মায়ামি কি বরাবরের জন্যই চোট কাটিয়ে নেমারের ফিরে আসার স্প্রিং বোর্ড হয়ে থাকবে? ব্রাজিলের বিখ্যাত কোপাকাবানা আর ইপানেমা বিচের সঙ্গে মায়ামির পরিবেশ, জলবায়ুর এতটাই সাযুজ্য যে, নেইমার বোধহয় মায়ামিতে এলে মনে করেন, ঘরে ফিরলেন। আসলে মায়ামি-ই তাঁর বরাবর ‘কামব্যাক’এর পটভূমি। নাহলে এই বিশ্বকাপে মোটামুটি ভাবে সবাই যখন ভাবতে শুরু করেছিলেন, আর বোধহয় সম্ভব নয়। এমনকী দেশের প্রেসিডেন্ট লুলা পর্যন্ত মজা করে মন্তব্য করেছেন, ‘নেইমার দারুণভাবে ওযার্ক ফ্রম হোম করছে!’
এই তো বছর সাতেক আগের ঘটনা। পিএসজির হয়ে খেলতে গিয়ে পায়ের চেটোয় এমন চোট পেলেন যে, ক্লাব ফুটবল দূর, ২০১৯-এর কোপা আমেরিকাটা পর্যন্ত মিস হয়ে গেল নেইমারের। চোট নিয়ে পাক্কা তিন মাস ঘরে বসা। ফের যখন ব্রাজিলের জাতীয় দলের জার্সি পরার সুযোগ এল, নেমারের সামনে ভেন্যু তখন সেই মায়ামি। কী কাকতালীয়! এবারও দেখুন, মোটামুটি ভাবে বাতিলের দলে চলে যাওয়া নেইমার, বিশ্বকাপের মঞ্চে ফের ফিরছেন সেই মায়ামিতে। ৭ বছর আগে ফ্রেন্ডলি ম্যাচে প্রতিপক্ষ ছিল কলম্বিয়া। আর বিশ্বকাপের মঞ্চে এবার প্রতিপক্ষ, স্কটল্যান্ড।

সোমবার পুরো দলের সঙ্গে অত্যন্ত স্বাভাবিকভাবে, প্র্যাকটিসের যাবতীয় পরিকল্পনা যখন অন্যান্য ফুটবলারদের মতোই হুবহু করলেন, কোচ আন্সেলোত্তির কপালের ভাঁজ তখন স্বাভাবিক হয়ে গিয়েছে। দেরি না করে, প্র্যাকটিস শেষ হতেই সংবাদমাধ্যমকে ডেকে সরকারিভাবে জানিয়ে দেন, বুধবার মায়ামিতে স্কটল্যান্ডের বিরুদ্ধে নেইমারের খেলার সম্ভাবনা একশো শতাংশ। আন্সেলোত্তি তো ঘোষণা করে দিলেন। কিন্তু একবারও বললেন না, নেইমার স্কটল্যান্ডের বিরুদ্ধে শুরু থেকে খেলবেন, না কি পরের দিকে প্রয়োজন বুঝে নামবেন? কারণ, ব্রাজিল দলের থিঙ্কট্যাঙ্কের সেই শুরু থেকে ভাবনা, নকআউট পর্যায়ে শুরু থেকে ফিট নেইমারকে মাঠে পাওয়া। সেক্ষেত্রে স্কটল্যান্ড ম্যাচ না খেলিয়ে একেবারে নক আউট থেকেই খেলানো যেত। কিন্তু স্কটল্যান্ড ম্যাচে খেলিয়ে কিছুটা ম্যাচটাইম ব্রাজিলিয়ান তারকাকে দিতে চাইছেন কোচ। সেটা কতক্ষণের, তা অবশ্য এদিন জানাননি।
কিন্তু কী আশ্চর্য, পুরো ফিট হয়ে নেইমারের দলে ফিরে আসার খুশির দিনেই আন্সেলোত্তি-সহ পুরো দলকে ভাবিয়ে তুলেছে রাইট উইঙ্গার, রাফিনহার চোট। অন্তত দুটো ম্যাচে চোটের জন্য যে তিনি দলের বাইরে চলে গিয়েছেন, এখনই বলে দেওয়া যায়। এই পরিস্থিতিতে নেইমারের দলে ফেরাটা আন্সেলোত্তির কাছে অনেকটা লাইফলাইন পেয়ে বেঁচে ওঠার মতো। কিন্তু নেইমার আর রাফিনহার পজিশন তো পুরোপুরি ভিন্ন। তাহলে রাইট উইংয়ে রাফিনহার বিকল্প ফুটবলার কে? যে একই সঙ্গে উইং বড় করে আক্রমণ করতে পারেন। আবার উইং থেকে নেমে এসে রাইট ব্যাককে ডিফেন্সেও সাহায্য করতে পারবেন?
এদিন প্র্যাকটিস দেখে সাংবাদিকদের মনে হয়েছে, রাফিনহার বিকল্প হিসেব মোটামুটি দুটি নামের মধ্যেই ঘোরাফেরা করছেন ব্রাজিল কোচ। একজন, লুই হেনরিক। অন্যজন রায়ান। লুই হেনরিকে আপাতত নতুন কোচের কোচিংয়ে একটু বেশিই ম্যাচ খেলেছেন। আবার শেষ হাইতি ম্যাচে মাঠে নেমে রায়ান যা পারফম্যান্স করেছেন, তাতে তাঁকে মাঠের বাইরে বসিয়ে রাখা কঠিন। আন্সেলোত্তির প্র্যাকটিস দেখে মনে হয়েছে, এই বিশ্বকাপে নেইমারকে তিনি পরিচিত লেফট উইঙ্গার হিসেবে ব্যবহার করতে চাইছেন না। ব্রাজিলিয়ান তারকার নতুন পজিশন হতে পারে অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার। যিনি মাঝমাঠ আর আক্রমণের মাঝে মূলত সেতু বন্ধনের কাজটা করবেন। তাতে স্কটল্যান্ডের ডিফেন্স ভাঙতে সুবিধা হবে ভিনিসিয়াসের মতো উইঙ্গারদের। তবে স্কটল্যান্ড ম্যাচের আগে পুরো দলকে নিয়ে আরও দু’দিন প্র্যাকটিসের সুযোগ পাচ্ছেন আন্সেলোত্তি। তার মধ্যেই চূড়ান্ত একাদশ সহ, নেইমারের ফিরে আসার ম্যাচ টাইমিংটাও ঠিক করে ফেলতে পারবেন তিনি।
সর্বশেষ খবর
-
ঠাকুরঘরে টিকটিকির আনাগোনা কি মা লক্ষ্মীর আশীর্বাদ? কী বলছে বাস্তুশাস্ত্র
-
‘পড়ুয়াদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়াচ্ছেন’, নিট প্রশ্নফাঁস কাণ্ডে উলটে রাহুল গান্ধীকে তোপ কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর
-
এক দশকের তিক্ততা ভুলে ‘রিইউনিয়ন’! ভরা মঞ্চে একতাকে জাপটে চুমু রামের
-
অস্থির বাজারে কীভাবে টিকে থাকবেন? জেনে নিন বিনিয়োগের বিশেষ ‘মন্ত্র’
-
বিধানসভায় বেনজির! ‘আসল’ তৃণমূল নিয়ে ধন্দ কাটাতে পিএসি চেয়ারম্যান পদে ভোটাভুটি