Advertisement
Advertisement
ফুটবলের মহাযুদ্ধ
DR Congo

হারলে জীবন শেষ! ড্রেসিংরুমে ঢুকে হুমকি প্রেসিডেন্টের, প্রাণ হাতে নিয়ে কী করলেন ফুটবলাররা?

একনায়ক প্রেসিডেন্ট প্রথমে জানিয়েছিলেন, ফুটবলারদের বেতন বন্ধ। তারপর ড্রেসিংরুমে গিয়ে হুঁশিয়ারি দেন, হারলেই জীবন শেষ।

Advertisement
অণ্বেষা অধিকারী
অণ্বেষা অধিকারী

শেষ আপডেট: জুলাই ২, ২০২৬, ১৩:১০

link
অণ্বেষা অধিকারী
অণ্বেষা অধিকারী

শেষ আপডেট: জুলাই ২, ২০২৬, ১৩:১০

options
link
হারলে জীবন শেষ! ড্রেসিংরুমে ঢুকে হুমকি প্রেসিডেন্টের, প্রাণ হাতে নিয়ে কী করলেন ফুটবলাররা? zoom
পর্তুগালকে প্রথম ম্যাচে আটকে দিয়ে ফুটবলদুনিয়ায় হইচই ফেলে দিয়েছে কঙ্গো।

পর্তুগালকে প্রথম ম্যাচে আটকে দিয়ে ফুটবলদুনিয়ায় হইচই ফেলে দিয়েছে কঙ্গো। ৫২ বছর পর আফ্রিকার দেশটি খেলছে বিশ্বকাপের মূলপর্বে। আন্ডারডগ হিসাবে খেলতে নেমেছিল ডিআর কঙ্গো। পর্তুগালের বিরুদ্ধে তারা খড়কুটোর মতো উড়ে যাব বলে ধরে নিয়েছিল ফুটবলমহল। কিন্তু মাঠে নেমে কঙ্গোর রক্ষণ দাঁতে দাঁত চেপে লড়েছে। তারকাখচিত পর্তুগালকে একটার বেশি গোল করতে দেয়নি। তবে বিশ্বকাপের মঞ্চে এর থেকেও বেশি কঠিন লড়াই লড়তে হয়েছিল কঙ্গোর ফুটবলারদের। সেবার প্রাণ হাতে নিয়ে মাঠে নেমেছিলেন তাঁরা।

মোবুতু সেসে সেকো। কঙ্গোর প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট।

ভয়ংকর সেই ইতিহাস লুকিয়ে রয়েছে ১৯৭৪ সালে। বিশ্বকাপে এই নিয়ে দ্বিতীয়বার খেলতে নেমেছে কঙ্গো। প্রথমবার তারা বিশ্বকাপে জায়গা করে নিয়েছিল ১৯৭৪ সালে। তখন অবশ্য দেশটির নাম ছিল জাইরে। কঙ্গোর ফুটবল নিয়ে আলোচনা করতে গেলে প্রথমেই উল্লেখ করতে হয় মোবুতু সেসে সেকোর নাম। আফ্রিকা মহাদেশের একনায়কদের তালিকায় অন্যতম এই মোবুতু। ১৯৬৫ সালে মোবুতু যখন ক্ষমতায় এলেন, কঙ্গো তখন গৃহযুদ্ধে টালমাটাল। সেসময় ফুটবলকেই নিজের অন্যতম সেরা অস্ত্র করে তোলেন মোবুতু। দেশকে ঐক্যবদ্ধ করতে ফুটবলে বিপুল অর্থ বরাদ্দ করেন তিনি। মোবুতুর ইচ্ছা ছিল, ঔপনিবেশিক অতীত ভুলে কঙ্গো এক শক্তিশালী দেশ হিসাবে আত্মপ্রকাশ করুক। তাঁর কাছে ফুটবল ছিল শক্তি প্রদর্শনের মঞ্চ।

Advertisement

আফ্রিকার ফুটবলে উল্কার মতো উত্থান হয় কঙ্গোর। দু’বার আফকন জিতে তারা পা রাখে বিশ্বকাপে। কিন্তু মেগা টুর্নামেন্টে এসে মুখ থুবড়ে পড়ে কঙ্গোর স্বপ্নের দৌড়। প্রথম ম্যাচে বেশ ভালো খেললেও স্কটল্যান্ডের বিরুদ্ধে ২-০ হেরে যায় দেশটি। কিন্তু একনায়ক মোবুতু তো দলের হার দেখতে রাজি নন। সটান জানিয়ে দিলেন, ফুটবলারদের বেতন বন্ধ। সেই সিদ্ধান্তের পালটা দিয়ে কঙ্গোর ফুটবলাররা ঠিক করেন, বিশ্বকাপে আর খেলবেনই না। ফুটবলারদের এতবড় স্পর্ধা! মেনে নিতে না পেরে অধিনায়ক কিদুমুকে ফোন করে তুমুল তিরস্কার করলেন। দেশের প্রেসিডেন্টের এহেন পদক্ষেপে গোটা দলের মনোবল ভেঙে যায়। অনিচ্ছাসত্ত্বেও তাঁরা গ্রুপ পর্বের দ্বিতীয় ম্যাচে খেলতে নামেন। এবং যুগোস্লাভিয়ার কাছে ৯-০ গোলে পরাস্ত হন।

ভয়ংকর সেই অভিজ্ঞতার ২৮ বছর পর মুখ খুলেছিলেন কঙ্গোর ডিফেন্ডার এম্পেউ ইলুঙ্গা। জানিয়েছিলেন, ৩-০ এগিয়ে থাকা অবস্থায় ফ্রি কিক পেয়েছিল ব্রাজিল। সেখান থেকে গোল হয়ে গেলেই গোটা দলের জীবন কার্যত শেষ।

১৯৭৪ সালে বিশ্বকাপ খেলতে নামা কঙ্গো (জাইরে) দল।

সাধের ফুটবল দলের এমন হতশ্রী পারফরম্যান্স দেখে মোবুতু সটান চলে আসেন ড্রেসিংরুমে। ম্যাচ হেরে বিধ্বস্ত টিমকে আলটিমেটাম দিয়ে দেন। জানিয়ে দেন, পরের ম্যাচটা যদি তিন গোলের বেশি ব্যবধানে হারে তাহলে গোটা দলকে আর দেশে ফিরতে দেওয়া হবে না। হোটেল থেকে বেরনোর পথও বন্ধ করে দেওয়া হবে। পরবর্তী ম্যাচে ব্রাজিলের বিরুদ্ধে কার্যত প্রাণ হাতে নিয়ে নামেন কঙ্গোর ফুটবলাররা। তাঁদের মনে তখন একটাই লক্ষ্য, প্রাণ দিয়ে হলেও গোল আটকাতে হবে। নয়তো জীবন সংকট। শেষপর্যন্ত ব্রাজিলের কাছে ৩-০ ফলেই হারে কঙ্গো। দেশে ফিরলেও ফুটবলারদের জীবন দুর্বিষহ হয়ে ওঠে। তাঁদের জন্য আর্থিক সাহায্য বন্ধ করে দেন মোবুতু। নির্দেশ দেন, দেশ ছেড়ে কোনওদিন কোথাও যেতে পারবেন না তাঁরা। ফলে ইউরোপীয় ফুটবলে খেলার সম্ভাবনাও শেষ হয়ে যায়।

ভয়ংকর সেই অভিজ্ঞতার ২৮ বছর পর মুখ খুলেছিলেন কঙ্গোর ডিফেন্ডার এম্পেউ ইলুঙ্গা। জানিয়েছিলেন, ৩-০ এগিয়ে থাকা অবস্থায় ফ্রি কিক পেয়েছিল ব্রাজিল। সেখান থেকে গোল হয়ে গেলেই গোটা দলের জীবন কার্যত শেষ। তাই ফুটবলের নিয়ম ভাঙতে দু’বার ভাবেননি ইলুঙ্গা। ব্রাজিল শট নেওয়ার আগেই ইলুঙ্গা নিজেই বলে লাথি মেরে বসেন। তারজন্য অবশ্য হলুদ কার্ড দেখতে হয়েছিল তাঁকে। কিন্তু সেই শাস্তির ফলেই দেশে ফিরেছিল গোটা দল। ঘটনার সময়ে মনে করা হয়েছিল, কঙ্গো হয়তো নিয়মকানুন সঠিকভাবে জানে না বলে এমনটা ঘটিয়ে ফেলেছে। কিন্তু আসলে ওই একটা শটের উপর বাজি ছিল গোটা একটা দলের ভবিষ্যৎ।

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Advertisement

Share this article on

The article link is copied.