ফুটবলে সর্বকালের সেরা কে? লিওনেল মেসি না কি অন্য কেউ? এই বিতর্কের শেষ নেই। তবে এবার সেই বিতর্কে নিজের মতো করে ইতি টানলেন মেসি। নিজের ইনস্টাগ্রামে একটি ‘বার বিল’-এর আদলে পোস্ট করে আর্জেন্টিনা অধিনায়ক তুলে ধরলেন জাতীয় দলের হয়ে তাঁর একের পর এক সাফল্য। আর বিলের শেষে লেখা, ‘GOAT debate– settled’। যার বাংলা তর্জমা করলে দাঁড়ায়, সর্বকালের সেরা খেলোয়াড় নিয়ে বিতর্কের অবসান। অর্থাৎ, যে মেসি এতদিন নিজেকে নিয়ে অন্তর্মুখী থাকতেন, সেই তিনিই নিজেকে ‘শ্রেষ্ঠ’ ঘোষণা করলেন।
আরও পড়ুন:
আসলে এটি মেসির একটি নতুন ব্র্যান্ড প্রমোশনাল। সেখানে পানশালার বিলের মতো করে সাজানো হয়েছে তাঁর আন্তর্জাতিক কেরিয়ার। গোল, অ্যাসিস্ট, মাঠে কাটানো মিনিট থেকে শুরু করে একের পর এক ট্রফি– সবই যেন বিলের এক একটি ‘আইটেম’। ২০২২ সালের বিশ্বকাপ জয়, একাধিক কোপা আমেরিকা, অলিম্পিকে সোনা, ফাইনালিসিমা– বাদ যায়নি কিছুই। কেবল পরিসংখ্যান নয়, আর্জেন্টিনার জার্সিতে মেসির ভূমিকার কথাও তুলে ধরা হয়েছে সেই ‘রসিদে’। তাঁর খেলা দেখে অনুপ্রাণিত হয়েছেন যে কোটি কোটি সমর্থক। সেই আবেগও জায়গা পেয়েছে পোস্টে। সব শেষে কোনও ‘সাবটোটাল’ বা ‘টিপ’-এর ঘর নয়, বরং একেবারে পরিষ্কার ঘোষণা, ‘সর্বকালের সেরা খেলোয়াড় নিয়ে বিতর্কের অবসান।’
আগস্টের শেষ দিন আর্জেন্টিনার নীল-সাদা জার্সি তুলে রেখেছেন লিওনেল মেসি। তাঁকে স্পেশাল ট্রিবিউট জানাতে সপ্তাহান্তে সেদেশের ফুটবলের প্রায় প্রতিটি স্তরের ম্যাচেই এক মিনিটের জন্য থামবে খেলা। আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের নির্দেশ, পুরুষ ও মহিলা দুই বিভাগেই ফুটবল, ফুটসল এবং বিচ সকারের ম্যাচে প্রথমার্ধের ১০ মিনিটে খেলা থামিয়ে এক মিনিট হাততালি দেওয়া হবে মেসির সম্মানে। যেসব স্টেডিয়ামে জায়ান্ট স্ক্রিন রয়েছে, সেখানে ম্যাচ শুরুর আগেই দেখানো হবে মেসিকে নিয়ে এএফএ-র বিশেষ ভিডিও। এই ঘোষণার কয়েক ঘণ্টার পরেই এলএম১০-এর এই ইনস্টাগ্রাম পোস্ট।
View this post on Instagram
২০১৪ বিশ্বকাপের ফাইনালে জার্মানির কাছে হার, ২০১৬ কোপা আমেরিকার ফাইনালে চিলির কাছে পরাজয়, বারবার ধাক্কা খেয়েছেন তিনি। এমনকী ২০১৬ সালে আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের ঘোষণাও করেছিলেন। পরে অবশ্য সিদ্ধান্ত বদলে ফেরেন জাতীয় দলে। তার পরের গল্পটা রূপকথার মতো। ২০২১ সালে কোপা আমেরিকা জিতে আর্জেন্টিনার ২৮ বছরের ট্রফিখরা কাটান মেসি। ২০২২ সালে কাতার বিশ্বকাপে ফ্রান্সকে হারিয়ে বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন পূর্ণ করেন। ৩৬ বছর পর বিশ্বকাপ ঘরে ফেরে ‘লা আলবিসেলেস্তে’র। এর পর ২০২৪ সালের কোপা আমেরিকাতেও চ্যাম্পিয়ন হয় আর্জেন্টিনা।
২০০৬ থেকে ২০২৬– ছ’টি বিশ্বকাপে খেলেছেন মেসি। মোট ৩৪ ম্যাচে তাঁর গোল ২১টি। বিশ্বকাপের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতাদের তালিকায় তিনি দ্বিতীয়। ফ্রান্সের কিলিয়ান এমবাপের গোল ২২টি। ইনস্টাগ্রাম পোস্টের ক্যাপশনে তিনি লেখেন, “২০ বছরেরও বেশি সময়। ছ’টি ফিফা বিশ্বকাপ। অগণিত স্মৃতি। প্রতিটি পদক্ষেপে আমার পাশে থাকার জন্য আপনাদের সবাইকে ধন্যবাদ।” সব মিলিয়ে মেসির কেরিয়ারের সাফল্যের পরিসংখ্যান নেহাত কম নয়। তবে এবার সেই হিসাবকে একেবারে ‘রসিদে’র মাধ্যমে সর্বকালের সেরা কে, সেই সেই প্রশ্নের উত্তর নিজেই দিলেন এলএম১০। সুতরাং প্রশ্ন উঠছে, তাহলে কি পেলে, দিয়েগো মারাদোনা, ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোর থেকে নিজেকে এগিয়ে রাখছেন মেসি? এই নিয়ে আলোচনা চলবে আগামী দিনেও।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
হিমবাহে বিপদ, নেপাল থেকে শিক্ষা নিচ্ছে সিকিম! বিপদ রুখতে কী ব্যবস্থা
-
‘বাংলার প্রসারে বাধা, ইংরাজিতে তালা কমিউনিস্টদের’, শিক্ষাকে ‘দূষিত’ করায় তৃণমূলকেও তোপ মুখ্যমন্ত্রীর
-
টানা জল ছাড়ছে ডিভিসি, হু হু করে ঢুকছে গ্রামে! ভারী বৃষ্টির সতর্কতা, সতর্ক নবান্ন
-
বিশ্বকাপের আগে পারফেক্ট প্রস্তুতি! বিরাটদের নিয়ে মেগা পরিকল্পনা বিসিসিআইয়ের
-
কারা বাদ যাবেন, কাদের ছাড়? অভিন্ন দেওয়ানি বিধির রূপরেখা তৈরি শুরু, জরুরি বৈঠকে শুভেন্দুর কমিটি