FIFA World Cup 2026

আইএসএল থেকে বিশ্বকাপের মঞ্চে, হাইতির হয়ে ইতিহাস গড়লেন ডিউকেন্স নাজন

ভারতের মাটিতে খেলার পর বিশ্বকাপের মঞ্চে পা রেখেছেন, এমন ফুটবলার সত্যিই বিরল।

শিলাজিৎ সরকার
শিলাজিৎ সরকার

শেষ আপডেট: জুন ২৬, ২০২৬, ১৮:৩৯

options
link
আইএসএল থেকে বিশ্বকাপের মঞ্চে, হাইতির হয়ে ইতিহাস গড়লেন ডিউকেন্স নাজন
মরক্কোর বিরুদ্ধে হলুদ কার্ড দেখছেন হাইতির নাজন (ডানদিকে)। ছবি সংগৃহীত।

আইএসএলের শুরুর দিকে বিশ্বজয়ী তারকার অভাব ছিল না বিভিন্ন ফ্র্যাঞ্চাইজিতে। রবার্তো কার্লোস থেকে আলেজান্দ্রো দেল পিয়েরো, নিকোলাস আনেলকা থেকে দিয়েগো ফোরলান- ফুটবলগ্রহের বহু তারকাই খেলে গিয়েছেন ভারতের মাটিতে। এর বাইরে এদেশে খেলেছেন বহু বিশ্বকাপার, যাঁরা তেমন পরিচিত মুখ ছিলেন না। নিউজিল্যান্ডের লিও বার্তোস, কোস্টা রিকার জনি অ্যাকোস্টা, জামাইকার কর্নেল গ্লেন থাকবেন এই তালিকায়।

Advertisement

কিন্তু ভারতের মাটিতে খেলার পর বিশ্বকাপের মঞ্চে পা রেখেছেন, এমন ফুটবলার সত্যিই বিরল। এতদিন এই প্রশ্নের জবাবে শোনা যেত শুধু এমেকা এজুগোর নাম। ১৯৮৬ সালে ইস্টবেঙ্গলে খেলতে আসা এই নাইজেরিয়ান ডিফেন্ডার বিশ্বকাপ খেলেছিলেন ১৯৯৪-এ, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে। এবার এমেকার সেই ‘একাকিত্ব’ কাটালেন হাইতির ডিউকেন্স নাজন। দশ বছর আগে কেরালা ব্লাস্টার্সের জার্সিতে ইন্ডিয়ান সুপার লিগে খেলে গিয়েছেন এই ফরোয়ার্ড। ১৩ ম্যাচে দু’টো গোলও করেন তিনি। তার মধ্যে রয়েছে সেমিফাইনালের দ্বিতীয় পর্বে দিল্লি ডায়নামোজের বিরুদ্ধে দলের একমাত্র করা গোলটিও। যার সুবাদে ম্যাচ টাইব্রেকারে টেনে নিয়ে শেষ পর্যন্ত ফাইনাল গিয়েছিল কেরালা। ভারতীয় সময় বৃহস্পতিবার সকালে মরক্কোর বিরুদ্ধে হাইতির জার্সিতে বিশ্বকাপ অভিষেক হল সেই নাজনের। ম্যাচের ৬৭ মিনিটে পরিবর্ত হিসেবে মাঠে নামেন তিনি। আন্তর্জাতিক ফুটবলে ৪৪ গোল করা নাজনই হাইতির সর্বোচ্চ স্কোরার। তবে চোটের জন্য প্রথম দু’ম্যাচে খেলতে পারেননি তিনি। অবশেষে গ্রুপের শেষ ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে পরিবর্ত হিসাবে নেমে ‘বিশ্বকাপার’ হলেন নাজন।

Advertisement
FIFA World Cup 2026: Haiti's Duckens Nazon once played in ISL for KBFC
ডিউকেন্স নাজন। ছবি সংগৃহীত।

তবে এই নাজনের আইএসএলে আগমন ছিল রীতিমতো ‘অ্যাক্সিডেন্ট’। তাঁকে কেরালায় আনার অন্যতম কারিগর ছিলেন ইসফাক আহমেদ। নাজনের প্রাক্তন সতীর্থ শোনাচ্ছিলেন সেই গল্প। “আমি তখন কেরালায় খেলার সঙ্গে সহকারী কোচের দায়িত্বে ছিলাম। ফলে কোন প্লেয়ারকে নেওয়া হবে, সে দিকেও নজর রাখতে হত। সেভাবেই হাইতির প্লেয়ার কেরভেন্স বেলফোর্টের ভিডিও দেখছিলাম। তখনই নাজনের খেলা চোখ টানে আমার। ওর নাম আমাদের কাছে আসেনি। বরং অন্য প্লেয়ারকে দেখতে গিয়ে ওকে খুঁজে পাই।” তবে নাজনকে আইএসএলের জন্য রাজি করানোটা সহজ ছিল না। “তখন ওর বয়স মাত্র ২২। ফ্রান্সে খেলে। প্রচুর বেতন। পর্তুগালের প্রথম ডিভিশনে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সেখানে ওর মেডিক্যাল নিয়ে কিছু ইস্যু হয়। তখন চারমাসের জন্য আমরা নাজনকে আইএসএলে নিয়ে আসি”, বলে চলেন ইসফাক, “দারুণ টিম ম্যান ছিল। দুরন্ত গতি। সেটা অন্যদের সুযোগ তৈরি করে দিত। সেবার আমাদের ফাইনালে তোলার নেপথ্যে ওর গোলের ভূমিকা ছিল।” কেরালা ছাড়ার পর উলভারহ্যাম্পটন ওয়ান্ডারার্সে সই করেন নাজন। সে সময় ইংল্যান্ডের দ্বিতীয় ডিভিশন চ্যাম্পিয়নশিপে খেলত ক্লাবটি।

Advertisement

অবশ্য ইরানে যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি হওয়ায় বিশ্বকাপ (FIFA World Cup 2026) স্কোয়াড থেকেই ছিটকে যেতে বসেছিলেন নাজন। হাইতির ফুটবলারদের ভিসা প্রক্রিয়া চলছিল প্যারিসে। আর ইস্তেঘলালের হয়ে খেলার সুবাদে নাজন ছিলেন ইরানে। প্যারিসে যাওয়ার জন্য বিমানে বসে পড়েছিলেন তিনি। তবে তারপরই পাইলট ঘোষণা করেন, যুদ্ধ পরিস্থিতির জন্য উড়বে না সেই বিমান। ফলে সময়ে প্যারিসে যাওয়া নিয়ে বিপাকে পড়েন তিনি। শেষে সড়কপথে আজারবাইজান ঘুরে গন্তব্যে পৌঁছন নাজন। মরক্কোর কাছে ২-৪ গোলে হেরে কাপ অভিযান শেষ করেছে হাইতি। ৫২ বছর পর বিশ্বকাপে ফিরে তেমন কিছু করতে পারেনি তারা। তবে নাজনের সৌজন্যে বিশ্ব ফুটবলের শ্রেষ্ঠ মঞ্চে যুক্ত হল আইএসএলের নাম।

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.