FIFA World Cup 2026

‘১ শতাংশ সুযোগ, ৯৯ শতাংশ বিশ্বাস’, নয়া মন্ত্রে আর্জেন্টিনা বধের স্বপ্নে মশগুল কেপ ভার্দে

এবারের বিশ্বকাপে তথাকথিত ‘ছোট দেশ’-গুলির গোলরক্ষকরাই পিছন থেকে নেতৃত্ব দিয়ে যাচ্ছেন দেশকে। ভোজিনহাও তেমনই। ইতিমধ্যেই ফুটবলদুনিয়ার নজর কেড়েছেন ৪০ বছর বয়সী গোলরক্ষক।

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: জুলাই ৩, ২০২৬, ১৫:৫৫

options
link
‘১ শতাংশ সুযোগ, ৯৯ শতাংশ বিশ্বাস’, নয়া মন্ত্রে আর্জেন্টিনা বধের স্বপ্নে মশগুল কেপ ভার্দে
ফাইল ছবি।

লিওনেল মেসির বর্তমান ক্লাব ইন্টার মায়ামির হার্ডরক স্টেডিয়ামে শেষ ষোলোয় যেতে কেপ ভার্দের বিরুদ্ধে নামছে আর্জেন্টিনা। রুক্ষ বাস্তব বলছে, ম্যাচের রেজাল্ট কী হতে চলেছে, তা প্রত্যেকের জানা। এবারের বিশ্বকাপের (FIFA World Cup 2026) শুরু থেকে যে আগুনে ফর্মে রয়েছেন লিওনেল মেসি নামক মহামানব, তাঁর দলের বিরুদ্ধে হয়তো টর্নেডোর মতোই উড়ে যাবে কেপ ভার্দে। তবে ওই যে, বাস্তব আর স্বপ্নের মধ্যে রয়েছে জমিন-আসমানের পার্থক্য! তাই তো অঘটন ঘটানোর স্বপ্ন দেখছেন আফ্রিকার পশ্চিম উপকূলের দেশটির সমর্থকরা।

Advertisement

তাঁদের এই স্বপ্ন কোন উচ্চতায় পৌঁছেছে, তার ছোট্ট একটি উদাহরণ একটি ম্যুরাল। দেশটির রাজধানী প্রাইয়ার ভার্জিয়া বিচে যে গভর্নমেন্ট প্যালেসটি রয়েছে, তার দেওয়ালে লেখা, ‘‌১ পার্সেন্ট চান্স, ৯৯ পার্সেন্ট ফেথ।’ বাংলা করলে, যদি ৯৯ শতাংশ বিশ্বাস থাকে, তবে তা বাস্তবায়িত করতে ১ শতাংশ সম্ভাবনাই যথেষ্ট। সেই ম্যুরালে দেশটির জনপ্রিয়তম প্রয়াত গায়িকা সেজারিয়া এভোরাকে দেখা যাচ্ছে বিশ্বকাপকে চুম্বন করতে। অর্থাৎ মেসির আর্জেন্টিনাকে হারানোই শুধু নয়। কেপ ভার্দে স্বপ্ন দেখছে বিশ্বসেরা হওয়ার।

Advertisement

কীসের ভরসায় এত বড় স্বপ্ন দেখছে কেপ ভার্দে। তাদের বিশ্বাস, ফুটবল শুধুমাত্র পরিসংখ্যানের খেলা নয়। তাদের এই স্বপ্ন দেখতে সাহায্য করছে মরক্কো, প্যারাগুয়েদের লড়াই। যেভাবে তারা নেদারল্যান্ডস, জার্মানিকে দেশে ফেরার বিমানে বসিয়ে দিয়েছে, সেই লড়াই-ই যেন আত্মবিশ্বাস দিচ্ছে ব্লু শার্কসদের। আর তাই তো যে দেশের সর্বোচ্চ লিগটি এখনও অপেশাদার, যাদের জাতীয় দলের বেশিরভাগ ফুটবলারই খেলে ইউরোপের বিভিন্ন নিচু স্তরের লিগে, তারা দেখছে অসম্ভবকে সম্ভব করার স্বপ্ন।

Advertisement

দলকে সমর্থন করতে বিশ্বকাপের শুরু থেকেই আমেরিকা চলে এসেছেন প্রচুর সমর্থক। এমনিতে কেপ ভার্দেতে যত সংখ্যক মানুষ থাকেন, প্রায় তার সম সংখ্যক অর্থাৎ পাঁচ লাখ মানুষ বসবাস করেন পৃথিবীর এদিক ওদিক। এঁদের মধ্যে যাঁরা মার্কিন মুলুকের আশপাশে থাকেন, তাঁরাই গত আড়াই-তিন সপ্তাহ ভিড় করেছেন আমেরিকায়। শোনা যায় বিশ্বকাপ অভিযানে আসার আগে তাদের ফেডারেশনের তরফে বলা হয়েছিল, দল যদি কোনওভাবে শেষ ষোলোয় জেতে পারে, তাহলেই তাদের কাছে অনেক। কিন্তু স্পেনকে গোলশূন্য রুখে দেওয়া, নিজেরা নকআউটে যাওয়া, বিভিন্ন অঘটন ঘটে যাওয়ায় এবার তারা অন্য নেশায় মেতেছে। শুক্রবারের ম্যাচ তাঁদের কাছে স্রেফ একটি ফুটবল ম্যাচ নয়। গোটা জাতির আবেগের লড়াই। আবেগের সেই মশালে পেট্রল ঢালছেন দেশটির গোলরক্ষক ভোজিনহা।

এবারের বিশ্বকাপে তথাকথিত ‘ছোট দেশ’-গুলির গোলরক্ষকরাই পিছন থেকে নেতৃত্ব দিয়ে যাচ্ছেন দেশকে। ভোজিনহাও তেমনই। ইতিমধ্যেই ফুটবলদুনিয়ার নজর কেড়েছেন ৪০ বছর বয়সী গোলরক্ষক। দিনদুয়েক আগে তাঁর এক পোস্টকে ঘিরে নতুন করে চেগেছেন আফ্রিকানরা। যেখানে তিনি লিখেছেন, ‘আচরণে বিনয়ী, ইচ্ছাশক্তিতে দৈত্য।’ এখন দেখার, আর্জেন্টিনা নামক মহা শক্তিধর দেশকে বধ করে ফুটবল ইতিহাসে সত্যিকারের দৈত্য তাঁরা হয়ে উঠতে পারেন কিনা।

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.