FIFA World Cup 2026

বর্ণবিদ্বেষকে হারিয়ে মেসিদের বিরুদ্ধে গোল, রূপকথা লিখে মাঠ ছাড়লেন কেপ ভার্দের গোলদাতা

আর্জেন্টিনা ২-১ গোলে এগিয়ে। অনেকে ধরেই নিয়েছেন, রূপকথা হয়তো আর লেখা হল না কেপ ভার্দের। ঠিক তখনই সিডনি লোপেজ কাব্রালের দুরন্ত একটা শট দিবু মার্টিনেজকে পরাস্ত করে জালে জড়াল।

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: জুলাই ৫, ২০২৬, ১৬:০৭

options
link
বর্ণবিদ্বেষকে হারিয়ে মেসিদের বিরুদ্ধে গোল, রূপকথা লিখে মাঠ ছাড়লেন কেপ ভার্দের গোলদাতা
সিডনি লোপেজ কার্বালের দুরন্ত একটা শট দিবু মার্টিনেজকে পরাস্ত করে জালে জড়াল।

স্কোরবোর্ডে দেখাচ্ছে তখন অতিরিক্ত সময়ের খেলা চলছে। আর্জেন্টিনা ২-১ গোলে এগিয়ে। অনেকে ধরেই নিয়েছেন, রূপকথা হয়তো আর লেখা হল না কেপ ভার্দের। ঠিক তখনই সিডনি লোপেজ কাব্রালের দুরন্ত একটা শট দিবু মার্টিনেজকে পরাস্ত করে জালে জড়াল। কোনওদিকে আর তাকালেন না তিনি। পাগলের মতো ছুটছিলেন। হয়তো আবেগ গ্রাস করেছিল তাঁকে। শেষমেশ অবশ্য তাঁর টিম জিতল না। আর্জেন্টিনা চলে গেল শেষ ষোলোয়। কেপ ভার্দে জিতল না ঠিকই, কিন্তু তাদের লড়াই গোটা ফুটবল বিশ্বের কাছে চিরকালীন রূপকথা হয়ে থেকে যাবে। ঠিক যেমন থেকে যাবে কাব্রালের অবিস্মরণীয় গোলটাও।

Advertisement

বিশ্বকাপের (FIFA World Cup 2026) মঞ্চে কেপ ভার্দের রূপকথার মতো সিডনি লোপেজ কাব্রালের জীবনের লড়াইটাও যেন আজ প্রতিষ্ঠা পেল। কেপ ভার্দের ওই টিমে সাতজন ফুটবলার রয়েছেন, যাঁদের জন্ম রটারডামে। যার মধ্যে সিডনিও রয়েছেন। যাঁর আলোয় পৌঁছনোর রাস্তটা ছিল বরফে ঢাকা। টুয়েন অ্যাকাডেমি থেকে জার্মানির পঞ্চম ডিভিশনে ছোট্ট ক্লাব রট-ভাইস-এরফুর্ট। সম্বল বলতে শুধুই একটা ছোট্ট ঘর। ঘরে পর্দার বদলে ঝোলানো থাকত প্লাস্টিকের ব্যাগ। ক্লাবের পরিকাঠামো খুব বেশি ছিল না। শুধু একটা শর্টস। হাড় কাঁপানো শীতে যা পরে ছোট কৃত্রিম ঘাসের মাঠে অনুশীলন। এটাই ছিল লোপেজের প্রতিদিনের জীবন-যুদ্ধ। কিন্তু কোনও কিছুই তাঁকে থামাতে পারেনি। এরফুর্ট থেকে ভিক্টোরিয়া কোলন। তারপর পর্তুগালের এক ক্লাব হয়ে বেনফিকায়। সেখান থেকেই স্বপ্নের শুরুটা। পরে কার্বাল বলেছিলেন, “ওটা ফুটবল ছিল না। আমার কাছে ছিল বেঁচে থাকার যুদ্ধ। তবে নিজের উপর থেকে কখনও বিশ্বাস হারাইনি।”

Advertisement

কিন্তু মুশকিল হল, কার্বলের ফুটবল জীবনে দুর্ধর্ষ ডিফেন্ডার যত না কঠিন প্রতিপক্ষ ছিল, তার চেয়ে অনেক বেশি লড়াই করতে হয়েছে বর্ণবিদ্বেষের সঙ্গে। জার্মানিতে বর্ণবিদ্বেষের শিকার হতে হয়েছে। এমনকী, বেনফিকায় গিয়ে আক্রান্ত হতে হয়েছে। সোশাল মিডিয়ায় তাঁর দিকে ছুটে এসেছে ক্রমাগত বিষাক্ত মন্তব্যের ঝড়। কখনও কখনও পরিস্থিতি এতটা ভয়াবহ হয়েছিল যে, সিডনিকে ফোন পর্যন্ত বন্ধ করে রাখতে হত। তবু তিনি থামেননি, স্বপ্ন দেখাও ছাড়েননি। মানুষের ঘৃণা, অপমানকে পথের ধুলো মনে করে পাড়িয়ে চলে যেতেন। সিডনির সেই লড়াইয়ের প্রতিধ্বনি যেন মায়ামির আকাশ-বাতাসে মুখরিত হল। তিনি বলছিলেন, “অবিস্মরণীয় মুহূর্ত নিয়ে ফিরছি। আমরা জিততে পারলাম না ঠিকই, কিন্তু মাথা উঁচু করে ফিরছি।”

Advertisement

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.