ইংল্যান্ড:৩ (বেলিংহ্যাম ২, কেন-পেনাল্টি)
মেক্সিকো:২ ( কুইনোনেস, জিমেনেজ-পেনাল্টি)
আরও পড়ুন:
লাল কার্ড, জোড়া পেনাল্টি। সবমিলিয়ে ম্যাচে ৫ গোল। সোমবার সকালে বিশ্বকাপে (FIFA World Cup 2026) হাড্ডাহাড্ডি লড়াই দেখলেন ফুটবলপ্রেমীরা। শেষ ষোলোয় নাটকীয় ম্যাচ খেলল ইংল্যান্ড এবং মেক্সিকো। আজতেকা স্টেডিয়ামে অনবদ্য রেকর্ড আছে আয়োজক দেশের। ৮৯ টি ম্যাচে ৭০ জয়, মাত্র দু’টি হার। সেই দুর্গে ১০ জনে মিলে প্রাণপণ লড়াই করল ইংল্যান্ড, প্রায় ৪০ মিনিট ধরে। অবশেষে ঝুলিতে এল জয়। শেষ আটে নাম তুলে ফেললেন হ্যারি কেনরা। এবারের মতো বিদায় মেক্সিকোর (England vs Mexico Match Report)।
ম্যাচে নামার আগেই একঝাঁক সমস্যা ছিল ব্রিটিশ বাহিনীর। বিশ্বের উচ্চতম স্টেডিয়ামে খেলতে নামার চ্যালেঞ্জ সামলাতে বুকায়ো সাকারা নাকি উত্তেজনাবর্ধক ওষুধ নিচ্ছেন, এমনটাও খবর ছড়িয়েছিল। তারপর প্রতিকূল আবহাওয়া। ঝড়বৃষ্টির কারণে এক ঘণ্টা দেরিতে শুরু হল ম্যাচ। তবে ম্যাচের প্রথম ৪০ মিনিট ইংল্যান্ডের খেলা দেখে মনে হল না, তাদের খুব একটা সমস্যা হয়েছে বলে। শুরু থেকেই বল নিজেদের দখলে রাখার উপর জোর দিয়েছিল আয়োজক দেশ। গ্যালারি তখন ফেটে পড়ছে মেহিকো মেহিকো ধ্বনিতে। উপযুক্ত দ্বাদশ ব্যক্তির ভূমিকায় এদিন আজতেকার দর্শকদের দেখা গেল। ৩৫ মিনিট পর্যন্ত হাড্ডাহাড্ডি লড়াই চলল দুপক্ষে।
তা সত্ত্বেও ম্যাচের প্রথম গোল এল ৩৬ মিনিটে, ইংল্যান্ডের খাতাতেই। চলতি বিশ্বকাপে হ্যারি ছাড়া কেউ সেভাবে গোল পাচ্ছেন না, সমালোচনায় বিদ্ধ ছিল থ্রি লায়ন্স। সেই বদনাম ঘোচালেন জুড বেলিংহ্যাম। ডিফেন্ডারদের বোকা বানিয়ে পোস্টের দিকে টেনে নিলেন কেন, যথার্থ অধিনায়কের মতো। সেই জায়গা কাজে লাগিয়ে অনবদ্য হেডার বেলিংহ্যামের। ৩৮ সেকেন্ডের মাথায় ফের কিছুটা একইভাবে গোল, আবারও গোলদাতা বেলিংহ্যামই। এই বিশ্বকাপে আজতেকা স্টেডিয়ামে একবারও গোল খেয়ে পিছিয়ে পড়েনি মেক্সিকো। এদিনই প্রথমবার গোল খেয়ে গেল আয়োজক দেশ।
২-০ পিছিয়ে পড়ার ঠিক পরের সেকেন্ড থেকেই শুরু হল মেক্সিকোর কামব্যাকের লড়াই। গ্যালারি থেকে ৮৮ হাজার দর্শকের চিৎকার বাড়ল, তাতেই আরও বেশি করে উদ্বুদ্ধ হলেন রবার্তো আলভার্দোরা। মাত্র চার মিনিটের মাথায় গোল শোধ। জুলিয়ান কুইনোনেসের শটটা গোলে জড়াতেই স্টেডিয়ামের চিৎকার। মাথা ঘুরে গেল ব্রিটিশ বাহিনীর। প্রথমার্ধেই সমতা ফিরিয়ে মাঠ ছাড়তে পারত মেক্সিকো। তবে জর্ডান পিকফোর্ডের অন্যবদ্য সেভে সেটা আটকে গেল। ২-১ ফলে শেষ হল ম্যাচের প্রথমার্ধ।
ম্যাচে নাটকীয়তা বাড়ল বিরতির পর থেকেই। দুই দলই তখন গোল করার লক্ষ্যে মরিয়া। ৫৪ মিনিটে ফাউল করে লাল কার্ড দেখলেন জ্যারেল কুয়ানশা। ১০ জনে খেলা ইংল্যান্ড তখন ভেঙে পড়বে হোম টিমের লাগাতার আক্রমণে, সেটা কার্যত নিশ্চিত। তবে ৬ মিনিটের মাথায় পেনাল্টিতে গোল হ্যারি কেনের। ৩-১ এগিয়ে যাওয়ার পর প্রাণপণ ডিফেন্স ছাড়া আর কিছু করার ছিল না ইংল্যান্ডের। সেটা করতে গিয়ে ভুল করে বসলেন অধিনায়ক নিজেই। ৬৯ মিনিটে পেনাল্টি থেকে গোল রাউল জিমেনেজের। তবে শেষ ২০ মিনিটে মুহুর্মুহু আক্রমণ করেও মেক্সিকো আর গোল করতে পারেনি।

ইংল্যান্ড যে ম্যাচটা শেষ পর্যন্ত জিতে এল, তার নেপথ্য কারিগর কোচ টমাস তুখেলই। ঠিক সময়গুলো বুঝে তিনি মাঠে নামালেন জন স্টোনস, ড্যান বার্ন, জেড স্পেন্সদের। ১০ জনে খেলা ইংল্যান্ড রক্ষণে শক্তি জোগালেন তাঁরাই। পিকফোর্ডও একাধিক নিশ্চিত গোল বাঁচালেন। আলাদা করে বলতে হয় ডিফেন্সে বেলিংহ্যামের ভূমিকাও। একাধিক আক্রমণ রুখেছেন এদিনের জোড়া গোলদাতা। শেষ মিনিট পর্যন্ত যুদ্ধের পর মেক্সিকোর দুর্গে জয়ী ব্রিটিশ বাহিনী। এবার কোয়ার্টারে তাদের প্রতিপক্ষ ব্রাজিলকে ছিটকে দেওয়া নরওয়ে।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
‘মৃত’ ব্রাজিলের জোগা বোনিতো, ‘হেইল ইউরোপ’ স্লোগানে ফিকে হচ্ছে লাতিন ফুটবলের সৌন্দর্য!
-
সঞ্জুকে বাদ দিয়ে দলে বৈভব, নয়া সিরিজে টিম ইন্ডিয়ায় ডাক আরও ৩ তরুণ তুর্কিকে
-
রাতদখলে ‘হুজুগ’ দেখেছিলেন মমতা, বারুইপুরে ‘জাস্টিস’ স্লোগান চুরি করেই পথে! এ কেমন দ্বিচারিতা?
-
এল নিনোর রক্তচক্ষু এড়িয়ে ১১ শতাংশ বেশি বৃষ্টি জুলাইয়ে! তৈরি নয়া নজির
-
ইন্দোনেশিয়ার আকাশে মোদিকে স্বাগত জানাল এফ-১৬, সুখোই! অভিভূত প্রধানমন্ত্রী