সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: ল্যাকপ্যাকে শরীর। সাদামাটা রান আপ। তাতেই তাবড় ব্যাটসম্যানরা কেঁপে যেত। চোট-আঘাতের জন্য নানা কথা শুনলেও তাঁর প্রত্যাবর্তন ভারতীয় ক্রিকেটে আলাদা জায়গা করে নিয়েছে। সেই রূপকথা বুধবার রাতে থেমে যাচ্ছে। ভারতীয় ক্রিকেট থেকে চিরবিদায় আশিস নেহরার। বিদায়বেলায় এই বর্ণময় ক্রিকেটারের কিছু জানা না জানা তথ্য রইল এই প্রতিবেদনে।

বিশ্বকাপে ভারতের সেরা বোলার: বিশ্বকাপে অনেক কীর্তির সাক্ষী টিম ইন্ডিয়া। তবে কোনও বোলারের সেরা পারফরম্যান্স ধরলে এই টুর্নামেন্টে সবার আগে আশিস নেহরা। ২০০৩-এর বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে তাঁর ২৩ রানে ৬ উইকেট, এখনও পর্যন্ত বিশ্বকাপে ভারতীয় বোলারদের মধ্যে সেরা কীর্তি।
হাফ ডজন কীর্তি: একমাত্র ভারতীয় বোলার হিসাবে একদিনের ক্রিকেটে দুবার ৬ উইকেট। একমাত্র নজির এই বুড়ো ক্রিকেটারের ঝুলিতে। ২০০৩ এর বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে হাফ ডজন উইকেটের পর ২০০৫ সালে কলম্বোয় শ্রীলঙ্কার ৬ ব্যাটসম্যানকে ফিরিয়েছিলেন এই মুখচোরা ক্রিকেটার।
ব্যাটসম্যান নেহরা: হ্যাঁ এমনও ঘটেছিল। নিউজিল্যান্ড সফরে ২০০২-০৩ সালে ভরাডুবি হয়েছিল টিম ইন্ডিয়ার। সাত ম্যাচের সিরিজে প্রথম ম্যাচটি হেরে গিয়েছিল সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের ভারত। ষষ্ঠ ম্যাচেও হারের মুখে ছিলেন সৌরভরা। শেষ উইকেটের জুটি নেহরাই ভারতকে জিতিয়েছিলেন। ২০০২ তে লর্ডসে অ্যান্ড্রু ফ্লিন্টফের বলে বিশাল ৬ মেরেছিলেন নেহরা। গোটা ড্রেসিংরুমে উঠে দাঁড়িয়েছিল। কিন্তু বিনয়ী নেহরা মাথা নিচু করেছিলেন।
অভিন্নহৃদয় শেহবাগ: দিল্লির রণজি দল কিংবা টিম ইন্ডিয়া বা আইপিএল। বহুবার টিমমেট হিসাবে থেকেছেন বীরু ও আশিস। কতবার একসঙ্গে স্কুটারে চেপে তাঁরা অনুশীলনে গিয়েছেন তার ইয়ত্তা নেই। স্মৃতিচারণায় শেহবাগ বলছেন তিনিই গাড়ি চালাতেন, আর পিছনে কিট ব্যাগ নিয়ে বসতেন নেহরা। দু’চাকায় যেতে যেতে তাদের সম্পর্কের বাঁধন যেন আরও মজবুত হয়েছিল। বীরুর এই মনোভাব শুনে নেহরা বলেন শেহবাগের মতো বন্ধু আর কে আছে।
আঘাতপ্রবণ: চোট-আঘাত তাঁর কেরিয়ার ছোট করে দেয়। নেহরার এই সমস্যা নিয়ে ভারতীয় ক্রিকেটে নানা গল্প আছে। একবার যুবরাজ সিং মজাচ্ছলে বলেছিলেন, নেহরা ঘুমোনোর সময়ও আঘাত পায়।

কামব্যাক ম্যান: ১৯৯৯ থেকে এপর্যন্ত ১২ বার এই স্পিডস্টারের অস্ত্রোপচার হয়েছে। এত আঘাতের পরও নেহরা সফলভাবে ফিরে এসেছেন। এই নজির কোনও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটারের নেই।
প্রযুক্তি থেকে দূরে: ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ, টুইটার, ইনস্টাগ্রাম। এসব কী তা নিয়ে মাথা ঘামান না নেহরা। পুরনো নোকিয়ার হ্যান্ডসেট বছরখানেক আগে পর্যন্ত ব্যবহার করেছেন। কয়েক মাস আগে স্ত্রী আই ফোন উপহার দেওয়ার পর সোশ্যাল মিডিয়ায় খানিকটা সড়গড় হয়েছেন। আর টুইটার অ্যাকাউন্ট একেবারে হালে।
শেষ ওয়ানডে ২০১১ সালে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে। টেস্ট থেকে বিদায় আরও আগে, সেই ২০০৪-এ। আজহারের জমানায় ইন্ডিয়া ক্যাপ পাওয়া তিনিই একমাত্র ভারতীয় ক্রিকেটার যিনি এখনও খেলে যাচ্ছেন। ১৯৯৯-এ শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অভিষেকের পর থামছেন আশিস। যে মাঠে তাঁর অভিষেক, তারকা হয়ে ওঠা সেই ফিরোজ শা কোটলায় ফেয়ারওয়েল ম্যাচ নেহররা।
সর্বশেষ খবর
-
রাজনীতিমুক্ত নিয়োগ! এবার স্কুল সার্ভিস কমিশনের দায়িত্বে দুঁদে আমলা দুষ্মন্ত নারিয়ালা
-
৬০ বছর পর ফিরল অগ্নি অশ্ব বছর, অলৌকিক শক্তিতে জাগছে কৈলাস
-
লক্ষ্মীলাভেও ফিরল না ভাগ্য! লটারিতে জেতা কোটি টাকা হাতিয়ে নিল মালিকই, তারপর…
-
বায়োলজির স্পেশাল ক্লাসের নামে বাড়ি ডেকে ছাত্রীকে লাগাতার নির্যাতন! গ্রেপ্তার শিক্ষক
-
মেলবোর্ন সফরে মোদিকে খুনের ছক! তদন্তে নামল অস্ট্রেলিয়ার পুলিশ