্ট্রেলিয়া অনূর্ধ্ব ১৯ দলের বিরুদ্ধে আগামী সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে দুই ফরম্যাটে সিরিজ খেলবে ভারত অনূর্ধ্ব ১৯ দল। আর সেই সিরিজের দুই ‘মাল্টি ডে’ ম্যাচের দলে জায়গা করে নিয়েছেন বাংলার এই তরুণ উইকেটকিপার-ব্যাটার।
আরও পড়ুন:
গত মরশুমে কোচবিহার ট্রফিতে ধরাবাহিকভাবে রান পেয়েছেন অভিপ্রায়। সেই সুবাদে গত মে মাসে মোহালিতে বোর্ডের ক্যাম্পে ডাকও পান তিনি। যে ক্যাম্পে দায়িত্বে ছিলেন হেড কোচ হিতেশ মজুমদার এবং ব্যাটিং কোচ স্বপ্নিল আসনোদকর। সেখানে ভালো পারফরম্যান্সের সুবাদে বেঙ্গালুরুর সিওই-তে উইকেটকিপারদের বিশেষ ক্যাম্পে সুযোগ পেয়েছেন তিনি। বোর্ডের দল ঘোষণার সময় সেখানেই ছিলেন তিনি। তবে ভাবতে পারেননি, অনূর্ধ্ব ১৯ দলে নাম থাকবে। তাই দল ঘোষণার পর উচ্ছ্বসিত এই বঙ্গ তরুণ। প্রথমবার কোনও জাতীয় দলে ডাক পাওয়াকে নিজের স্বপ্নপূরণের সূচনা হিসেবেই দেখছেন অভিপ্রায়। বেঙ্গালুরু থেকে ফোনে তিনি বলছিলেন, “সিওই-র সব ক্যাম্পেই আমি ভালো পারফর্ম করেছি। কিন্তু জাতীয় দলে ডাক পাওয়া নিয়ে কোনও ভাবনা ছিল না। এটা আমার কাছে স্বপ্নপূরণের প্রথম রূপ।” অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে চারদিনের দু’টি ম্যাচ খেলবেন অভিপ্রায়রা। প্রথমটা রাজকোটে শুরু হবে ২৭ সেপ্টেম্বর থেকে। দ্বিতীয়টা আহমেদাবাদে, ৫ অক্টোবর থেকে। তবে এখনই সেই ম্যাচ নিয়ে ভাবছেন না অভিপ্রায়। বরং সিওই-তে কিপিং ক্যাম্পে নিজের পূর্ণ মনযোগ দেওয়ার উপর জোর দিচ্ছেন। তাঁর কথায়, “রাজকোটে আগেও অনেক ম্যাচ খেলেছি। আহমেদাবাদেও। জানি ওখানে উইকেট কেমন হতে পারে। তবে এখনও আমাদের ক্যাম্প শুরু হয়নি ওই সিরিজের জন্য। আপাতত শুধু সিওই-র উইকেটকিপিং ক্যাম্পেই ফোকাস করছি।
ছোটবেলা থেকেই ক্রিকেটে আগ্রহী ছিলেন অভিপ্রায়। সেই সুবাদে দাদুর হাত ধরে স্থানীয় একটি কোচিং সেন্টারে ক্রিকেটে হাতেখড়ি হয় তাঁর। তারপর চলে আসেন সল্টলেকের কোচিং সেন্টারে। সেখানে প্রতি শনিবার ও রবিবার আসতেন তিনি। নিজের সেই যাত্রা প্রসঙ্গে অভিপ্রায় বলছিলেন, “শনিবার সকালে রওনা হতাম দুর্গাপুর থেকে। দুপুরে সল্টলেকে প্র্যাকটিস করতাম। তারপর আবার বাড়ি ফিরতাম। এক-একদিন রাত এগারোটা বেজে যেত ফিরতে। রবিবারও তাই। আর যদি ম্যাচ থাকত, তবে আগের দিন মাঝরাতে রওনা হতাম। পুরো সময়টাই মা থাকত আমার সঙ্গে।” জাতীয় অনূর্ধ্ব ১৯ দলে জায়গা পেয়ে বাংলার দুই প্রাক্তনের কথাও বলছেন তিনি। সৌরাশিস লাহিড়ি ও ঋদ্ধিমান সাহা। দু’জনের কোচিংয়েই খেলেছেন তিনি। সৌরাশিসের ফোনেই এদিন অনূর্ধ্ব ১৯ জাতীয় দলে ডাক পাওয়ার কথা জানতে পারেন অভিপ্রায়। আবার কিপার-ব্যাটার হিসেবে আবার ঋদ্ধিমানকে নিজের আদর্শও মানেন তিনি। অভিপ্রায়ের কথায়, “গত মরশুমে শুরুতেই অনূর্ধ্ব ১৯ পর্যায়ে মুম্বইয়ের বিরুদ্ধে অপরাজিত সেঞ্চুরি করি। কিন্তু তারপর কয়েকটা ইনিংসে রান পাইনি। কিন্তু সৌরাশিসদা আমার উপর ভরসা রেখেছিলেন। পরে অনূর্ধ্ব ২৩ বাংলা দলে খেলার সময় ঋদ্ধিদার থেকে পরামর্শ পেয়েছি। কিপিং নিয়ে আমার বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন তিনি। যেমন গ্লাভসের পজিশন কীভাবে ঠিক করা যায়। সেগুলো আমার কাজে লেগেছে।” ঋদ্ধিমানের মতো এবার অভিপ্রায়ও জাতীয় দলের ভবিষ্যৎ হয়ে উঠুক, সেটাই এখন প্রার্থনা বঙ্গ ক্রিকেটের।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
ইমরানকে অপমান পাক ক্রিকেটারদেরই! লজ্জাজনক কাণ্ড বাবরদের, নেপথ্যে রাজনীতির উসকানি?
-
ফিফার আধিকারিকদের কোটি কোটি টাকা ঘুষ! বিশ্বকাপের পর বিস্ফোরক স্বীকারোক্তি দুই আর্জেন্টাইনের
-
প্রিয়রঞ্জনের নামে ইলেক্ট্রিক বিলই ১৪ বছর পর খুলল কংগ্রেস কার্যালয়ের দরজা! রাখিতেই উদ্বোধন
-
দুধ গরম বিতর্ক অতীত! ফুটপাথবাসীর হাতে রাখি বাঁধলেন অগ্নিমিত্রা, খুদেদের লাড্ডু-চকোলেট উপহার
-
আরএসএসের কর্মসূচিতে যোগ দেওয়া ‘অপরাধ’, দুই শিক্ষককে সাসপেন্ড করল কর্নাটকের কংগ্রেস সরকার