অপরাজিত ভাবে ১৮ পয়েন্ট নিয়ে কলকাতা লিগে এই মুহূর্তে নিজেদের গ্রুপে শীর্ষে মহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব। তারপরেও সাদা-কালো শিবিরের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করে ফেললেন কোচ মেহরাজউদ্দিন। বৃহস্পতিবার বেশি রাতে তাঁর পদত্যাগের মেল পৌঁছে যায় মহামেডান সচিব ওয়াসিম আক্রম, সভাপতি গজল জাফরের কাছে। স্বাভাবিক ভাবেই আজ কলকাতা লিগে কোল ইন্ডিয়ার ম্যাচে মহামেডান কোচের চেয়ারে আর দেখা যাবে না জাতীয় দলের এই প্রাক্তন ডিফেন্ডারকে। কোচের চেয়ারে বসবেন সহকারী শাহিদ রামন।
সাধারণত দেখা যায়, মরশুমের মাঝখানে ব্যর্থতার কারণ দেখিয়ে কোচকে সরিয়ে দেন মহামেডান কর্তারা। কিন্তু এক্ষেত্রে ঘটনা সম্পূর্ণ উলটো। মহামেডান এই মুহূর্তে ১৮ পয়েন্ট নিয়ে কলকাতা লিগের সুপার সিক্সে ওঠার জন্য গ্রুপ শীর্ষ রয়েছে। ফলে কোচ হিসেবে মেহরাজউদ্দিন ব্যর্থ, এরকম অভিযোগটাও আনা যাবে না। আবার অন্য কারণেও মহামেডান কর্তারা মেহরাজকে কোচের পদ থেকে সরিয়ে দিতে চান, পরিস্থিতিটা সেরকম নয়। তাহলে কেন নিজের থেকেই সরে গেলেন মেহরাজ? তবে তিনি যে কোচের পদ থেকে সরে যেতে পারেন, সেটাও অনেক আগেই টের পেয়ে গিয়েছিলেন সাদা-কালো কর্তারা। যে কারণে সহকারী কোচ শাহিদ রমনের উপর লিগের বাকি ম্যাচগুলিতে কোচিং করানোর ভার দেওয়ার জন্যও প্রস্তুত ছিলেন মহামেডান কর্তরা।
আরও পড়ুন:
যা শোনা যাচ্ছে, চুক্তিপত্রর কিছু পয়েন্ট নিয়ে সমস্যা না মেটার জন্যই না কি মহামেডান কোচের পদ থেকে সরে গেলেন সাদা-কালো জার্সির প্রাক্তন জাতীয় ফুটবলার। ইস্তিয়াক আহমেদরা যখন মহামেডানের ক্ষমতায়, সেই সময়েও একবার মহামেডানের কোচ হয়েছিলেন তিনি। সেই সময়ও লিগে সফল কোচ হিসেবেই যখন কোচিং করাচ্ছিলেন, সেই সময়েও তাঁকে সরিয়ে দিয়েছিলেন কর্তারা। তবে এবার মোটামুটি দু’পক্ষই বিচ্ছেদের পরিস্থিতিটা জানেন।
মরশুমের শুরুতে চুক্তিপত্রের যে যে শর্তগুলি নিয়ে মেহরাজ মহামেডান কর্তাদের সঙ্গে কথা বলেছিলেন, শোনা যাচ্ছে, কলকাতা লিগ মাঝপথে চলে এলেও এখনও সেই ‘প্রফেশনাল’ চুক্তিপত্র মেহরাজের হাতে তুলে দেননি মহামেডান কর্তরা। আর এটাই রীতিমতো অসন্তুষ্ট করেছে মহামেডান কোচকে। বারবার কর্তাদের সঙ্গে আলোচনায় বসলেও সমস্যা মেটেনি। চুক্তিপত্রও হাতে পাননি। ফলে মেহরাজ ধরেই নিয়েছেন, মরশুমের শুরুতেই তাঁর দেওয়া শর্তমতো চুক্তিপত্র হয়তো আর পাবেন না তিনি। সেই কারণেই এদিন বেশি রাতে ক্লাব সভাপতি এবং সচিবকে মেল করে জানিয়ে দেন, এই মরশুমে মহামেডানে আর কোচিং করবেন না। তবে সকাল থেকেই পদত্যাগ পত্র লিখে ফেলে পকেটে নিয়ে ঘুরছিলেন। যে কোনও মুহূর্তেই ওয়াসিম আক্রমের হাতে দিয়ে দেবেন এই ভাবনায়। মেহরাজ যে পদত্যাগ করতে পারেন, সেটা সাদা-কালো কর্তারাও বুতে পেরেছিলেন। আর তাই সহকারী কোচ শাহিদ রামনকেও বলা আছে, যে কোনও মুহূর্তে দলের হাল ধরতে হতে পারে। ফলে মেহরাজ এই মুহূর্তে দল ছেড়ে দিলেও হঠাৎ করে কোচের সমস্যায় পড়বেন না মহামেডান ফুটবলাররা। কলকাতা লিগের শুরু থেকেই দলের সহকারী কোচ হিসেবে থাকার জন্য শাহিদ রামনও প্রত্যেক ফুটবলারকে জানেন। ফলে শুরুতেই সমস্যা সামলে নেওয়া যাবে।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
ইমরানকে অপমান পাক ক্রিকেটারদেরই! লজ্জাজনক কাণ্ড বাবরদের, নেপথ্যে রাজনীতির উসকানি?
-
ফিফার আধিকারিকদের কোটি কোটি টাকা ঘুষ! বিশ্বকাপের পর বিস্ফোরক স্বীকারোক্তি দুই আর্জেন্টাইনের
-
প্রিয়রঞ্জনের নামে ইলেক্ট্রিক বিলই ১৪ বছর পর খুলল কংগ্রেস কার্যালয়ের দরজা! রাখিতেই উদ্বোধন
-
দুধ গরম বিতর্ক অতীত! ফুটপাথবাসীর হাতে রাখি বাঁধলেন অগ্নিমিত্রা, খুদেদের লাড্ডু-চকোলেট উপহার
-
আরএসএসের কর্মসূচিতে যোগ দেওয়া ‘অপরাধ’, দুই শিক্ষককে সাসপেন্ড করল কর্নাটকের কংগ্রেস সরকার