ফ্রান্স ২ (এমবাপে, দেম্বেলে)
মরক্কো ০
আরও পড়ুন:
ফুটবলে একটা জাদুবাক্স আছে। সেখানে বন্দি থাকে জয়-পরাজয়ের হিসাব। যা একবার সেখানে ঢুকে পড়লে বেরিয়ে আসার সুযোগ নেই। ঠিক যেমন চার বছর আগে। হইহই করে সেমিফাইনালে মরক্কো। কিন্তু ‘অ্যাটলাস লায়ন্স’কে হৃদয়ভাঙার গল্প শুনিয়েছিল ফ্রান্স। এরপর নদী দিয়ে অনেক জল গড়িয়েছে। অভিবাসন নীতি নিয়ে কঠোর হয়েছে ফ্রান্স। এতে যেমন উষ্মার মেঘ পুঞ্জীভূত হয়েছে। তেমনই পশ্চিম সাহারা ইস্যুতে মরক্কোর সার্বভৌমত্বকে সমর্থন জানিয়েছেন ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ। যা মেঘ কাটিয়ে স্বস্তির বৃষ্টি এনেছে। আর বিশ্বকাপের মঞ্চে ফ্রান্স-মরক্কোর দ্বৈরথ দুই দেশের পোস্ট-কলোনিয়াল ইতিহাসকে সামনে নিয়ে আসে। তাকে সাক্ষী রেখে এবার চার বছর আগের অপূর্ণ হিসাব মিটিয়ে নতুন ইতিহাস লেখার সুযোগ ছিল মরক্কোর কাছে। কিন্তু ফুটবল মাঝেমাঝেই বড্ড নির্মম। এমবাপেদের হারিয়ে চতুর্বার্ষিক ক্ষতের উপশম হল না ইয়াসিন বোনো, আশরাফ হাকিমিদের। ওই যে বলা হয়েছে জাদুবাক্স। সেখানে এদিন মরক্কোর পরাজয়ের চিরকুট জমা করলেন ফুটবলদেবতা। বদলার ম্যাচে নিষ্ফলা থাকল মরক্কো। এমবাপে-দেম্বেলে জোড়া ফলায় সেমিফাইনালে ফ্রান্স (France vs Morocco Match Report)।
A third straight Semi-final secured for France. 🇫🇷#FIFAWorldCup
Advertisement— FIFA World Cup (@FIFAWorldCup) July 9, 2026
শুরু থেকেই আক্রমণে আধিপত্য দেখায় ফ্রান্স। কিলিয়ান এমবাপে, উসমান দেম্বেলে, মাইকেল ওলিসে ও দেজিরে দুয়ের নেতৃত্বে একের পর এক আক্রমণ শানায় তারা। কিন্তু প্রতিবারই মরক্কোর রক্ষণ পতন রোধ করেছে। একই সঙ্গে ইয়াসিন বোনো ছিলেন দুরন্ত। প্রায় একার হাতেই ঠেকিয়ে দিচ্ছিলেন দিদিয়ের দেশঁর ছেলেদের। ২৫ পেনাল্টি পায় ফ্রান্স। আশরফ হাকিমির কাছ থেকে বল কেড়ে নিয়ে এমবাপেকে পাস বাড়ান দুয়ে। গতি বাড়িয়ে মরক্কোর বক্সে ঢুকে পড়তেই তাঁকে ফাউল করেন নৌসের মাজরাউই। প্রায় ৩ মিনিট ধরে ভিএআর রিপ্লে দেখে যাচাইয়ের পর পেনাল্টির সিদ্ধান্ত বহাল থাকলেও স্পটকিক থেকে এমবাপের নেওয়া দুর্বল শট রুখে দেন মরক্কো গোলরক্ষক। এরপরও সুযোগ তৈরি করে ফ্রান্স। দেম্বেলের একাধিক শট লক্ষ্যভ্রষ্ট। দুয়ের শট বাঁচান বোনো। প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে লুকাস ডিগনের দূরপাল্লার জোরাল শট ক্রসবারে লেগে প্রতিহত হয়। অন্যদিকে, কাউন্টার অ্যাটাক নির্ভর পরিকল্পনায় খেলা মরক্কোর ব্রাহিম দিয়াজ কয়েকবার সুযোগ তৈরি করলেও ফরাসি রক্ষণ ভাঙতে পারেননি। ডিফেন্সে উইলিয়াম সালিবা ছিলেন অপ্রতিরোধ্য। প্রথমার্ধের শেষ দিকে বক্সের ঠিক বাইরে ফ্রি-কিক পেলেও আশরাফ হাকিমির শট লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। ৬৩ শতাংশ বলের দখল ছিল ফ্রান্সের। তবে একের পর এক সুযোগ নষ্ট, বোনোর দুর্দান্ত গোলকিপিংয়ের গোলশূন্য অবস্থায় বিরতিতে যায় দুই দল।

দ্বিতীয়ার্ধে অন্য ফ্রান্সকে দেখা যায়। বিরতির পর যেন মরণপণ প্রতিজ্ঞা করে নেমেছিল তারা। শুরু থেকেই আক্রমণের তীব্রতা বাড়ায় ‘লে ব্লুজ’। ৬০ মিনিটে তিন মরক্কো ডিফেন্ডারের মাঝখান থেকে বক্সের বাইরে থেকে বাঁক খাওয়ানো জোরাল শটে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন এমবাপে। চলতি বিশ্বকাপে এটা এমবাপের ৮ নম্বর গোল। সবমিলিয়ে বিশ্বকাপে ২০ বার স্কোর শিটে নাম লেখালেন তিনি। গোল হজমের ধাক্কা সামলে ওঠার আগেই আরও একবার আঘাত হানে ফরাসিরা। ৬৬ মিনিটে মাইকেল অলিসের পাস থেকে এমবাপের নিখুঁত ওয়ান-টাচ সেট-আপ কাজে লাগিয়ে ডান দিক দিয়ে বক্সে ঢুকে নিচু শটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন উসমান দেম্বেলে। চলতি বিশ্বকাপে এটা তাঁর পঞ্চম গোল। ৭৭ মিনিটে এমবাপেকে তুলে নেন দেশঁ। সেমিফাইনালের কথা ভেবে তাঁকে নিয়ে ঝুঁকি নিয়ে চাননি কোচ। মরক্কো পালটা আক্রমণে কিছু সুযোগ তৈরি করলেও কাজের কাজ করতে পারেনি। শেষ দিকে আশরাফ হাকিমি, আজেদিন উনাহি, এল আইনাউইদের প্রচেষ্টাও বিফলে যায়। তবে একটা কথা মানতেই হয়, বোনো না থাকলে আরও বড় ব্যবধানে জিতত ফ্রান্স।
কোয়ার্টার ফাইনালে ফ্রান্সের এমন দাপুটে ফুটবল দেখার পর প্রশ্ন উঠতে বাধ্য, কে রুখবে এই ফ্রান্সকে? বিশ্বকাপে ‘ফরাসি বিপ্লব’ জারি রেখেই শেষ চারে পৌঁছে গেল তারা। এই দলকে হারানো এখন যে কোনও দলের কাছেই কঠিন চ্যালেঞ্জ। ২০২২ কাতার বিশ্বকাপের সেমিফাইনালেও ফ্রান্স মরক্কোকে ২-০ গোলে হারিয়ে ফাইনালে উঠেছিল। এবার কোয়ার্টার ফাইনালে স্কোর লাইন একই রেখে সেমির যুদ্ধে মাঠে নামবেন এমবাপেরা। তাঁদের সামনে স্পেন অথবা বেলজিয়াম।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
মাথার দাম ১ কোটি, বঙ্গেই গা ঢাকা! মদনকে জেরায় মাওবাদী নেতা আকাশের তথ্য পেল পুলিশ
-
ভবানীপুরে বিজেপি কর্মীকে মারধর, মাকে শ্লীলতাহানি! পুলিশের জালে তৃণমূল নেতা
-
‘টোটো অবৈধ, এ বার ই-রিকশা’, ঘোষণা পরিবহণমন্ত্রী অর্জুন সিংয়ের
-
বিচ্যুতি দেখলেই ‘অ্যাকশন’, ‘তোলাবাজ’ ধরতে জেলা পর্যবেক্ষকদের গুরুদায়িত্ব শমীকের!
-
যশের দ্বৈত চরিত্রে ঘায়েল দর্শক, ‘টক্সিক’-এর ট্রেলারে উঠে এল নয়ের দশকের অন্ধকার জগৎ