সোনাল দিনুশার (Sonal Dinusha) কাছে ক্রিকেট নিছকই খেলা নয়। অফুরান আনন্দের উৎস নয়। তাঁর কাছে ক্রিকেট আদতে কর্কশ বাস্তব থেকে নিজেকে সরিয়ে রাখার অস্ত্রও বটে! ভারত-শ্রীলঙ্কা সদ্য সমাপ্ত টেস্ট সিরিজ দেখেছেন যাঁরা, সোনাল দিনুশাকে না চেনার কথা নয়। সিরিজ সেরার পুরস্কার দেওয়া হয়েছে ভারতের দেবদত্ত পাড়িক্কলকে। যা অনায়াসে দেওয়া যেত দিনুশাকেও।
আরও পড়ুন:
গলে প্রথম ইনিংসে সেঞ্চুরি। কলম্বোয় দু’ইনিংসেই সেঞ্চুরি। কলম্বোয় ভারতের গ্রাস থেকে জয় কেড়ে নিয়ে টেস্ট ড্র করে দেওয়া। কম কী করেছেন দিনুশা? ভারতের হেডকোচ গৌতম গম্ভীর থেকে প্রাক্তন নাম্বার থ্রি চেতেশ্বর পূজারা– প্রত্যেকে বিমোহিত দিনুশাকে নিয়ে। স্বাভাবিক। সদ্য সমাপ্ত সিরিজে চার ইনিংসে যে তিন সেঞ্চুরি-সহ ৪২০ রান করেছেন তিনি। ব্যাটিং গড় ১৪০! পূজারা তো একধাপ এগিয়ে বলে দিয়েছেন, কুমার সঙ্গকারা-মাহেলা জয়বর্ধনেদের মতো লঙ্কা ক্রিকেটের কিংবদন্তিতে পরিণত হওয়ার ক্ষমতা রয়েছে দিনুশার।
ভারতের হেডকোচ গৌতম গম্ভীর থেকে প্রাক্তন নাম্বার থ্রি চেতেশ্বর পূজারা– প্রত্যেকে বিমোহিত দিনুশাকে নিয়ে।
কিন্তু তাঁর, পাঁচ টেস্টের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন শ্রীলঙ্কা অলরাউন্ডারের তার পরেও হেলদোল নেই বিশেষ। বরং কলম্বো টেস্ট শেষ হওয়ার এক ঘণ্টার মধ্যে নেটে ফের ব্যাট করতে চলে যান তিনি! আসলে ব্যাটের কী মহিমা, তা দিনুশার চেয়ে কেউ ভালো আর জানে না যে! জীবনের প্রথম ব্যাটটা দিনুশাকে তাঁর পরিবার কিনে দিতে পারেনি। চরম অর্থাভাবে। শেষে তাঁর দিদি টাকা ধার করে ভাইকে ক্রিকেট ব্যাট কিনে দেন।
‘‘শ্রীলঙ্কার অধিকাংশ বাচ্চাদের মতো দিনুশা একটা সময় বাস্কেটবল প্লেয়ার হতে চেয়েছিল। খুব সিরিয়াসলি প্র্যাকটিস করত। দিনুশার স্কুল কোচ ওকে হালকা চালে ক্রিকেট খেলতে দেখে, খেলা বদলাতে বলে। ক্রিকেটে নিয়ে আসে। কিন্তু সেই সময় ওর কাছে একটা ক্রিকেট ব্যাট পর্যন্ত ছিল না,’’ বলে দিয়েছেন দিনুশার কোচ আশান প্রিয়রঞ্জন। ‘‘ওর দিদি শেষ পর্যন্ত টাকা ধার করে ভাইকে ব্যাট কিনে দেয়। যা কি না সোনালের প্রথম ক্রিকেট ব্যাট। ওর পরিবারের কখনওই সেভাবে অর্থ ছিল না। এখন যেটুকু যা রয়েছে, দিনুশার জন্যই। গোটা পরিবারের আয়ের একমাত্র উৎস ওর ক্রিকেট।’’

দিনুশার কাছে দেখতে গেলে জাগতিক মোহ হিসাবে দু’টো জিনিসই পড়ে রয়েছে। পরিবার আর ক্রিকেট। তাই ক্রিকেটে, ক্রিকেটে সাফল্যের মাহাত্ম্য তাঁকে আলাদা করে বোঝাতে হয় না। যেমন ভারত সিরিজের আগে। দিনুশা সোজা ফোন করেছিলেন কোচকে। বলেছিলেন, ভারতের হাতে ভালো স্পিনার রয়েছে। কী করা উচিত তাঁর? ‘‘সোনাল বলেছিল, প্রিপারেশনটা ভালো করে দরকার স্যর। প্রতিটা খেলার আগেই ও ফোন করে আমাকে,’’ বলে দিয়েছেন প্রিয়রঞ্জন। এবং তিন ভারতীয় স্পিনার রবীন্দ্র জাদেজা, মানব সুথার, কুলদীপ যাদবের বিরুদ্ধে সোনালের সাফল্যে বিস্মিত নন প্রিয়রঞ্জন।
দিনুশার কাছে দেখতে গেলে জাগতিক মোহ হিসাবে দু’টো জিনিসই পড়ে রয়েছে। পরিবার আর ক্রিকেট। তাই ক্রিকেটে, ক্রিকেটে সাফল্যের মাহাত্ম্য তাঁকে আলাদা করে বোঝাতে হয় না।
সোনালের কোচ বলছিলেন, ‘‘আমি সোনালকে যখন দেখি, তখন ও স্কুল ক্রিকেটার। দেখুন, ভারতের বিরুদ্ধে ওর সাফল্যের নেপথ্যে শুধুমাত্র যে আমাদের প্রাক্ সিরিজ ট্রেনিংয়ের জন্য, তা নয়। ওর নিজের অধ্যবসায়ের কথাও বলতে হবে। আমি একবার সোনালকে বলেছিলাম, বেশিরভাগ সময় ওকে এশীয় পরিবেশে খেলতে হবে। তাই সুইপ শট বেশি করে খেলতে হবে। শটটাকে আরও বেশি নিখুঁত করা প্রয়োজন। ব্যস, এরপর থেকে সোনাল দিনে দু’ঘণ্টা করে শুধুমাত্র নেটে সুইপ শট প্র্যাকটিস করত।’’ সঙ্গে প্রিয়রঞ্জনের সংযোজন, ‘‘সোনাল জানে লড়াই কাকে বলে। ছোটবেলা থেকে যে লড়তে হয়েছে ওকে। দারিদ্রের সঙ্গে। ক্রিকেট তাই ওর কাছে সেই দুঃসহ জীবন থেকে বাঁচার একটা জানালাও। আর একটা বিষয়কে ও অত্যন্ত দাম দেয়। কমিটমেন্ট। দায়বদ্ধতা।’’
যেমন? যেমন ভারতের বিরুদ্ধে টেস্ট সিরিজ খেলে ওঠে সোজা প্রিয়রঞ্জনকে ফোন করেছিলেন দিনুশা। বলেন, পরের দিন থেকে ট্রেনিংয়ে আসবেন। ক্লাবের ম্যাচ রয়েছে। খেলবেন তাতে। কোচ বোঝাতে গিয়েছিলেন ছাত্রকে। বলেছিলেন, ক’টা দিন বিশ্রাম নাও। সবেমাত্র টেস্ট সিরিজ খেলে উঠলে। প্রত্যুত্তরে দিনুশা বলে দেন, ‘‘সে সব ঠিক আছে স্যর। টেস্ট সিরিজ শেষ হয়ে গিয়েছে। এবার ক্লাবকে জেতাতে হবে।’’ ক্রিকেটকে কি আর এমনি-এমনি সাধনা বলে?
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
‘আওয়ারাপন ২’-এর সাফল্যের মাঝেই গুরুতর অসুস্থ, বাতিল শো, কেমন আছেন ইমরান?
-
ইউক্রেনে তাণ্ডব! আছড়ে পড়ল একের পর এক রুশ ড্রোন, মৃত ২৭
-
পুলিশকে মারধর-সহ জমি দখল, দুর্নীতি! নৈহাটি-ভাটপাড়ায় গ্রেপ্তার পলাতক ২ তৃণমূল কাউন্সিলর
-
মালদহে ব্যবসায়ী খুনের নেপথ্যে অনলাইন গেম, খুনি লুকিয়ে পরিবারেই! রহস্যভেদ পুলিশের
-
ভিসা পরীক্ষায় ১৫ মিনিট দেরিই বাঁচাল প্রাণ! নেপাল বিপর্যয়ে অক্ষত বসিরহাটের প্রবীণ দম্পতি